নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ইতালির অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ভেনিস। অত্যান্ত সোন্দর্য মন্ডিত ঐতিহ্যবাহী এ শহর যেন পুরোটাই একটি যাদুঘর। তাই সারা বিশ্ব থেকে পর্যটকের হিড়িক থাকে এখানে। তবে, এখন থেকে পর্যটকদের জন্য প্রবেশ ফি নির্ধারণ করেছে ইতালি সরকার। এখন থেকে ১৪ বছরের বেশি বয়সের সব পর্যটককে ভেনিসের প্রবেশ ফি ৫ ইউরো পরিশোধ করতে হবে।
একটি আদর্শ শহরে যা কিছু থাকে তার সবই আছে ভেনিসে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, স্টেডিয়াম, আদালত, জেলখানা, উপাসনালয়, হাসপাতাল, মিউজিয়াম, অফিস, নগর ভবন, সুপার মার্কেট, শপিং মল ও থানা-পুলিশ সব। হোটেল, মোটেল, বার ও রেস্টুরেন্টও আছে অনেক। এতকিছু মাথায় নিয়ে ভেনিস দাঁড়িয়ে আছে ভূমধ্যসাগরের পেটের ওপর। এই শহরের অবকাঠামো সত্যিই অবিশ্বাস্য। পানির ওপর ভেসে আছে বড় বড় দালান-কোঠা। জোয়ার হলে তলিয়ে যায় শহর। রাস্তা-ঘাটে হাঁটু পানি জমে। শহরটাকে লতার মতো পেঁচিয়ে আছে ১৭৭টি খাল। প্রায় সাড়ে চারশ ছোট বড় সেতু আছে এই শহরের যোগাযোগ সহজ করতে। আর যানবাহন বলতে শুধু নৌযান। লঞ্চ, নৌকা ও স্টিমার।
আপনি যদি ভেনিসে বসে ট্যাক্সি কল করেন, মুহূর্তের মধ্যে পানি দাপিয়ে ছুটে আসবে স্পিডবোট। পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্সও ওই স্পিডবোটের মধ্যেই। এই শহরে ‘প্রাইভেট কার’ মানে ডিঙ্গি নৌকা বা ইঞ্জিন লাগানো ট্রলার। ভেনিসের প্রতিটি অলি-গলি দেখার মতো। হাজার বছরের ঐতিহ্য ছড়িয়ে আছে কদমে কদমে। যা কোনোভাবেই দেখে শেষ করা যায় না।
ঘড়ির কাটা ধরে দরজা খোলা-বন্ধ করা, বিস্ময়কর এই পর্যটন নগর নিয়ে এখন চলছে চরম আলোচনা-সমালোচনা। বর্তমান মেয়র ও ডানপন্থী রাজনীতিক লুইজি ব্রুনারো ভেনিসে প্রবেশ ফি (ভেনিস পাস) চালু করে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন। মেয়র ব্রুনারো বলেন, ‘ভেনিসে প্রতিদিন প্রায় দুই লাখ মানুষের আসা-যাওয়া হয়। বিশেষ করে উইকেন্ডে এবং উৎসবের সময়ে এত বেশি ভিড় হয়, প্রশাসনকে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন থাকতে হয়। যা ভেনিসের জন্য, পর্যটকদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাছাড়া শহরের মেনটেইন খরচ অনেক বেড়ে যায়।’
ভেনিসের অনেক নাগরিক মেয়রের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংঘবদ্ধ প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন। তারা কোনোভাবেই ‘ভেনিস পাস’ মানতে রাজি নন। মেয়রের সিদ্ধান্তকে তারা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। তাদের মতে এতে পর্যটকদের অধিকার লঙ্ঘন করা হবে। কারণ পৃথিবীর কোনো শহরে ‘প্রবেশ ফি’ দিতে হয় না। ভেনিসই প্রথম।
ভেনিসের সাবেক মেয়র ও দার্শনিক মাচ্ছিমো কাচ্চারি বর্তমান মেয়র লুইজি ব্রুনারোর কড়া সমালোচনা করে বলেছেন, ‘সে ভেনিসকে ধ্বংস করতে চায়। ভেনিসের প্রতি পর্যটকদের ঘৃণা সৃষ্টি করতে চায়। যা ঐতিহাসিক ভেনিসের ঐতিহ্য নষ্ট করবে, পতন ডেকে আনবে।’
আগামী বছর ভেনিসের সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। শোনা যাচ্ছে, বর্তমান মেয়র আর প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না। তিনি অবসরে যাবেন। এর আগে কেন তিনি এমন একটা সিদ্ধান্ত নিলেন, যা স্থানীয় মানুষকে ব্যাপক ক্ষুব্ধ করেছে। ভেনিসের রাজনৈতিক পাড়ায় এটা নিয়ে ব্যাপক কথা হচ্ছে। আসন্ন নির্বাচনে ‘ভেনিস পাস’ একটা ইস্যু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
