গত শুক্র বার ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী জঁ কাস্টেক্স Jean Castex ঘোষনা করেছেন, ফ্রান্সে প্রবেশের সময় বাধ্যতামূলক করোনা টেস্ট করতে হবে ১৬ দেশের যাত্রীদের। তালিকায় রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রও।
যে সমস্ত দেশে করোনা প্রকোপ বেশী ছড়িয়েছে সে সব দেশের যাত্রীরা এখন থেকে ফ্রান্সের চার্লস-ডি-গল বিমানবন্দরে কোভিড টেস্টে উত্তীর্ণ হলে তবেই প্রবেশ করতে পারবেন ফ্রান্স। একই নিয়ম ফ্রান্সের নাগরিক যারা ঐ ১৬ টি দেশে ভ্রমন করেছেন তাদের জন্যও প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে। খবর ফ্রান্স টোয়েন্টি ফোর, এএফপি ও রয়টার্সের।
যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল সহ ঐ ১৬ দেশে ও সেখান থেকে ফ্রান্সে সাধারণ যাতায়াতের অনুমতি এখন থেকে আর মিলছে না। টেস্টে আক্রান্ত যাত্রী পাওয়া গেলে তাদের যেতে হবে তাৎক্ষনিক আইসোলেশন ইউনিটে।
কাস্টেক্স জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে কয়েকটি দেশের যাত্রীদের প্লেনে ওঠার আগেই করোনা টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
তবে এয়ারপোর্ট ত্যাগের পূর্বে টেস্ট রেজাল্টের জন্য তাদের অপেক্ষা করতে হবে কি না সে ব্যাপারে স্পষ্ট কিছু বলা হয় নি।
তালিকায় আরো রয়েছে আলজেরিয়া, বাহরাইন, ইসরাইল, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, কুয়েত, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান, পানামা, পেরু, সার্বিয়া, তুর্কি এবং মাদাগাস্কারের নাম।
ব্যপক সংক্রমনের হার অনুযায়ী মরোক্কোর এ তালিকায় থাকার কথা থাকলেও দেশটিকে এ তালিকায় রাখা হয় নি জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
একই ঘোষনায় আগস্টের ১ তারিখের মধ্যেই ফ্রান্সব্যাপি ব্যাপক কোভিড টেস্ট সম্পন্ন করা হবে বলে জানানো হয়েছে। ফ্রান্সের সকল প্রবেশ পথ এই টেস্ট এর আওতায় থাকবে বলেও উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী।
লকডাউন তুলে নেয়ার দুই মাস পর ফ্রান্সে কোভিড সংক্রমন নতুন করে বাড়ার কারণে এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
ফরাসী স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মতে টানা দুইদিন গড়ে এক হাজারের বেশি সংক্রমন ধরা পড়েছে। এতে কর্মকর্তারা মনে করছেন কোভিড সংক্রমন এখনই হালকা করে দেখার সময় আসে নি।
এদিকে কাতালোনিয়ায় সংক্রমন বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষিতে ফ্রান্সের নাগরিকদের স্পেন ও কাতালোনিয়া ভ্রমনের ব্যাপারেও সাবধান করা হয়েছে।
স্পেনও কাতালোনিয়া অঞ্চল থেকে করোনা সংক্রমন দূর করতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে। এ প্রক্রিয়ার কাতালোনিয়ার সাথে সীমান্ত বন্ধের সম্ভবনাও রয়েছে বলে ইঙ্গিত দেয়া হয় ঘোষনায়।
স্পেনে কেন্দ্রীয় নির্দেশ অনুযায়ী ঘরে থাকার জন্য ব্যপক প্রচারনা চালানো সত্বেও নতুন সংক্রমিত ১৬ হাজারের বেশী সংক্রমনের অর্ধেকই পাওয়া গেছে কাতালোনিয়ায়।
প্রধামন্ত্রী ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে যাতায়াত কমানোর ব্যাপারে শীঘ্রই মাদ্রিদের সাথেও আলোচনা করেছেন।

