বাংলাদেশের প্রায় কাছাকাছি সময়ে স্বাধীন হয়েছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, ভিয়েতনাম, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া, লাওস, ইন্দোনেশিয়া, পূর্ব তিমুর, মরিশাস, ফিজি, ব্রুনেই, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, ওমান, বতসোয়ানা, উগান্ডা, লেসোথো ও পাপুয়া নিউ গিনি – এই দেশগুলোর কোনোটিই বাংলাদেশি পাসপোর্টে সহজে ভিসা দেয় না, দিলেও অত্যন্ত সন্দেহ করে, কারণ বাংলাদেশ বলতে যা কিছু লুকানোর চেষ্টা করে বাংলাদেশের মানুষ, তা তারা এমনিতেই ভাল করে জানে। এবং বাংলাদেশি নাগরিকরা উপরোক্ত দেশগুলোতে একবার ট্যুরিস্ট কিম্বা কর্মী বেশে ঢুকতে পারলে বিশাল অংশ আর বের হতে চান না।
৯০ দশকে এবং তারও পরে স্বাধীনতা লাভ করা দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে এস্তোনিয়া, লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া, স্লোভেনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, চেক প্রজাতন্ত্র, স্লোভাকিয়া – যারা ইউরোপিয় ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার মত যথেষ্ট উন্নতি করেছে দ্রুত সময়ের মধ্যে। এছাড়াও আছে রুয়ান্ডা, কসোভো সহ বাল্টিক দেশ সমূহ, সাবেক সোভিয়েত ও মধ্য এশিয়ার তুর্কমেনিস্তান, তাজিকিস্তান, কাজাখস্তান, উজবেকিস্তান, আরমেনিয়া, আজারবাইজান, জর্জিয়া, বেলারুশ, কিরগিজস্তান, মলদোভা কেউই বাংলাদেশী পাসপোর্ট কে সভ্যতার কাতারে দেখে না।
ইউক্রেইন যুদ্ধের আগ পর্যন্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে ইউরোপীয় দেশ হিসেবে সবচেয়ে কঠিন ভিসা প্রক্রিয়া ছিল ইউক্রেনের, যে দেশের ইমিগ্রেশনে বাংলাদেশের সিআইপি রাও হয়রানির শিকার না হয়ে ফেরেন নি। এখন ইউক্রেন ও রাশিয়া কিছু ভিসা দিচ্ছে সৈনিক হিসেবে রিক্রুটমেন্টের জন্য, কিন্তু বাংলাদেশি প্রার্থীদের দেহাবয়বে ৫০ বছরের দুর্ভিক্ষের ছাপ দৃশ্যমান, তেমন কেউ শারিরীকভাবে ফিট না। এমনকি বাংলাদেশে এখনো তুলনামূলক সুস্থ শ্রেনীর নাগরিকদের জন্ম ৭০ বা ৬০ এর আগে।
তবে মানববর্ম হিসেবে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে কিছু মানব পাচারকারীদের সহযোগিতায় মিথ্যা প্রলোভনে রাশিয়ায় সামান্য কিছু লোকজন রিক্রুট (শিকার) হয়ে আটকা পড়ে আছেন। ভূমধ্যসাগরে নৌকায় অবৈধভাবে পাড়ি দেয়া লোকজনের সিংহভাগ বাংলাদেশী। ইতালীতে নিয়মিত/অনিয়মিত আশ্রয়প্রার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশ এখন প্রথম স্থান অর্জন করেছে। স্বাধীন একটি জাতি পৃথিবীর বুকে আজ সমাজ-বঞ্চিত হবার পথে একটু একটু করে এগোচ্ছে।
ভিডিওটি ১৯৭০ এর নয়, ২০২৫ সালের। স্থানঃ মৌলভীবাজার জেলার বরলেখা উপজেলার বোবারতল এলাকা। সরকার সমূহের উন্নয়নের তীর্থস্থান ঢাকা থেকে ২৫০ কিলোমিটারের আশেপাশে। ১৯৯০ সালে তৃতীয় বিশ্বের ময়লার ঝুড়ি থেকে পরাশক্তি ও বিশ্বের কারখানায় রুপ নেয়া দেশ চীনের রাস্তায় যা ৪০ মিনিটের, কিম্বা ১৯৪৫ সালে পরমানু বো//মায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া জাপানের ৪৫ মিনিট অথবা ১৯৮৮ সালে Global Hunger Index এ বাংলাদেশের সমানে অবস্থান করা ইন্দোনেশিয়ার রাস্তায় ৪০ মিনিটের রাস্তা। নাম সর্বস্ব স্যাটেলাইট, ক্রিকেটের দুই চার হাজার ছক্কা আর থ্রি-জিরো তত্ত্ব কোন কাজে লাগাবে এই জনপদের মানুষ? দুর্ভিক্ষের ক্ষত শুকাতে আর কোনো জাতির এগুলো প্রয়োজন হয়েছিল কি?
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
