নবকণ্ঠ ডেস্কঃ গাজায় ইসরাইলের সামরিক অভিযান ও বেসামরিক হতাহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তীব্র প্রতিবাদের ঢেউ উঠেছে। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপসহ একাধিক মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র ইসরাইলের বিরুদ্ধে কূটনৈতিক ও ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারি করে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি দেশীয় পাসপোর্টে “ইসরাইল ব্যতীত সকল দেশে প্রযোজ্য” নোটিশটি পুনর্বহাল করেছে, যা কার্যত ইসরাইল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞারই ইঙ্গিত। ২০২১ সালে এ লেখাটি অপসারণ করা হলেও বর্তমান সরকার জোর দিয়ে বলেছে, “ফিলিস্তিন ইস্যুতে বাংলাদেশের নীতি অপরিবর্তিত”। এ পদক্ষেপকে ইসরাইল-সমর্থক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অবস্থানের প্রতিফলন হিসেবে দেখছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।
মালদ্বীপও একই পথে হেঁটে ইসরাইলি নাগরিকদের জন্য ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার এই দ্বীপরাষ্ট্রটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “গাজায় গণহত্যার নিন্দা ও ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় এই সিদ্ধান্ত”। এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়সহ একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিলিস্তিনি পক্ষে বিক্ষোভ চলছে, যেখানে ইহুদি শিক্ষার্থীরাও অংশ নিয়েছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের সময় থেকে শুরু করে বর্তমান পর্যন্ত এসব বিক্ষোভকারীদের ভিসা বাতিল ও ফেডারেল তহবিল স্থগিতের মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ঢাকায় “মার্চ ফর গাজা” শীর্ষক বিক্ষোভে ফিলিস্তিন ইস্যুতে জাতিসংঘ ও বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে পাঁচটি দাবি উত্থাপন করা হয়: গাজা অবরোধ প্রত্যাহার, ফিলিস্তিনি ভূমিতে অবৈধ ইসরাইলি বসতি নির্মাণ বন্ধ, যুদ্ধাপরাধের জন্য ইসরাইলের জবাবদিহিতা নিশ্চিত, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি এবং মানবিক সাহায্য ত্বরান্বিত করা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের নিষেধাজ্ঞা মুসলিম বিশ্বে ইসরাইলের ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক বিচ্ছিন্নতাকে তুলে ধরেছে। একইসঙ্গে, আন্তর্জাতিক শিক্ষাঙ্গন ও রাজপথে চলমান প্রতিবাদ ইসরাইলি নীতির বিরুদ্ধে বৈশ্বিক চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
গাজা সংকটে বাংলাদেশ ও মালদ্বীপের নিষেধাজ্ঞা ফিলিস্তিনি সংহতিতে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করেছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
