বাঙালির গোল্ড ফিশ এর ‘মেমরি’ এবং ফ্রান্স প্রবাসিদের ব্যঙ্গকারি অন্য প্রবাসির প্রতি কিছু কথাঃ

index
ফেসবুক এর এক বড় ভাই তৌজাহিদ উনি একটা জিনিস নজরে এনেছেন।সেখানে দেখলাম ফ্রান্সে বসবাস করা এক বাঙালি ভাই ফ্রান্স এবং এখানকার প্রবাসি মানুষ এর কেস করা নিয়ে ব্যঙ্গ করেছেন । তৌহিদ ভাই নিজে বিবেক এর দায় থেকে সেই লেখার প্রতিবাদ করে লিখেছেন । প্রথমে ভেবেছিলাম নিজে কিছু লিখবো না কারণ ফ্রান্সে দীর্ঘদিন ধরে থাকার ফলে একটা ভালো জিনিস রপ্ত করেছি তা হল বেশি প্রতিক্রিয়াশিল না হওয়া। আগে দেশে থাকতে যে কেউ কোনো কিছু নিয়ে কথা বললে সাথে সাথে প্রতিক্রিয়া দেখতাম আর রাজনিতি হলে তো কথাই নেই। তবে ফ্রান্সে আসার পরে শিখেছি কিভাবে নিজেকে সংযত করতে হয়। একজন মানুষ বললেও চুপ থাকতাম বা আসে পাশে কিছু দেখলেও মন থেকে ঘৃণা করতাম কিন্তু ওইভাবে আর লিখে বা মুখে প্রতিবাদ করা হতো না। কিন্তু আজকের এই লেখাটা বাধ্য হয়ে লিখতে হচ্ছে কারণ নিজেকে সংযত করতে পারিনি। মনে হলো আমরা প্রবাসে যারা সংগ্রাম করছি আমাদেরকে এইভাবে ব্যঙ্গ করার মানে হয় না। আমরাতো রাজনিতি করি না। আমরা আমাদের জীবিকার তাগিদে কাজ করি নিজে ভালো থাকার জন্য এবং পরিবারকে ভালো রাখার জন্য, তাই অন্য মানুষ এর কাছ থেকে আমরা সন্মান আশা করতেই পারি । তখন মনে হলো এইভাবে আমরা যদি এইসব মানুষকে কিছু না বলি তারা লিখেই যাবে । তাদেরকেও বলতে চাই আমরা সারাদিন কাজ করি মানে এই না আমরা লিখতে জানি না । হ্যা হতে পারে আপনার মতন সুন্দর করে রস দিয়ে লিখতে পারবো না কিন্তু আমি বিশ্বাস করি প্রতিটি মানুষই চমৎকার করে নিজের মতন করে লিখতে পারে। তাই আমি আপনার প্রতি কিছু কথা লিখবো।
গোল্ড ফিশ এর ব্যাপারে একটা মিথ আছে সেটা হলো এদের স্মৃতিশক্তি ৩ সেকেন্ড পর্যন্ত থাকে পরে ভুলে যায় সব ।অনেকেই বাঙালিদের ভুলে যাওয়ার স্বভাব এর কারণে ব্যঙ্গ করে বলে যে আমাদের মেমরি নাকি গোল্ড ফিশ এর মতন যেমন নিজের অতীত কিংবা অন্যের বাজে কাজ কর্ম ভুলে যাই । প্যারিসের প্রবাসি বাঙালিদেরকে ব্যঙ্গ করার আগে নিজে একটু চিন্তা করেন , আপনি যদি অনেক আগে প্যারিসে এসে থাকেন বা যেই দেশেই আগে থাকতেন,আপনি সেখানে কিভাবে কাগজ পেয়েছেন ? প্রথমত ধরে নিলাম ,আপনিও হয়তো কেস করে পেপার বের করেছেন, আমার খুব জানতে ইচ্ছা করছে তখন আপনার কেস এ কি কারণ দেখিয়েছিলেন । আপনার সমস্যা একজন নোয়াখালির মানুষ ভাষাগত কারণে হয়তো শুদ্ধভাবে বাংলা বলতে পারে নাই কিন্তু ঠিকই সাংবাদিক হিসেবে কেন কেস করেছেন । তার শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে হাসাহাসি করেছেন শুধু তাই নয় আপনি শুধু একটা গ্রুপকে না আপনি পুরো মানুষ যত ভাবে কেস করতে পারে সেই গুলোকে আপনি চিকন পিনের চার্জার দিয়ে খোঁচা দিয়েছেন । একটু চিন্তা করেন এই মানুষগুলো কেস করছে কেন? তারা চাইছে