কমিউনিটির চোখে প্যারিস প্রবাসী সিরাজের মৃত্যু ও শোক

কমিউনিটির চোখে প্যারিস প্রবাসী সিরাজের মৃত্যু ও  শোক

[author ]মুহাম্মদ সাইফুল আলম[/author]

“প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহন করতে হবে।”- আল-কুরআন
পবিত্র কুরআনের এই অমোঘ বাণীটি আস্তিক কিংবা নাস্তিক সকলেই একবাক্যে মানেন,বিশ্বাস করেন । যদিও নিজের মৃত্যুর কথা সকলেই ভুলে থাকি। কার কখন, কোথায়, কিভাবে মৃত্যু হবে আমরা কেউই জানিনা। মৃত্যু অবধারিত, মৃত্যু শ্বাশত। প্রত্যেককেই মরতে হবে। অনেক সময় কারো মৃত্যুকে মেনে নিতে খুবই কষ্ট হয়। একটা বয়স আছে, জীবনের শেষ মুহুর্তে এসে যদি কেও মারা যায় তবে সেই মৃত্যুকে মেনে নেয়াটা সহজ হয়। কিন্তু একজন যুবক, সুঠাম দেহের অধিকারী, ৩০ এর গন্ডি যে এখনো মাড়ায়নি তার যদি মৃত্যু হয় এবং মৃত্যুটা যদি হয় অস্বাভাবিক তাহলে সেই মৃত্যুকে কিভাবে মেনে নিবেন? সত্যিকার অর্থেই সেই মৃত্যুকে মেনে নেয়া যায় না। আমাদের বুক কেঁপে উঠে, আমাদের দু’চোখের কোন ভিজে যায়, আমাদের মনে অজানা ভয় জাগে। আমরা বাকরুদ্ধ হই, বুকের ভেতর থেকে বড় বড় নিস্বাস ফেলতে থাকি।

ঠিক সেভাবে আমরা একজন যুবকের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছি না। হ্যাঁ, সম্মানিত পাঠক, আমি ফ্রান্স প্রবাসী সিরাজের কথাই বলছি। সদা হাস্যোজ্জল, প্রাণচঞ্চল একজন সাহসী যুবকের নাম সিরাজ। দীর্ঘদিন ইউরোপের স্পেনে বসবাস করে পাড়ি জমিয়েছিলেন ফ্রান্সে। এখানে এসে রাজনৈতিক আশ্রয় পেয়েছেন, বাসা ভাড়া নিয়েছেন, স্ত্রী ও দুই ছেলে সন্তান যার একজনের বয়স ৩ বছর আর অপরজনের বয়স মাত্র ৫ মাস তাদের নিয়ে বসবাস করছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ইলাশপুর গ্রামে।

কিছুদিন হয় দেশে গিয়েছেন। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০ ঘটিকায় তিনি ওসমানীনগরের ইছামতি গ্রামে মাহমুদ আলীর বাড়ীতে মাহমুদ আলী ও তার ছেলেদের দ্ধারা আক্রান্ত হয়ে মারা যান। কি কারনে তাকে মারা হয় তার নির্ভরযোগ্য কোন সুত্র পাওয়া না গেলেও টাকাপয়সার লেনদেন বা মেয়ে সংক্রান্ত বিষয়টি তার মৃত্যুর কারন বলে জানা যায়। সিরাজের বন্ধুবান্ধবের ফেসবুক স্ট্যাটাস ও বিভিন্ন পত্রপত্রিকার নিউজ থেকে এই দুটি কারনের যেকোন একটি হতে পারে বলে সচেতন মহলের ধারনা। কেউ বলছেন পাওনা টাকা চাইতে গিয়ে সিরাজের এই মৃত্যু হয়। আবার কেও বলছেন মাহমুদ আলীর মেয়ে নিলুফার সাথে সিরাজের প্রেমের সম্পর্ক ছিলো এবং সিরাজ নিলুফারকে বিয়ে করতে গেলে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। উল্লেখিত তারিখে এই দুটি কারনের যেকোন একটিতেই হোক সিরাজ তার অপর ৩ বন্ধু সহ মাহমুদ আলীর বাড়ীতে যায়। সেখানে মাহমুদ আলী ও তার ছেলেরা সিরাজের অপর বন্ধুদেরকে ঘরের বাহিরে রেখে সিরাজকে বেডরুমে নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আহত করে। সিরাজকে বাঁচাতে গেলে অপর বন্ধুদেরকেও মারা হয় এবং এক পর্যায়ে পুলিশ ডেকে অপহরনকারী ডাকাত সাজিয়ে সিরাজ ও তার বন্ধুদেরকে পুলিশের হাতে তুলে দেয়া হয়। অচেতন অবস্তায় পুলিশ সিরাজকে গ্রেফতার করে এবং ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ডেকে সিরাজকে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। হাসপাতালে সিরাজ রাত ১২ টার দিকে মারা যায়।

সিরাজের মৃত্যুর খবরটি ফ্রান্সের প্যারিসে জানাজানি হলে পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। অনেকেই সিরাজের এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছেন না। একজন যুবককে এইভাবে ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করার জন্য মাহমুদ আলী ও তার ছেলেদেরকে গ্রেফতার করে উপযুক্ত বিচারের আওতায় নিতে পুলিশের প্রতি দাবি জানাচ্ছি আমরা ফ্রান্স প্রবাসী বাংলাদেশীরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.