নবকণ্ঠ ডেস্কঃ জাতিসংঘ ইসরাইলি সামরিক বাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে গাজায় তাদের কর্মকাণ্ডের জন্য। বিশেষ করে শিশুদের ওপর হামলার কারণে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীকে কালো তালিকাভুক্ত করেছে জাতিসংঘ। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় হাজার হাজার শিশু নিহত হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিশ্ব সংস্থাটি এই সিদ্ধান্ত নিলো। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সহ অন্যান্য কর্মকর্তারা বেসামরিক মানুষের ওপর এই সহিংসতার প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কালো তালিকায় ইসরায়েলের অবস্থানের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত গিলাদ আরদান। তিনি এক্সে বলেছেন, তিনি প্রজ্ঞাপন পেয়েছেন এবং এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ।
জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে দেখা করে জাতিসংঘের বার্ষিক ‘চিল্ড্রেন ইন আর্মড কনফ্লিক্ট’ প্রতিবেদনে ইসরায়েলের তালিকাভুক্তির বিষয়টি জানান।
রয়টার্স এক জাতিসঙ্ঘ কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে জানিয়েছে যে, ফিলিস্তিনি গ্রুপ হামাস এবং ইসলামিক জিহাদকেও এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। সশস্ত্র সঙ্ঘাতে শিশুবিষয়ক জাতিসংঘের বার্ষিক প্রতিবেদনটিতে ‘শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় পক্ষগুলোর সম্পৃক্ততার’ তালিকা দেওয়া হয়। এতে হত্যা এবং আহত করার প্রমাণ এবং যৌন সহিংসতার তথ্য থাকে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের একটি হামলার পর ইসরাইলি সামরিক অভিযান তীব্র হয়েছে। গাজায় ব্যাপক বোমাবর্ষণ এবং সামরিক অপারেশন চলছে, যার ফলে বহু বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে এবং অবকাঠামো ধ্বংস হয়েছে। জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, সংঘর্ষ শুরুর পর থেকে গাজায় ৩৩,০০০ এর বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, যার মধ্যে বেশিরভাগই নারী ও শিশু।
জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থা বারবার যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছে এবং মানবিক সহায়তার অবাধ প্রবেশের দাবি করেছে। তারা সতর্ক করেছে যে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা যেমন রাফাহতে চলমান সামরিক অভিযান মানবিক বিপর্যয়ের দিকে নিয়ে যেতে পারে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
