জার্মানিজুড়ে ধর্মীয় মর্যাদায় ঈদুল আজহা উদযাপন, প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ

জার্মানিজুড়ে ধর্মীয় মর্যাদায় ঈদুল আজহা উদযাপন, প্রবাসীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ

নবকণ্ঠ ডেস্ক: ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ ও উৎসবের আবহে জার্মানির বিভিন্ন শহরে ঈদুল আজহা উদযাপন করেছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) দেশটিতে মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা পালিত হয়। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদ, খোলা প্রাঙ্গণ, কমিউনিটি হল ও অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ঈদের জামাত।

রাজধানী বার্লিনসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সকাল থেকেই প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করার পাশাপাশি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালনে ব্যস্ত সময় কাটান তারা।

বার্লিনের বায়তুল মোকাররম মসজিদে ঈদের নামাজের একাধিক জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এসব জামাতে বিপুল সংখ্যক মুসল্লি অংশ নেন। সেখানে নামাজ আদায় করেন জার্মানিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত জুলকার নাইনও। নামাজের পূর্বে খতিব মাওলানা হেলাল উদ্দিন সিরাজি কোরবানির তাৎপর্য ও ইসলামের ত্যাগের শিক্ষার ওপর আলোচনা করেন। তিনি মানবকল্যাণ, আত্মশুদ্ধি এবং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনে কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা অনুসরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন।

বিজ্ঞাপন

শুধু বায়তুল মোকাররম মসজিদেই নয়, বার্লিনের আরও কয়েকটি স্থানে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে পৃথক ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এসব জামাতে নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মুসল্লিদের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

অর্থনৈতিক রাজধানী হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্কফুর্টেও ঈদ উদযাপনে ছিল ব্যাপক উৎসাহ। শহরের তিনটি ভিন্ন স্থানে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। মাবিন মসজিদে তিনটি জামাত, মুনশেনার স্ট্রাসে এলাকায় তিনটি জামাত এবং একটি অডিটোরিয়ামে আরও একটি জামাত অনুষ্ঠিত হওয়ায় শহরটিতে মোট সাতটি ঈদ জামাতের আয়োজন করা হয়। এতে বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশির পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মুসলমানরাও অংশ নেন।

জামাত শেষে অনুষ্ঠিত সংক্ষিপ্ত আলোচনা পর্বে ইমামরা কোরবানির শিক্ষা ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবনে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। আত্মত্যাগ, সহমর্মিতা, মানবসেবা এবং নৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে একজন মুসলমান কীভাবে নিজের জীবনকে সমৃদ্ধ করতে পারেন, সে বিষয়ে তারা দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন।

ওফেনবাখ শহরে আইনহাইট ডেজ ইসলাম মসজিদে ঈদের নামাজ আদায় করেন স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশিরা। একইভাবে মাইঞ্জ শহরের মুসল্লিরা মসজিদ তাকওয়ায় একত্রিত হয়ে ঈদের জামাতে অংশ নেন। মানহাইম শহরে বাংলাদেশিদের পরিচালিত মসজিদে অনুষ্ঠিত ঈদ জামাতে স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। ডার্মস্ট্যাড শহরেও প্রবাসীদের উদ্যোগে ঈদের নামাজ ও মিলনমেলার আয়োজন করা হয়।

এদিকে মিউনিখ, ডর্টমুন্ড, হামবুর্গসহ জার্মানির আরও অনেক শহরে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি স্থানেই ঈদের নামাজ শেষে মুসল্লিরা একে অপরের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং বিশ্বব্যাপী শান্তি, সম্প্রীতি ও কল্যাণ কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

বিশেষ করে বাংলাদেশ ও বিশ্বের বিভিন্ন সংকটাপন্ন অঞ্চলের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ এবং মানবিক মূল্যবোধ সুদৃঢ় হোক—এ কামনাও করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।

প্রবাসী বাংলাদেশিদের মতে, বিদেশের মাটিতে ঈদের জামাত ও সম্মিলিত আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসবের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি কমিউনিটির সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, সৌহার্দ্য এবং সাংস্কৃতিক বন্ধনকে আরও দৃঢ় করে তোলে। তাই প্রতিবছরের মতো এবারও জার্মানিজুড়ে ঈদুল আজহার আয়োজন প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার সৃষ্টি করেছে।

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *