নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থী দলগুলো ৯৩% ভোটে শীর্ষে রয়েছে বলে জানা গেছে যা দেশটির ইতিহাসে বড় সাফল্য বিবেচনা করা হচ্ছে। কট্টর ডানপন্থী দলগুলোর এই সাফল্য ইউরোপের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক গতিপথে অনিশ্চয়তা যোগ করেছে।
এই ফলাফল ফ্রান্সের রাজনৈতিক মানচিত্রে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয় এবং দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ডানপন্থী দলের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে প্রতিফলিত করে।
চার দিনের এই নির্বাচন গতকাল রোববার শেষ হয়। নির্বাচনে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২১টি দেশের ভোটাররা ভোট দেন। ভোটারের সংখ্যা ৩৫ কোটি।
ন্যাশনাল র্যালি, যেটি পূর্বে ন্যাশনাল ফ্রন্ট নামে পরিচিত ছিল, তার প্রধান মেরিন লে পেনের নেতৃত্বে ফ্রান্সের অভিবাসন, নিরাপত্তা, এবং জাতীয় পরিচয়ের মতো বিষয়গুলোতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে আসছে। এই দলের উত্থান এবং নির্বাচনে শীর্ষে আসা মূলত ফ্রান্সের অনেক ভোটারদের মধ্যে একটি পরিবর্তনের চাহিদা এবং বর্তমান প্রশাসনের প্রতি অসন্তোষকে প্রতিফলিত করে।
৭২০ আসনের এই পার্লামেন্টে মধ্যপন্থী, উদার ও সমাজতান্ত্রিক দলগুলো মিলে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে যাচ্ছে। কিন্তু বিশেষ করে ফ্রান্স, জার্মানি, অস্ট্রিয়ার নেতাদের জন্য এই নির্বাচনের ফলাফল একটা বড় ধাক্কা হয়ে এসেছে।
বিশ্বজুড়ে ইউরোপীয় পার্লামেন্টকে ইউরোপীয় জাতিসত্তার আয়না বলা হয়ে থাকে। ইউরোপীয় পার্লামেন্ট নির্বাচনে কোনো দল থেকে ব্যক্তিবিশেষ সরাসরি ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় করতে পারেন না। শুধু দলভিত্তিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয়। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্ভাব্য সংসদ সদস্য হওয়ার জন্য তালিকা তৈরি করে। যেকোনো দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের অনুপাত অনুযায়ী সংসদ সদস্যপদ লাভ করে।
ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সংসদ সদস্য কোটা নির্ধারিত হয় দেশগুলোর লোকসংখ্যার অনুপাত অনুযায়ী। সেই হিসাবে ৮ কোটি ৩৮ লাখ বাসিন্দা-অধ্যুষিত জার্মানির লোকসংখ্যার অনুপাতে সর্বোচ্চ আসনসংখ্যা ৯৬। ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা সব সময় পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
এই নির্বাচনের ফলাফল ফ্রান্সের এবং ইইউ-এর রাজনীতিতে কি ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং ভবিষ্যতে রাজনৈতিক সঙ্কেতগুলো কি হতে পারে তা নিয়ে বিশ্লেষকরা এখন গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

