সমুদ্র নিরাপত্তায় নতুন দিগন্ত, ইতালিয়ান কোস্ট গার্ড সদর দপ্তরে রাষ্ট্রদূতের বৈঠক

নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এ টি এম রকিবুল হক সম্প্রতি ইতালিয়ান কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তর পরিদর্শন করেছেন। সফরকালে তিনি ইতালিয়ান কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সার্জিও লিয়ার্ডোর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন। এ সময় দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে বিশেষভাবে সমুদ্র নিরাপত্তা, অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম (এসএআর), অভিবাসন পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং বাংলাদেশ-ইতালি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়। উভয় পক্ষই সমুদ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও মানবিক কার্যক্রমে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর মত প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে ইতালিয়ান কোস্ট গার্ড ভূমধ্যসাগরে পরিচালিত অভিবাসীদের অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে একটি বিস্তারিত তথ্যচিত্র উপস্থাপন করে। এতে সমুদ্রপথে বিপদগ্রস্ত অভিবাসীদের উদ্ধার, জরুরি মানবিক সহায়তা প্রদান, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা এবং সমন্বিত উদ্ধার অভিযানের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হয়। তথ্যচিত্রে ইতালিয়ান কোস্ট গার্ডের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও সমুদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থার নানা কার্যক্রমও প্রদর্শিত হয়।

বৈঠকে ইতালিয়ান কোস্ট গার্ডের কমান্ড্যান্ট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ দূতাবাস, রোম এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের সঙ্গে সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সমুদ্র নিরাপত্তা ও অনুসন্ধান-উদ্ধার কার্যক্রমে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনতে পারে।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতও এ ধরনের সহযোগিতাকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে বলেন, সমুদ্র নিরাপত্তা, মানবিক সহায়তা এবং অভিবাসন সংশ্লিষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সমন্বয় বর্তমানে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছে। তিনি বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যকার বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও উদ্ধার কার্যক্রমে ইতালির দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। অন্যদিকে বঙ্গোপসাগরকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও উপকূলীয় ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশও ধীরে ধীরে নিজেদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করছে। ফলে দুই দেশের মধ্যে এ ধরনের যোগাযোগ ভবিষ্যতে প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও দক্ষতা উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ সময় বাংলাদেশ দূতাবাস, রোমের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকটি বাংলাদেশ ও ইতালির মধ্যে সমুদ্র নিরাপত্তা ও মানবিক সহযোগিতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *