স্বাধীন বাংলাদেশের অন্যতম স্থপতি শেখ মজিবর রহমানের জৈষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের এক মাসের মাথায় ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০০৯ বাংলাদেশ রাইফেলস এর হেড কোয়াটারে বিদ্রোহের নামে দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিক জাতিসত্তার গৌরব বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫৭ জন মেধাবী চৌকস দেশপ্রেমিক অফিসারকে র্নিমম পৈচাসিক ও জঘন্যভাবে হত্যা করা হয়। তাবৎ বিশ্বের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনার কোনো নজির নেই। অভিজ্ঞ মহলের ধারনা যে সকল সেনা কর্মকর্তা বিডিআর এর সাবেক প্রধান মেজর জেনারেল আলম ফজলুর রহমানের সময় বড়াই বাড়ী সিমান্তে দেশের স্বাধীনতা রক্ষার প্রশ্নে জ্বলে উঠে সার্বভৌমত্বকে অক্ষুন্ন রেখে ঘোষনা করেছিল বাংলাদেশ কোনো পরাভব মানেনা। আধিপত্যবাদী অপশক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য তাদেরকেই ষড়যন্ত্র করে বিডিআর এ পোষ্টিং দিয়ে এক জায়গায় জড়ো করে বড়াই বাড়ীর ঘটনার শোধ নিয়েছে । বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ঘটনার ধারাবাহিকতায় প্রমান করে যে এই র্নিমম ঘটনার সাথে হাসিনা সরকার ওতোপ্রোতভাবে জড়িত । যে কারনে এই হত্যাকান্ড নিয় যারাই কথা বলেছেন, তারাই সরকারের রোষানলের শিকার হয়েছে । এই হত্যাকান্ডের বিষয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল । সেই তদন্তে সরকারের সম্পৃক্ততার কথা উঠে আসার কারনে তা আর আলোর মুখ দেখেনি আজ অব্দি । দেশের মানুষ যাতে এই ঘটনা মনে না রাখতে পারে ; সে জন্য এই ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানের নাম ও তাদের পোষাকে আনা হলো পরিবর্তন। শুধু তাই নয় ঘটনার পরবর্তী সময় ঢাকা সেনানিবাসের দরবারে শেখ হাসিনার কাছে যারাই এ বিষয়ে প্রশ্ন করেছিল ; তাদের সকলকেই সেনাবাহিনী থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে । নিহত সেনা কর্মকর্তাদের প্রতি নিবেদিত বিশিষ্ট শিল্পী হায়দার হোসেন এর হৃদয়স্পর্শী গানটিও বিভিন্ন মিডিয়াতে পরিবেশন না করতে অলিখিত আদেশও দিয়েছে।
বিষয়টি স্পর্শকাতর ছিল বিধায় অনেকেই কথা বলা থেকে বিরত ছিল। তবে সকল ভয়ভীতি ও রক্তচক্ষুকে উপেক্ষা করে গত ৩০ আগষ্ট ২০০৯ গবেষণাধর্মী সংগঠন রেনেসাঁস ইন্সটিটিউট বাংলাদেশ ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজন করে বিডিআর হত্যাকান্ডের ছয়মাসঃ নাগরিক ভাবনা র্শীষক মুক্ত আলোচনা । অনুস্ঠানে আমি সভাপতিত্ব করছিলাম । সাবেক মন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এম.