গণতান্ত্রিক ভূমিকায় একজন মোদি, কেন আমরা পারবো না?

democracy

গণতান্ত্রিক ভূমিকায় একজন মোদি অবতীর্ণ হতে পারলে কেন আমরা পারবোনা? সচেতন সমাজ ব্যক্তিটিকে মডেল হিসেবে না দেখলেও তার দেশকে মডেল হিসেবে দেখবেন নিশ্চয়ই; জনতার ন্যায্য অধিকার ও সুবিচারে বিশ্বাসী যে কেউ এমনটিই ভেবে থাকবেন হয়তো। রাজনৈতিকভাবে ভারত মহা বিশৃঙ্খলায় ভূগলেও দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রভাগে পৈশাচিকতা নেই। তার প্রমান সে দেশে নরেন্দ্র মোদির মত চা বিক্রেতা প্রধানমন্ত্রী হতে পারে যা আমাদের দেশে হতে পারে না। যদিও এই ব্যক্তিকে ঘিরে অবিশ্বাস, কলঙ্ক ঘৃণা আর অভিশাপ এর পাহাড় ছিল, তারপরও গত কয়েকদশকের মধ্যে সবচেয়ে বেশি জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করছেন নরেন্দ্র মোদি। গুজরাটের কলংকজনক দাঙ্গায় দুই হাজার মানুষ নিহতের ঘটনার দায় মোদির উপর থাকা সত্ত্বেও মোদি মুদ্রন করলেন নতুন ইতিহাস।

সুক্ষ বা স্থুল কারচুপির অভিযোগ ছাড়াই এরকম নির্বাচন এবং গনতন্ত্র চর্চা আমাদের পাশের বাড়িতে চললেও আমরা তা থেকে আরো দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছি। বিজেপি প্রধান নরেন্দ্র মোদির পরিবারও ছিল একেবারে সাদামাটা। বাবাকে সাহায্য করতে রেল ক্যান্টিনে চা বিক্রি ও গুজরাট রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটির ক্যান্টিনবয় হিসেবে কাজ করা এবং আলো-বাতাস বিহীন ঘরে বড় হওয়া মোদি যদি এভাবে ১২০ কোটি মানুষের নেতৃত্বে আসতে পারে তবে আর যাই হোক, মানুষের অধিকারকে সম্মান জানানোর ব্যবস্থা যে সে দেশে আছে তা খুব ভাল করেই বোঝা যায়। মোদির প্রার্থিতাকে সমর্থন দিয়ে মনোনয়নপত্রে সই করলেন এক চাওয়ালা এটা বিশ্বে নতুন এক ইতিহাস। পার্শ্ববর্তী দেশটি বাংলাদেশের তুলনায় দারির্দ্য বিমোচন, অমানবিক পেশা, সাম্প্রদায়িক সহনশীলতা সহ নানা বিষয়ে পিছিয়ে থাকলেও গণতান্ত্রিকতা ও রাজনৈতিক সহিষ্ণুতার দিক দিয়ে এগিয়ে আছে আর তাই, আমাদের এগিয়ে থাকা সুবিধাগুলোর সদ্ব্যাবহার করা যাচ্ছে না। বাংলাদেশের প্রতি তাদের ভৃত্যসুলভ মনমানসিকতা ও আচরণের কারণে ভারত স¤পর্কে নেতিবাচক দৃষ্টির প্রসার ঘটলেও আমাদের দেশের রাজনোইতিক নেতৃবৃন্দের অদূরদর্শীতা, নির্মম লোভ ও অমানবিক ধোঁকাবাজির কারণে পাশের অনুন্নত দেশটির স¤পর্কে ভাবতে বিবেক বাধ্য হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.