নবকণ্ঠ ডেস্ক: ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের উদ্যোগে ধর্মীয় মর্যাদা, উৎসবমুখর পরিবেশ এবং ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমা ও ২৫৭০ বুদ্ধবর্ষ বরণ অনুষ্ঠান। বিশ্বের শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণের বার্তা ছড়িয়ে দিতে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিপুলসংখ্যক প্রবাসী বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী অংশ নেন।
রবিবার (২৪ মে) সকালে প্যারিসের জুরিস পার্কে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে দিনব্যাপী কর্মসূচির সূচনা হয়। ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সম্মিলিত আয়োজনে সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এ অনুষ্ঠানে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি শান্তি শোভাযাত্রা, ধর্মসভা, পুন্যদান এবং ধ্যানচর্চাসহ নানা আয়োজন ছিল।
শুভ বুদ্ধ পূর্ণিমাকে ঘিরে কয়েকদিন ধরেই প্রবাসী বৌদ্ধদের মধ্যে উৎসবের আবহ বিরাজ করছিল। সকাল থেকেই পরিবার-পরিজন নিয়ে প্যারিসের কেন্দ্রস্থল জুরিস পার্কে জড়ো হন বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা। মহামতি গৌতম বুদ্ধের অহিংসা, সহমর্মিতা ও শান্তির বাণী বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেওয়ার প্রত্যয়ে তারা এ আয়োজনে অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে বৌদ্ধ ধর্মের প্রধান ধর্মগ্রন্থ পবিত্র ত্রিপিটক থেকে মঙ্গল বাণী পাঠ করা হয়। এরপর অনুষ্ঠিত হয় বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের পিণ্ডচারণ, ধর্মীয় আলোচনা সভা, বাংলাদেশ, ফ্রান্স ও সমগ্র বিশ্বের শান্তি কামনায় পুন্যদান এবং পূজনীয় ভান্তেদের ছোঁয়াং গ্রহণ। পাশাপাশি জ্ঞাতিভোজেরও আয়োজন করা হয়।
দিনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল ঐতিহাসিক শান্তি শোভাযাত্রা। জুরিস পার্ক থেকে গার দো ইষ্ট চত্বর পর্যন্ত বর্ণাঢ্য এ শোভাযাত্রায় অংশ নেন শত শত বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী। শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবতার বার্তা সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে তারা নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। পরে সম্মিলিত ধ্যানচর্চার মাধ্যমে দিনব্যাপী বুদ্ধ জয়ন্তী অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বিশ্বাস অনুযায়ী, বৈশাখী পূর্ণিমার এই পবিত্র দিনেই মহামতি গৌতম বুদ্ধের শুভজন্ম, বোধিজ্ঞান লাভ এবং মহাপরিনির্বাণ সংঘটিত হয়েছিল। এ কারণেই দিনটি বিশ্বের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে বিশেষ তাৎপর্য বহন করে এবং ‘বুদ্ধ পূর্ণিমা’ নামে পরিচিত। আড়াই হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে এই দিবসটি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বৌদ্ধ দর্শনের মূল প্রতিপাদ্য ‘জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক’—এই মানবিক ও অহিংস বার্তাকে ধারণ করেই বিশ্বজুড়ে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন করা হয়। গৌতম বুদ্ধের আবির্ভাব, বোধিপ্রাপ্তি এবং মহাপরিনির্বাণের স্মৃতিবিজড়িত এ দিনটি শান্তি, সহনশীলতা ও মানবকল্যাণের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত।
অনুষ্ঠানে আয়োজকরা বলেন, মহামতি গৌতম বুদ্ধের শান্তির বাণী বিশ্বব্যাপী আরও বিস্তৃতভাবে প্রচারের লক্ষ্যেই প্রথমবারের মতো ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশি বৌদ্ধরা সম্মিলিতভাবে এ আয়োজন করেছে। তারা জানান, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে পেরে প্রবাসী বৌদ্ধ সমাজ অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত। একইসঙ্গে জুরিস পার্ক থেকে গার দো ইষ্ট চত্বর পর্যন্ত শান্তি শোভাযাত্রা আয়োজনের অনুমতি দেওয়ায় ফ্রান্স সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তারা।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের বাইরে সবচেয়ে বড় বাংলা ভাষাভাষী বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর একটি উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানে ফ্রান্সে বসবাস করছে। দেশটির বিভিন্ন শহরে প্রায় ১০ হাজার বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীর বসবাস রয়েছে। প্যারিস ও এর আশপাশের এলাকায় বাংলাদেশি বৌদ্ধ সম্প্রদায় নিজস্ব অর্থায়নে ৯টি স্থায়ী বৌদ্ধ বিহার প্রতিষ্ঠা করেছে, যেখানে নিয়মিতভাবে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
