
[author image=”https://www.nobokontho.com/wp-content/uploads/2021/08/elora-zaman-fb-nobokontho.png” ]ইলোরা জামান[/author]
আমি বাংলাদেশের ডাক্তারদের কখনো দেখিনি ভুল চিকিৎসা, অপচিকিৎসা, অনিয়ম, সিজারিয়ান ইত্যাদি অভিযোগগুলো নিয়ে সোচ্চার হতে। এত হাজার হাজার মানুষ যে ডাক্তারদের প্রতি অসন্তুষ্ট হয়ে অশ্রদ্ধা এনেছে, অভিযোগ করেছে, সেগুলো নিয়ে তাদের বিন্দুমাত্র চিন্তা করতে দেখিনি কখনো।
বরং চরম মাত্রার ছোটলোকিপূর্ণ দাম্ভিকতা দেখিয়ে মানুষদের সবচেয়ে নাজুক মুহুর্তের সেসব অসহায় অবস্থার অভিযোগকে যা তা বলে দমন করেছেন।
কোনোদিন আমি দেখিনি মানুষগুলো কেন এমন বলছে, কেন এত বীতশ্রদ্ধ, কেন এত অভিযোগ এসব নিয়ে চিন্তা করতে সামান্যতম। কেউ আমার প্রতি যদি বিরূপ মনোভাব দেখায় তাহলে স্বাভাবিক ভাবে আমি এর কারণ বের করতে চাইবো। কেন সে আমার প্রতি এই কমেন্ট করলো, কেন সে এত কটু মন্তব্য করলো, কারণ কি? আমার কি কি ল্যাকিংস রয়েছে, আমি ঠিক কোন জায়গাটায় তারে আঘাত করেছি ইত্যাদি ভাববে যদি সে স্বাভাবিক কেউ হয়।
কিন্তু আমাদের দেশের ডাক্তাররা এসব একবারের জন্যও ভাবেননা। গোত্রপ্রীতি এতটাই মারাত্মক তাদের মধ্যে যে, বিগত দিনে দেখেছি তারা মানুষের অভিযোগ দেখলেই সেই মানুষটিকে দূর দূর করে তাড়িয়ে দিচ্ছেন এবং অনেক ভেবেচিন্তে তারা বের করেছেন স্লোগান, “চান্স পাস নাই তাই এই কথা বলছ”। হাউ লেইম! অ্যান্ড হোয়াট আ শেইম যে তাদেরকে শেষপর্যন্ত এসব কথার আশ্রয় নিতে হচ্ছে! কতটা ফ্রাস্টেশনে ভুগলে ঢালাওভাবে এগুলো কথা আসে সভ্য সমাজে। দুঃখজনক ব্যাপার৷
কিন্তু তবুও যখন দুই একজন আমার মত মুরুক্ষু থোরাই কেয়ার করা পাব্লিক বলে, ও ভাই সোলোগান দিয়েন না। সব জায়গায় সোলোগান খাটেনা, তখন তাদের সমস্যা হয় এবং ক্ষিপ্ত হয়ে কুৎসিত কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেন৷ হাহাহা। তবে এগুলো তাদের দোষ নয়। পুরো সমাজ কাঠামো এবং রাষ্ট্রের রন্ধ্রে রন্ধ্রে প্রতিটি সেক্টরে যে যেভাবে পারো বাঁচো, নীতি নৈতিকতা থাকলেই সমস্যা- অবস্থা চলছে তাতে করে একলা তাদের দোষ দিয়েও লাভ নেই৷
কিন্তু সমস্যা তখনই লাগে যখন তাদের মহান মানবিক হিসেবে রিকগনিশন পাওয়ার বিভিন্ন খায়েশ দেখি যেটি অন্য পেশার লোকদের দেখিনা। তাদের ভালো লাগেনা কেন তাদের কেউ মূল্য দিচ্ছেনা, কেন মহান মহান করে নত হয়ে বাউ করছে না, কেন তাদের দোষ ধরছে লোকজন, মানুষ কেন বুঝতে পারছেনা যে তারা কতবড় এহসান করছেন এসব অশিক্ষিত মেডিকেলে চান্স না পাওয়া রোগীদের প্রতি, এইরকম ক্ষোভ।
আমি অবাক হয়ে যেতাম এসব দেখে। কাস্টমার ক্লায়েন্ট সার্ভিস মডেলের সাথেতো তাদের পরিচয় নেই’ই, বরং প্রচুর ভয় তাদের ভেতর তাদের নিরাপদ উচ্চতর নিজস্ব ডোমেইন, নিজেদের বহু পরিশ্রমে তৈরী করা দূর্গে কেউ না আবার আঘাত হানে! এই ভয়ে তারা তড়িঘড়ি করে কোনো চিন্তাভাবনা না করেই ডিনাই করে দেন সবকিছু এবং মারমুখীও হয়ে উঠেছেন।
কিন্তু আজ দেখছি বাংলাদেশের ডাক্তাররা ড. জাহাঙ্গীর কবীরের অপচিকিৎসা ভুল চিকিৎসা ইত্যাদি নিয়ে তুমুল সোচ্চার! এ আমি কি দেকচি মাইরি! সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্য তাদের লাইফস্টাইল তাদের জীবনযাত্রা নিয়ে যারা বিন্দুমাত্র ভাবেন নাই এতকাল তারা আজ এত সচেতন হয়ে উঠলেন যে! ওমাখো! 😱
তবে, এটার বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। দাড়িওয়ালা, গ্রাম্পি লুক ছাড়া ডাক্তার, টাখনুর উপরে প্যান্ট এবং সাবেক শিবির টিবির কতকিছু রাজনীতি থাকতে পারে। সেগুলোতে না গেলেও অন্য কারণ হিসেবে আমি বাংলাদেশের প্রেক্ষিতে মেডিকেল হুইসেল ব্লোয়ার হয়ে ওঠাই ড. কবীরের জন্য কাল হয়েছে বলেই মনে করছি।

