নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইতালির দক্ষিণাঞ্চলীয় কালাব্রিয়া অঞ্চলে চার অভিবাসী কৃষিশ্রমিককে জীবন্ত পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আমেনদোলারা এলাকার একটি পেট্রোল স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা ভ্যানের ভেতরে ভয়াবহ এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে দুই পাকিস্তানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করেছে ইতালীয় পুলিশ।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত সোমবার আমেনদোলারার একটি পেট্রোল পাম্পে পার্ক করে রাখা একটি মিনিভ্যানে আগুন লাগার খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকল বাহিনী। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হলে ভ্যানের ভেতর থেকে চারজনের দগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনার প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ এবং আলামত সংগ্রহের পর তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হন যে এটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।
পরে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হাতে পায় পুলিশ। স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, দুই ব্যক্তি ভ্যানের ভেতরে দাহ্য পদার্থ ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। ফুটেজে আরও দেখা যায়, হামলাকারীদের একজন ভ্যানের দরজা আটকে রাখার চেষ্টা করছিল, যাতে ভেতরে থাকা শ্রমিকরা বের হয়ে আসতে না পারেন।

ইতালীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে তিনজন আফগানিস্তানের এবং একজন পাকিস্তানের নাগরিক। তারা সবাই কৃষিখাতে কর্মরত অভিবাসী শ্রমিক ছিলেন। তবে ভ্যানের ভেতরে থাকা আরেক আফগান শ্রমিক প্রাণে বেঁচে যান। তিনি জানালা ভেঙে বাইরে বের হতে সক্ষম হন এবং গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি হন। তদন্তকারীদের মতে, তার সাক্ষ্য এই মামলার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই শ্রমিক অভিযোগ করেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে একটি অবৈধ শ্রমদালাল চক্রের নিয়ন্ত্রণে কাজ করছিলেন। নিয়মিত শ্রম দিলেও অনেক সময় মজুরি থেকে বঞ্চিত হতে হতো এবং বিভিন্ন ধরনের মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে হতো। তার দাবি, অভিযুক্তরা প্রায়ই শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখাত এবং অস্ত্রের মুখে কাজ করাতে বাধ্য করত।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, শ্রমিকদের সঙ্গে মজুরি ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধের জের ধরেই এ নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়ে থাকতে পারে। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার হওয়া দুই সন্দেহভাজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।
এদিকে ইতালিতে অভিবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, অবৈধ শ্রমব্যবস্থা এবং কৃষিখাতে শ্রম শোষণের বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
