নবকণ্ঠ ডেস্কঃ উত্তর ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের ঐতিহাসিক রিপাবলিক স্কোয়ার জুড়ে গত রবিবার অনুষ্ঠিত হলো বর্ণিল ঈদ মেলা। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও শিল্পকে ফরাসি সমাজের কাছে তুলে ধরতে স্থানীয় সংগঠন “সলিডারিটি আজি ফ্রান্স”-এর উদ্যোগে আয়োজিত এ মেলায় অংশ নেন হাজারো প্রবাসী বাংলাদেশি ও ফরাসি নাগরিক। রবিবার ফ্রান্সের সাপ্তাহিক ছুটির দিন হওয়ায় মেলায় ভিড় ছিল রেকর্ড পরিমাণ।
মেলার স্টলগুলোতে বাংলাদেশি পোশাক, নকশিকাঁথা, শাড়ি, কাঠের পুতুল, হস্তনির্মিত গহনা, মৃৎশিল্প এবং ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্নের পসরা সাজিয়েছিলেন প্রবাসী উদ্যোক্তারা। বিশেষভাবে আলোচিত হয় নারীদের অংশগ্রহণ: প্যারিসের বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের স্টলগুলোতে স্থানীয় ফরাসি ক্রেতাদের ভিড় ছিল লক্ষণীয়। মেলার কেন্দ্রীয় মঞ্চে পরিবেশিত হয় লোকসংগীত, রবীন্দ্রসঙ্গীত এবং আধুনিক নৃত্য। এছাড়া, বাংলাদেশি রান্নার লাইভ ডেমো ও স্বাদ চেখে দেখার ব্যবস্থা ফরাসি দর্শনার্থীদের মধ্যে সৃষ্টি করে ব্যাপক কৌতূহল।
সলিডারিটি আজি ফ্রান্স-এর সভাপতি এন কে নয়ন জানান, “এ মেলা শুধু ব্যবসায়িক নয়, সাংস্কৃতিক ডিপ্লোমেসি। আমরা চেয়েছি ফ্রান্সে বাংলাদেশের ইতিবাচক পরিচয় পৌঁছে দিতে।” তিনি প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আপনাদের সমর্থনেই এই সাফল্য। এগিয়ে যাব আমরা বাংলার শিল্প-সংস্কৃতি নিয়ে।”
মেলায় আসা এক ফরাসি দর্শনার্থী মারি এলেন বলেন, “বাংলাদেশের রঙিন পোশাক ও হস্তশিল্পের নান্দনিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। এখানকার মানুষের উষ্ণ আতিথেয়তা আমার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।” প্রবাসী রিনা আক্তার, যিনি একটি হস্তশিল্পের স্টল পরিচালনা করছিলেন, বলেন, “ফ্রান্সে আমাদের সংস্কৃতির চাহিদা আছে। এমন আয়োজন আমাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।”
মেলা প্রাঙ্গণজুড়ে বাংলার চিরচেনা আবহ ফিরে পেয়েছিলেন প্রবাসীরা। কেউ কিনেছেন মুক্তার হারের পায়েস, কেউ বা মাটির হাড়ি। শিশুদের জন্য ছিল কাবাডি ও লুডু খেলার আয়োজন। রিপাবলিক স্কোয়ারে সেদিন যেন মূর্ত হয়েছিল বাংলাদেশের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ।
আয়োজকদের দাবি, এ মেলা ফ্রান্সে বাংলাদেশের “সফট পাওয়ার” বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে। আগামী বছরেও ধারাবাহিকভাবে এ আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তাদের। সংস্কৃতির সেতুবন্ধে এবারের ঈদ মেলা প্যারিসে রচনা করেছে এক নতুন ইতিহাস।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

