খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ এই প্রথমবারের মতো বিশ্বের দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সংকটে থাকা শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় ঢুকল বাংলাদেশের নাম। প্রতিবেদনটি শুক্রবার (৩১ মে) জার্মানির বন থেকে প্রকাশিত হয়েছিল, যেখানে ২০২৩ সালের পরিস্থিতির বিশ্লেষণকে গুরুত্ব দিয়ে তালিকা তৈরি করা হয়েছে। ‘গ্লোবাল নেটওয়ার্ক অ্যাগেইনস্ট ফুড ক্রাইসিস’ নামের সংগঠন থেকে ওই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি-মার্চ সময়কালে প্রায় ১৪.৬ মিলিয়ন মানুষ তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার শিকার হয়েছেন, যা মোট জনসংখ্যার ২০ শতাংশের সমান। এই সংখ্যা আগামী এপ্রিল-অক্টোবর সময়কালে আরও বৃদ্ধি পেয়ে ১৬.৫ মিলিয়নে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

অবশ্য এই প্রতিবেদনের কোনো কোনো সূচকে ২০২৪ সালের বিভিন্ন দেশের তুলনামূলক তথ্য থাকলেও বাংলাদেশ থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত না পাওয়ার কথা বলা হয়েছে। বৈশ্বিক খাদ্যসংকট প্রতিবেদনে দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যনিরাপত্তাহীনতার সংকটে থাকা সূচকে শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকার অষ্টম স্থানে নাম দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের। তালিকার ১০টি দেশের মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে কঙ্গো, দ্বিতীয় নাইজেরিয়া, তৃতীয় সুদান, চতুর্থ আফগানিস্তান, পঞ্চম ইথিওপিয়া, ষষ্ঠ ইয়েমেন, সপ্তম সিরিয়া, অষ্টম বাংলাদেশ, নবম পাকিস্তান ও দশম মায়ানমার।

বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তার অবনতির প্রধান কারণগুলির মধ্যে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি, বারবার আবহাওয়া পরিবর্তন এবং সীমিত আয়ের সুযোগ অন্তর্ভুক্ত। এসব কারণে সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, যা খাদ্যনিরাপত্তার পরিস্থিতি খারাপ করছে।

এছাড়াও, বাংলাদেশের কিছু অঞ্চলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, যেমন হরতাল এবং অবরোধ, খাদ্য সরবরাহ ও আয় বৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে নারীপ্রধান পরিবার ও প্রতিবন্ধীদের পরিবারগুলি খাদ্যনিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ভুগছে।

প্রতিবেদনটি খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য শান্তি, প্রতিরোধ, এবং উন্নয়নমূলক কর্মসূচির সমন্বয় প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেছে। এক্ষেত্রে, খাদ্য ব্যবস্থা পুনর্গঠন এবং এর মূল কারণগুলিকে সমাধান করার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সঠিক খাদ্য সংরক্ষণ,বাজার স্থিতিশীলতা, এবং সরকারী খাদ্য বিতরণ প্রোগ্রামের সম্প্রসারণের মতো পদক্ষেপ গ্রহণ করলে এই পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে।

-191

 

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.