নবকণ্ঠ ডেস্ক: পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের বেলেম এলাকায় বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে ব্যতিক্রমধর্মী ও বর্ণিল প্রদর্শনী মেলা “উইমেন্স এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড কালচারাল নেটওয়ার্কিং এক্সিবিশন ২০২৬”। প্রবাসে বাংলাদেশি নারীদের স্বপ্ন, সৃজনশীলতা, আত্মনির্ভরতা এবং বাংলাদেশের ঐতিহ্যকে আন্তর্জাতিক পরিসরে তুলে ধরতে আয়োজিত এ অনুষ্ঠান প্রবাসী কমিউনিটিতে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শনিবার (২৩ মে) আয়োজিত এ প্রদর্শনী যৌথভাবে আয়োজন করে গোল্ডেন ভিশন অ্যাসোসিয়েশন, পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বেলেম জুনতা দে ফ্রেগেসিয়া। দিনব্যাপী এ আয়োজন প্রবাসে বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের সম্ভাবনা ও সাফল্যের এক অনন্য প্রতিচ্ছবি হয়ে ওঠে।
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে পর্তুগালে বাংলাদেশ দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স লায়লা মুনতাজেরি দীনা আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার উদ্বোধন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিক প্রতিনিধি, কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তি, নারী উদ্যোক্তা, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং সংবাদকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত মারিয়ানা মিখাইলেঙ্কো, পানামার রাষ্ট্রদূত আর্মোনিয়া চেং, নাইজেরিয়ান দূতাবাসের প্রতিনিধি হারুনা মুসা, কাবো ভার্দের রাষ্ট্রদূত জায়দা সানচেসসহ বেলেম জুনতা দে ফ্রেগেসিয়ার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এছাড়া গোল্ডেন ভিশন অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং পর্তুগালে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যদের উপস্থিতিতে পুরো আয়োজন প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, এ প্রদর্শনীর মূল উদ্দেশ্য ছিল প্রবাসে বাংলাদেশি নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সম্মানজনক ও কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা, যেখানে তারা নিজেদের পণ্য, দক্ষতা ও সৃজনশীলতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে উপস্থাপন করতে পারেন।

মেলায় স্থান পায় বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, গয়না, ঘরসজ্জার সামগ্রী, উপহার সামগ্রী এবং দেশীয় খাবারের স্টল। প্রতিটি স্টলে ফুটে ওঠে বাংলাদেশের সংস্কৃতি, রং, ঐতিহ্য ও নান্দনিকতা। উদ্যোক্তারা জানান, প্রতিটি পণ্যের পেছনে রয়েছে তাদের কঠোর পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং স্বাবলম্বী হওয়ার সংগ্রামের গল্প।
পুরো আয়োজনজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ, আন্তরিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলা। দর্শনার্থী ও কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা নারী উদ্যোক্তাদের পণ্য, উপস্থাপনা ও সৃজনশীলতা দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন। অনেকেই মনে করেন, এ ধরনের আয়োজন বাংলাদেশি সংস্কৃতি ও নারী নেতৃত্বকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও শক্তভাবে পরিচিত করে তুলছে।
মেলার বিশেষ আকর্ষণের মধ্যে ছিল নারী উদ্যোক্তা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীদের সম্মাননা প্রদান। গোল্ডেন ভিশন অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে অংশগ্রহণকারীদের হাতে উপহার তুলে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ দূতাবাস এবং বেলেম জুনতা দে ফ্রেগেসিয়ার যৌথ উদ্যোগে তাদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।
সাংস্কৃতিক পরিবেশনাও পুরো আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত ও আনন্দঘন করে তোলে। গান, নৃত্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পায়।
আয়োজকরা বলেন, একজন নারী উদ্যোক্তার সফলতা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং পরিবার, সমাজ এবং পুরো কমিউনিটির জন্য অনুপ্রেরণা। প্রবাসের মাটিতে থেকেও বাংলাদেশি নারীরা যে সাহস, দক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছেন, এই আয়োজন তারই উজ্জ্বল প্রমাণ।
সব মিলিয়ে “উইমেন্স এন্টারপ্রেনারশিপ অ্যান্ড কালচারাল নেটওয়ার্কিং এক্সিবিশন ২০২৬” পর্তুগালের বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য স্মরণীয় ও গর্বের এক আয়োজনে পরিণত হয়েছে। আয়োজকদের মতে, সুযোগ ও সহযোগিতা পেলে বাংলাদেশি নারীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের যোগ্যতা, সৃজনশীলতা এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা সফলভাবে তুলে ধরতে সক্ষম।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