এখানে একটু স্বচ্ছলভাবে থাকতে,একটু সুন্দর জীবন যাপন করতে , লেখুক না সুন্দর করে কেস । আপনি খোঁজ নেন ভাই, প্যারিস এর অধিকাংশ মানুষ কিভাবে কাগজ পেয়েছে কিভাবে তারা কেস লিখেছে । তারা যদি বলে আপনাকে তাদের প্রতিষ্ঠানে বসতে দিবে না তাহলে আপনি কোনো বাঙালি প্রতিষ্ঠান এ বসার জায়গা খুঁজে পাবেন না । অন্য দেশ এর দোকানে বসে গপ্পো করতে হবে । একজন মানুষ যেভাবেই কেস করুক তার উদ্দেশ্য একটা পেপার পেলে শান্তি ,ভালো জব করতে পারবে,নিজের এবং তার পরিবার এর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত হবে । আপনি সেই ভালো দিকটা দেখলেন না ,পরিবার নিয়ে ভালো থাকার সংগ্রাম আপনার চোখে ধরা দিলো না । আপনি উল্টো তাদের নিয়ে মজা করলেন ,তাও যেমন তেমন মজা না একদম রসমিশিয়ে মজা নিলেন । সব চেয়ে বেশি খারাপ লেগেছে যখন আপনার এই পোস্টে অনেক বাঙালি ভাই লাইক দিয়েছেন যার মধ্যে অনেকেই প্যারিস এ নিজেই কেস করে কাগজ পেয়েছেন বা কেস চলছে । হায়রে বাঙালি মানুষ গোল্ড ফিশ এর মতন নিজের অতীত ভুলে গেলেন । শোনেন ভাই অহংকার করা ভালো না । অহংকার শুধুমাত্র সৃষ্টিকর্তাই করতে পারেন । এই যে যাদেরকে ব্যঙ্গ করেছেন হতে পারে ভবিষ্যৎ এ এরাই আপনার থেকে ভালো করবে । তাই কখনোই কারো দুর্বল অবস্থা বা বিপদ নিয়ে হাসা হাসি করবেন না । পৃথিবী একটা আয়নার মতন আপনি যা করবেন তা ফেরত হিসেবে পাবেন আর গ্রাম দেশ এর একটা প্রবাদ আছে ‘ক্ষেতের চাক্কা ক্ষেতেই ভাঙা হয় ! ‘
যদি বাঙালি কমিউনিটি এর কথা বলেন প্যারিস না খুব ছোট একটা শহর জানেন । এখানে আপনি সবার ব্যাপারে খবর পেয়ে যাবেন । ধরেণ ,কেউ যদি ১০ বছর আগেও কোনো কুকর্ম করে থাকে প্যারিস এর সবাই কেমন করে জানি জেনে যায় । আজ থেকে বিশ বছর আগেও কেউ বাজে কাজ করে থাকলে তার খোঁজ আপনি পেয়ে যাবেন । ওই লোকের পূর্বের সমস্ত গল্প আপনি জেনে যাবেন, সেই গল্প যেকেনো টাইপের হতে পারে । আপনার ব্যাপারে জানি না আপনি কতদিন ধরে থাকেন তবে একটা জিনিস বলতে পারি যদি প্যারিসে থাকেন আপনার ব্যাপরেও খোঁজ পাওয়া যাবে যে আপনি অতীত এ কিভাবে কাগজ পেয়েছেন কিংবা আপনি যদি লন্ডন ,ইতালি ,স্পেন থেকেও এখানে আসেন তাহলে কিভাবে কি করেছেন। আর যদি শিক্ষিত হয়ে থাকেন তাহলে আপনার হিসাবটা একটু অন্যরকম । তাহলে বলতে হবে আপনি কোথায় পড়াশোনা করেছেন যেইখানে আপনাকে এই নূন্যতম নৈতিকতার শিক্ষা দেয় নি আর যদি ভালো বিশ্ববিদ্যালয়তেও লেখা পড়া করেন তাহলে আপনার ফ্যামিলি শিক্ষাতে প্রব্লেম আছে , কিন্তু ফ্যামিলি ও যদি ঠিক থাকে তাহলে বলতে হবে ভাইজান আপনার নিজের মেইন সিস্টেম এই গন্ডগোল । আপনি লেখা পড়া করেছেন সার্টিফিকেট এর জন্য । আসল শিক্ষা পেলে কখনোই এই প্রবাসে বসবাসরত বাঙালিদের তাদের কেস করা নিয়ে হাসাহাসি করতে পারতেন না । শোনেন আজকে আপনার হয়তো কাগজ হয়েছে কিন্তু যাদের হয়নি ভুলে যাবেন না সময় নিবে কিন্তু ইনশাল্লাহ সবারই আজ হোক কাল হোক কাগজ হবে। তখন কিন্তু আপনার কথা সবাই মনে রাখবে । আমি স্ক্রিন শট দিয়ে সব রেখে দিয়েছি যেন গোল্ড ফিশ এর মতন আমরা ভুলে না যাই আপনাকে ।
