নবকণ্ঠ ডেস্কঃ গত সোমবার সন্ধায় অমর একুশে বইমেলায় তসলিমা নাসরিনের বই বিক্রির অভিযোগে সব্যসাচী প্রকাশনীর বিরুদ্ধে ব্যপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে স্টল ঘিরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা বিক্ষোভ শুরু করলে পুলিশ প্রকাশক শতাব্দী ভবকে মেলার নিয়ন্ত্রণ কক্ষে নিরাপদে সরিয়ে নেয়। তবে উত্তেজিত জনতা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের সামনেও জমায়েত হয়। তাদের দাবি, শতাব্দী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলামপন্থিদের ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে কটাক্ষ করেছেন এবং মেলায় ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা ছড়িয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায় তসলিমা নাসরিনের বই বিক্রি দেখে মেলায় উপস্থিত কিছু লোক স্টলে ভিড় করে এবং প্রকাশক শতাব্দী ভবের কাছে এর ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি উপস্থিত জনতার সঙ্গে বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় তাকে উত্তেজিত হয়ে জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু স্লোগান দিতে শোনা যায়। এ ঘটনার একটি ভিডিও চিত্রে দেখা যায় উত্তেজিত হয়ে তিনি এক পর্যায়ে উপস্থিত জনতাকে মারতে উদ্যত হোন ও একজনের গালে চপোটাঘাত করেন। এসময় পুলিশি হস্তক্ষেপে তাকে নিবৃত্ত করে নিরাপদ দুরত্বে সরিয়ে নেয়া হয়।
উল্লেখ্য সব্যসাচী প্রকাশনীর এ প্রকাশক ২০১৩ সালের শাহবাগ আন্দোলনের সালে সংশ্লিষ্ট যা তার পুরোনো ফেসবুক পোস্ট ঘেটে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এছাড়াও পতিত ফ্যাসিস্ট সরকারের সমর্থনে তার একাধিক ফেসবুক পোস্ট পাওয়া গেছে ও অশ্লীল-দৃষ্টিকটু ভাবে সঙ্গীত পরিবেশনের দৃশ্য দেখা গেছে।
প্রকাশকের এমন মনোভাব অমর একুশে বই মেলা ২০২৫ এর জন্য প্রণীত নীতিমালার পরিপন্থী হওয়া সত্ত্বেও তা কীভাবে স্টলের আনুমোদন পেল তা সন্দেহজনক। এটি বাংলা একাডেমির পর্যাপ্ত যাচাই বাচাই ছাড়াই স্টল বরাদ্দ দিয়েছে নাকি বাংলা একাডেমির এক একাধিক কর্মকর্তার যোগ-সযোগে এমনটি হয়ে থাকবে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
যদিও এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দোষীদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। তার কার্যালয় থেকে জানানো হয়, এ ধরনের বিশৃঙ্খল আচরণ বাংলাদেশের নাগরিক অধিকার এবং দেশের আইনের প্রতি অবজ্ঞা প্রদর্শন করে। অংশঙ্কা করে হচ্ছে এই প্রকাশকের ২৪ এর বিপ্লব বিরুধী অবস্থান প্রধান উপদেষ্টা এর অফিস পুরোপুরি অবগত আছে কিনা?
ঘটনার পর থেকে ১২৮ নম্বর স্টলটি বন্ধ রয়েছে। বাংলা একাডেমি দাবি করেছে, তারা কোনো স্টল বন্ধ করেনি। স্টল কতৃপক্ষই সাময়িকভাবে স্টলটি বন্ধ রাখেন। পরবর্তীতে স্টলটি আবার খুলা হয়। জানা যায এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত টাস্কফোর্সের সভার পর নেওয়া হবে।
বিক্ষোভকারীদের একজন শামীমের ভাষ্য, “প্রকাশক ফেসবুকে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করেছেন। মেলায় স্লোগান দিয়ে উত্তেজনা বাড়িয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মো. মাসুদ আলম জানান, “প্রকাশকের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাকে সাময়িকভাবে হেফাজতে রাখা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”
বাংলা একাডেমির তদন্ত কমিটি ইতোমধ্যে গঠিত হয়েছে। তাদের প্রতিবেদনই এখন সবার দৃষ্টি, যা এই সংকটের গভীর কারণ ও সমাধানের পথ দেখাবে বলে আশা করা হচ্ছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