কে আনোয়ার ছিলেন প্রধান মেহমান । অনুস্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন যথাক্রমে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডের উইং কমান্ডের মরহুম এম হামিদ উল্লাহ , সাবেক মন্ত্রী মরহুমা রাজিয়া ফয়েজ , জাগপা সভাপতি শফিউল আলম প্রধান , জামায়াত ইসলামীর এসিস্টান্ট সেক্রেটারি জেনারেল শহীদ মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, ইসলামী ঐক্যজোটের মাওলানা আব্দুল লতিফ নেজামী, পিএনপি চেয়ারম্যান শওকত হোসেন নিলু, বিএনপি নেতা সামসুজ্জামান দুদু, বিএনপি চেয়ারপারসন এর উপদেষ্টা মেজর জেনারেল অব. রুহুল আলম চৌধুরী , মুসলিম লীগ নেতা আবুল খায়ের, ইসলামিক পাটির চেয়ারম্যান মরহুম এডভোকেট আব্দুল মোবীন, সাংবাদিক নেতা এলাহী নেওয়াজ খান , শিক্ষাবিদ অধ্যাপক এবিএম খায়রুল ইসলাম , এডভোকেট আবেদ রাজা, নাগরিক ফোরামের চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহিল মাসুদ, স্বাধীনতা ফোরামের সভাপতি আবু নাসের মোহাম্মদ রহমাতুল্লাহ , এডভোকেট মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সহ আরও অনেকে। আলোচনা শুরুর ৩০ মিনিটের মধ্যে র্যাবের একদল সদস্য অনুস্ঠান স্থলে প্রবেশ করে প্রেসক্লাবে বোমা আছে বলে অনুস্ঠান বন্ধের জন্য বলে। এ সময় জাতীয় নেতা শফিউল আলম প্রধান বক্তব্য রাখছিলেন। তিনি র্যাব সদস্যদের হল থেকে বের হয়ে যেতে অনুরোধ করেন। তিনি বলেন , দেশপ্রেমিকদের অনুস্ঠান বন্ধের পায়তারা করনা। তাঁর বক্তব্যে রীতিমত ক্ষীপ্ত হয়ে মেজর আমিনের নেতৃত্বে র্যাব বাহিনীর সদস্যরা জোরপূর্বক সভাস্থল থেকে উপস্থিত মেহমানদের বের করে দেয়। এ সময় সাবেক মন্ত্রী মরহুমা রাজিয়া ফয়েজের সাথে র্যাব সদস্যদের বাদানুবাদ হয়। শফিউল আলম প্রধান ও মেজর জেনারেল অব.রুহুল আলম চৌধুরী বুঝতে পেরেছিলেন র্যাব সদস্যরা আমাকে গ্রেফতার করতে পারে। সে জন্য তারা দুজন আমাকে সাথে নিয়ে প্রেসক্লাব ত্যাগ করে শাহবাগ পর্যন্ত এগিয়ে দেন।
এই ঘটনার পর থেকে আমরা
অনেকেই স্বৈর শোষনের রোষানলের
শিকার হই। রাস্ট্রীয় সন্ত্রাসের হাত থেকে বাচাঁর জন্য অনেকে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। আজ সেই শোকাবহ ঘটনার দিন । ৫৭ টি পরিবার তাদের হারানো মানুষটার কবরে কাছে
যাবে এবং চোখের পানি ফেলবে। আমৃত্যু তারা ব্যথাতুর স্মৃতি বহন
করবে। শিল্পী হায়দার হোসেনের গানের ভাষায় বলতে হয়, যার যায় সেই বোঝে
বিচ্ছেদের কি যন্ত্রনা। আর এটাই নিহতদের পরিবারের জন্য স্বাভাবিক রীতিতে পরিনত হয়েছে । আমার প্রশ্ন অন্য যায়গায় । যে প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে দেশমাতৃকার প্রশ্নে জীবন দেওয়ার শপথ নিয়েছিল যারা ;তাদের জন্য এই প্রতিষ্ঠানের একই শপথে বলিয়ান সাথীরা কি ভুমিকা পালন করেছে? এই আত্মসমালোচনা আজ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রতিটি সদস্যের হওয়া উচিত বলে আমি মনে প্রানে বিশ্বাস করি । তানা হলে যেভাবে ৫৭ সেনা কর্মকর্তা দেশপ্রেমের কারনে অকাতরে জীবন দিল তা অদুর ভবিষ্যতে জাতির ইতিহাস থেকে মুছে যাবে। আজকের এ দিনে শোককে শক্তিতে পরিনত করে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য নতুন করে শপথ নিতে হবে।
লেখকঃ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ।