পরে আপনি ফ্রান্স নিয়ে আপনার ব্যাপক, খুব ক্ষোভ ঝাড়লেন যে প্যারিস এর Prefecture হেন্ টেন। ভাই আপনি একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন কেন দুইটা Prefecture এর আইন কানুন বিভিন্ন হয় । এর যথেষ্ট কারণ আছে। কিন্তু আপনি না জেনেই পুরা ফ্রান্স এর সিস্টেম নিয়ে চামড়ার মুখ দিয়ে বলেই গেলেন । আপনি বলছেন আপনি ইউরোপ এর অনেক দেশ দেখেছেন । ধরে নিলাম , যদি লন্ডন থেকেও আসেন ফ্রান্স এ কেন আসলেন ভাই? এদের সিস্টেম তো ভালো না , যেইভাবে দোষারোপ করেছেন আমার মনে হয় আপনি পরের ফ্লাইট এই চলে গেছেন ফ্রান্স ছেড়ে । আর যদি না যেয়ে থাকেন তাহলে বলতে হবে শীতকালে মাথা গরম করে বেহুদা বক বক করছেন । শোনেন ফ্রান্স জাতিকে নিয়ে কিছু বলার আগে একটু নেট ঘাটাঘাঁটি করলে এদের ব্যাপারে ভালো ধারণা পাবেন,ফ্রান্স পৃথিবির অন্যতম এক জাতি যারা বিজ্ঞান, শিল্প এবং সাহিত্যে ব্যাপক অবদান রেখেছে। হা তাদের সিস্টেম এ আপনার দৃষ্টিতে প্রব্লেম থাকতে পারে কিন্তু আপনাকে নিশ্চিত করে বলতে পারি তারা হয়তো সল্ভ করার ট্রাই করছে । আপনি যেই দুই Prefecture এর নাম বললেন আপনি একটু খোঁজ নিয়ে দেখেন রেগুলার তাদের কত গুলো কাগজ হ্যান্ডেল করতে হয় । আপনি এদেরকে গালি দিলেন কিন্তু ভাবলেন না তারা প্যারিস এ বসবাসরত সব দেশ এর মানুষ এর কাগজ হ্যান্ডেল করেন ।
আসল কথা ভাই ,আপনি যদি নিউ এসে থাকেন তাহলে নিশ্চয় আপনি CAF এর টাকার জন্যে এপলাই করেছেন? ভালো কথা আপনার যদি পরিবার থাকে তাহলে সোশ্যাল থেকে বাসা পাওয়া যায় । সো সেই প্রসেসটাও শুরু করেছেন তো ?? ভুলে যাবেন না হাজার গালি দেন France কে তাও আপনাকে CAF দিবে এবং কপাল ভালো থাকলে সোশ্যাল এর বাসায় পেয়ে যাবেন। এখনই দৌড়া দৌড়ি শুরু করেন।যেইসব বাঙালি পরিবার সোশ্যাল এর বাসা পেয়েছে তারা আপনার মতন ফ্রান্স কে গালি দেয় না , উল্টো কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ।শোনেন জীবন এবং জীবিকা যেখানে তাকে সন্মান করতে হয় । আবার হতে পারে সবই হাসিল করে ফেলেছেন এই জন্যে প্রশান্তির ঢেঁকুর তুলে ফ্রান্স এবং প্রবাসিদের নিয়ে ব্যঙ্গ করছেন ।

শোনেন আপনার জন্যে দুইটা কথা । এই নীতি কথা গুলো কাজে দিবে :
১. ‘People take different roads seeking fulfillment and happiness. Just because they’re not on your road doesn’t mean they’ve gotten lost.’ Dalai Lama XIV
২. ‘দৃষ্টি ভঙ্গি বদলান,জীবন বদলে যাবে ‘ — QUANTUM FOUNDATION Quantum Method Bangladesh
লিখেছেন- ফেসবুক থেকে ‘নীল মানুষ’।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.