প্যারিসে ‘চেঞ্জ নাউ সামিট ২০২৬’: টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বৈশ্বিক সমাধানের খোঁজ

প্যারিসে ‘চেঞ্জ নাউ সামিট ২০২৬’: টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বৈশ্বিক সমাধানের খোঁজ

নবকণ্ঠ ডেস্ক: পৃথিবীকে আরও বাসযোগ্য ও টেকসই করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ফ্রান্সের রাজধানী Paris-এ তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক সম্মেলন ChangeNOW Summit 2026। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত উদ্ভাবক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক ও তরুণ নেতাদের অংশগ্রহণে সম্মেলনটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

তিন দিনব্যাপী এই বৃহৎ আয়োজনে অংশ নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিনিধিরা টেকসই ও সবুজ ভবিষ্যৎ নির্মাণে নতুন নতুন ধারণা ও কার্যকর সমাধান নিয়ে আলোচনা করেন। পরিবেশ, সমাজ ও অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বাস্তবভিত্তিক উদ্যোগ ও প্রযুক্তিনির্ভর ধারণা তুলে ধরা হয় সম্মেলনের বিভিন্ন সেশনে।

বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও Global Warming-এর প্রভাবে উষ্ণতা বৃদ্ধির নেতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশেও ক্রমেই তীব্র হচ্ছে বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে এই প্রভাব আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ প্রেক্ষাপটে জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান আন্তর্জাতিক পরিসরে আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন সম্মেলনে অংশ নেওয়া বাংলাদেশিরা।

অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা বলেন, এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে উপস্থিত বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে একযোগে কাজ করলে জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে পরিবেশ সংরক্ষণ, কার্বন নিরপেক্ষতা এবং টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অত্যন্ত জরুরি বলে তারা মত দেন।

সম্মেলনে বিভিন্ন দেশের উদ্যোক্তারা তাদের উদ্ভাবনী ধারণা উপস্থাপন করেন। তাইওয়ানের এক অংশগ্রহণকারী রাস্তার পাশের খাল বা ডোবা থেকে পানির ওপর ভাসমান প্লাস্টিক ও ময়লা পরিষ্কার করার একটি যন্ত্রের কার্যপদ্ধতি তুলে ধরেন। অন্যদিকে, ফেলে দেওয়া কাগজ পুনর্ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব পোশাক তৈরির উদ্ভাবনী প্রক্রিয়াও উপস্থাপন করা হয়, যা উপস্থিতদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।

তিন দিনের এই সম্মেলনে সেমিনার, প্যানেল আলোচনা, কর্মশালা এবং নেটওয়ার্কিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারীরা পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণে মনোনিবেশ করেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ‘চেঞ্জ নাউ’ কেবল একটি প্রদর্শনী বা সম্মেলন নয়; এটি একটি কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ, যা বাস্তব জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম। কার্বন নিরপেক্ষতা, পরিবেশ নীতি এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে হওয়া আলোচনাগুলো বৈশ্বিক সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করছে।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.