নবকণ্ঠ ডেস্কঃ আগামী ২২-২৭ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিতব্য জাতিসংঘের ৭৯তম সাধারণ অধিবেশনে যোগ দিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকারের ১০ থেকে ১২ জনের একটি ছোট প্রতিনিধি দল যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছে। এই দলটিকে নিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জাতিসংঘের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এত ছোট একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে উপস্থিত হওয়ায় অধিবেশনের পরিবেশ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
জাতিসংঘের আর্থিক পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানা যায়, অতীতে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বিশাল প্রতিনিধি দলগুলির আগমনে নিউইয়র্কের পর্যটন ও বাণিজ্য খাত উল্লেখযোগ্যভাবে উপকৃত হতো।
আর্থিক বিভাগের মুখপাত্র জানান, “শেখ হাসিনার অধীনে বাংলাদেশ থেকে প্রায় দুই থেকে আড়াই’শ সদস্যের প্রতিনিধি দল এসে নিউইয়র্কের হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসার জন্য বিশাল আয়ের সুযোগ তৈরি করত। সেইসঙ্গে বিপুল শপিংয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য খাতও চাঙা থাকত। এবার ড. ইউনূসের ছোট দল আসায় আমেরিকার পর্যটন ও বাণিজ্য খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে।”
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা হতাশা প্রকাশ করে জানান, “আমাদের আশা ছিল, ড. ইউনূসের প্রতিনিধি দল অন্তত ২০০ জনের কাছাকাছি হবে। হোটেল রুম, রিসোর্ট বুকিং, এবং শপিং মলের বিক্রি বেড়ে যেত। কিন্তু এই ছোট দল কোনোভাবেই নিউইয়র্কের অর্থনীতিতে তেমন প্রভাব ফেলতে পারবে না। এটি আমাদের জন্য বড় রকমের ধাক্কা। ভারতের সাথে ড, ইউনূসের সম্পর্ক ভালো যাচ্ছে না, ছোট প্রতিনিধি দলের কারণে আমেরিকার সাথে সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। ”
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে আরেকটি উদ্বেগজনক বিষয় তুলে ধরেছেন। শেখ হাসিনার সময় সাধারণত জনবল নিয়োগ করে নিজ ভাষণের সময় হাত তালি দেওয়া হতো, এবং আন্তর্জাতিক মঞ্চে তাকে সমর্থন করে তার গুণগান গাইবার জন্য নির্দিষ্ট সদস্যদের বাংলাদেশ থেকে আনা হতো। এবার ড. ইউনূস সেই রীতি অনুসরণ না করায়, জাতিসংঘ কর্তৃপক্ষকেই এই দায়িত্ব পালন করতে হবে। অধিবেশন ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান বলেন, “আমরা যদি নিজস্ব কর্মী নিয়োগ করে গ্যালারিতে বসিয়ে হাত তালি দিতে বাধ্য হই, তাহলে আমাদের কর্মীদের উৎসাহ ভাতা দিতে হবে, যা জাতিসংঘের খরচ বাড়াবে। এমন খরচ আগে কখনও হয়নি।”
জাতিসংঘের হিউম্যান রিসোর্স ডিপার্টমেন্ট থেকে আরও বলা হয়েছে, “এত কম সংখ্যক প্রতিনিধির কারণে জাতিসংঘের ক্যান্টিনও মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে যাচ্ছে। সাধারণত বাংলাদেশি প্রতিনিধি দলগুলো বিশাল পরিমাণে খাবার গ্রহণ করত, যা ক্যান্টিনের মুনাফা কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিত। এবার তা হচ্ছে না। ফলে ক্যান্টিনের আয়ের উৎসও সংকুচিত হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জাতিসংঘের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা বলেন, “এত ছোট প্রতিনিধি দল নিয়ে আসার কারণে ড. ইউনূসের বক্তৃতায় হাত তালি দেওয়া থেকে শুরু করে প্রশংসাসূচক হর্ষধ্বনি পর্যন্ত সবকিছু জাতিসংঘকে নিজ দায়িত্বে করতে হবে। ফলে ড. ইউনূসের বক্তৃতা হয়তো বিশ্ব ইতিহাসে সবচেয়ে নিঃশব্দ অধিবেশন হিসেবে জায়গা করে নেবে।”
জাতিসংঘ কর্মকর্তারা আশা করছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ থেকে শেখ হাসিনার সময়কালের মতো বড় প্রতিনিধি দল আসবে, যাতে করে তাদের নির্ধারিত আয়োজনগুলো ঠিকভাবে বাস্তবায়িত করা সম্ভব হয় এবং নিউইয়র্কের স্থানীয় অর্থনীতি আবারো সমৃদ্ধ হয়ে ওঠে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

