বিশ্বের সঙ্গে একইদিনে রোজা ও ঈদ পালনের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

বিশ্বের সঙ্গে একইদিনে রোজা ও ঈদ পালনের আহ্বান জানালেন তারেক রহমান

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ রাজধানীর ইস্কাটনে অবস্থিত লেডিস ক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এক ভার্চুয়াল ইফতার মাহফিলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দেশের আলেম-ওলামাদের প্রতি সারাবিশ্বের সঙ্গে সমন্বয় করে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের অনুরোধ জানিয়েছেন। গত রোববার এই অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘বিজ্ঞানের এই যুগে আমরা কি না পারি? আলেমরা চিন্তা করুন, আলোচনা করুন—বাংলাদেশের মানুষ কি বিশ্বের অন্য দেশের মতো একই দিনে রোজা রাখতে ও ঈদ উদযাপন করতে পারবে?’

তারেক রহমান ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে ওলামা-মাশায়েখ ও এতিম শিশুদের উদ্দেশে বলেন, ‘দেশে অসংখ্য জ্ঞানী ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব আছেন। তাদের সম্মিলিত প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞানের সমন্বয়ে এ বিষয়ে একটি সমাধান খুঁজে বের করা যায় কি না, তা ভেবে দেখার অনুরোধ করছি।’ তিনি এ সময় ধর্মীয় ঐক্য ও সামাজিক সম্প্রীতির ওপর জোর দেন এবং বলেন, ‘মানুষ হিসেবে সবাইকে ভালোবাসতে হবে।’

অনুষ্ঠানে তিনি দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে সকলকে দোয়া করার আহ্বান জানান। পাশাপাশি, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুস্থতা ও মুক্তির জন্যও দেশবাসীর কাছে দোয়া চাওয়া হয়।

বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে জানান, একটি গোষ্ঠী দেশে-বিদেশে আলেম সমাজের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করতে চাইছে। এ প্রসঙ্গে তারেক রহমান সতর্ক করে বলেন, ‘আলেমদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি হলে বিদেশি শক্তি সুযোগ নেবে। ধর্মীয় নেতাদের সাথে ঐক্য বজায় রাখা জাতীয় স্বার্থে জরুরি।’

ইসলামি রীতি অনুযায়ী চাঁদ দেখা সংশ্লিষ্ট একটি সংবেদনশীল বিষয়। বর্তমানে বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা গেলে রোজা বা ঈদ পালনের রেওয়াজ রয়েছে। তবে অনেক দেশ আন্তর্জাতিক চন্দ্র গণনার ভিত্তিতে একই দিনে রোজা ও ঈদ পালন করে। তারেক রহমানের এই প্রস্তাব এ বিষয়ে আলেম সমাজের মধ্যে নতুন আলোচনার দরজা খুলতে পারে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির পক্ষ থেকে ধর্মীয় নেতাদের সাথে এই সংলাপের উদ্যোগ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ। এটি দলটির ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সাথে সম্পর্ক জোরদার করার কৌশল হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে আলেম সমাজ এই প্রস্তাবকে কীভাবে মূল্যায়ন করেন, তা এখন দেখার বিষয়।

 

-191

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.