নবকণ্ঠ ডেস্ক: ইতালির রাজধানী রোমে বিদেশি নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষা, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ (Consulta Permanente della Convivenza Interculturale)। নতুন এই পরিষদে যুক্ত হয়েছে সাতটি বাংলাদেশি সংগঠন। রোম ও এর আশপাশের মহানগর এলাকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের সমস্যা চিহ্নিত করা, তাঁদের দাবি ও প্রয়োজনীয়তা প্রশাসনের কাছে তুলে ধরা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক নীতি প্রণয়নে ভূমিকা রাখার লক্ষ্য নিয়ে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রোম মহানগর প্রশাসনের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যালয়ে আয়োজিত প্রথম উন্মুক্ত অধিবেশনের মধ্য দিয়ে পরিষদটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রোমের মেয়র ও রোম মহানগর এলাকার মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি। বিভিন্ন দেশের অভিবাসী কমিউনিটি, নাগরিক সংগঠন, সরকারি প্রতিষ্ঠান, শ্রমিক সংগঠন এবং তৃতীয় খাতের প্রতিনিধিদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে এই পরামর্শ পরিষদ গড়ে উঠেছে।

পরিষদটি কেবল একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নয়; বরং বিদেশি নাগরিকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রশাসনের যোগাযোগ আরও কার্যকর করা এবং তাঁদের সামাজিক ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গড়ে ওঠা একটি স্থায়ী পরামর্শ ও সমন্বয়মঞ্চ। এর মাধ্যমে বিদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিরা নিজেদের সমস্যা, অভিজ্ঞতা ও প্রত্যাশা তুলে ধরার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নীতি নির্ধারণ এবং জনসেবার মান উন্নয়নে মতামত দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
রোম ও এর আশপাশের মহানগর এলাকায় বসবাসরত ৬ লাখ ৮০ হাজারেরও বেশি বিদেশি নাগরিকের জীবনমান উন্নয়ন এবং সরকারি পরিষেবায় তাঁদের প্রবেশাধিকার সম্প্রসারণ এই উদ্যোগের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকেরা যেসব বাধার মুখোমুখি হন, সেগুলো চিহ্নিত করে বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে কাজ করবে পরিষদটি।
২০২৩ সাল থেকে প্রস্তুতি, ৯টি কর্মদলের উদ্যোগ
আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ গঠনের লক্ষ্যে ২০২৩ সাল থেকে অংশগ্রহণমূলক প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম শুরু হয়। এ প্রক্রিয়ায় মোট নয়টি কর্মদল কাজ করেছে। এসব কর্মদলে শত শত সহযোগী এবং বিদেশি কমিউনিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত বিভিন্ন সংগঠন অংশ নেয়। ধারাবাহিক আলোচনা, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং পারস্পরিক সহযোগিতার মধ্য দিয়ে পরিষদটির কাঠামো ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিধি নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, খেলাধুলা, আবাসননীতি, অভ্যর্থনা এবং আশ্রয়ব্যবস্থাসহ অভিবাসীদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় গুরুত্ব পায়। রোম মহানগর এলাকায় বসবাসরত বিদেশি নাগরিকদের বাস্তব সমস্যা ও চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে কীভাবে সামাজিক সম্প্রীতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সমাজের মূলধারায় অন্তর্ভুক্তি আরও জোরদার করা যায়, তা নিয়ে কর্মদলগুলোতে আলোচনা হয়েছে।
পরিষদটির ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণের সুযোগ সম্প্রসারণ, সাংস্কৃতিক মধ্যস্থতা জোরদার, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, আবাসনের অধিকার ও বাসস্থানের সুযোগ বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানে প্রবেশাধিকার সহজ করা। পাশাপাশি প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, গণতান্ত্রিক ও নাগরিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, বিদ্যালয়ে শিশুদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা এবং তাঁদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এসব ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, প্রশাসন ও কমিউনিটি সংগঠনগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে কার্যকর পরিষেবা গড়ে তোলার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এর ফলে বিদেশি নাগরিকেরা যেন শুধু বসবাসের সুযোগই নয়, বরং স্থানীয় সমাজের সক্রিয় সদস্য হিসেবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারেন, সেই লক্ষ্যেও কাজ করবে পরিষদটি।
৭৪টি সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ, প্রতিনিধিত্ব করছে ৭ বাংলাদেশি সংগঠন
উদ্বোধনী অধিবেশনে পরিষদের বর্তমান ৭৪টি সদস্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। রোম ক্যাপিটাল প্রশাসনের অংশগ্রহণ যুক্ত করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক প্রতিনিধিত্বের মোট সংখ্যা দাঁড়ায় ৭৫টি বলে জানানো হয়েছে।
পরিষদে অন্তর্ভুক্ত সাতটি বাংলাদেশি সংগঠন হলো—বাংলাদেশ ইমিগ্রেশন অ্যাসোসিয়েশন (বিমাস), ইসলামিক ইনস্টিটিউট অব রোম, মুসলিম কমিউনিটি সেন্টার, অ্যাসোসিয়েশন কালচারালে ইসলামিকা দেল বাংলাদেশ আল আকসা, উলামা কাউন্সিল অব ইতালি, সঞ্চারী সঙ্গীতায়ন এবং সর্বজনীন শ্রী শ্রী রাধাকৃষ্ণ মন্দির।
বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের এসব সংগঠনের অংশগ্রহণ ইতালিতে বসবাসরত বাংলাদেশি কমিউনিটির বহুমাত্রিক প্রতিনিধিত্বের সুযোগ তৈরি করেছে। পরিষদটির মাধ্যমে বাংলাদেশি সংগঠনগুলোও তাঁদের কমিউনিটির সমস্যা, অধিকার, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং সরকারি পরিষেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রতিবন্ধকতা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ পাবে।
অনুষ্ঠানে মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি ও মহানগর পরিষদের কাউন্সিলর তিজিয়ানা বিয়োলঘিনির পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন রোম ক্যাপিটালের সিটি কাউন্সিলের সভাপতি স্বেতলানা চেল্লি, ইতালির বৈষম্যবিরোধী জাতীয় দপ্তর ইউএনএআরের পরিচালক মাত্তিয়া পেরাদোত্তো, ইকুয়েডর ও সিয়েরা লিওনের কনসাল এবং আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানবিষয়ক মহানগর পর্যায়ের কর্মদলগুলোর প্রতিনিধিরা।
এ ছাড়া অংশগ্রহণকারী সংগঠনগুলোর মধ্যে ছিল এআরসিআই রোমা, আনোলফ, স্লো ফুড রোমা, কমুনিতা সিয়েরা লিওনে নুয়োভে জেনেরাজিওনি এবং অ্যাসোসিয়াজিওনে কমুনিতা পেরুভিয়ানা। বিভিন্ন দেশের কমিউনিটি ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের উপস্থিতি রোমের বহুসাংস্কৃতিক সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও প্রতিনিধিত্বমূলক অংশগ্রহণের গুরুত্ব তুলে ধরে।
মেয়র গুয়ালতিয়েরি: অংশগ্রহণ ও সংলাপকে দিতে হবে স্থায়ী গুরুত্ব
রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিয়েরি বলেন, আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থানের স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে একটি সুস্পষ্ট রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি কার্যক্রমে নাগরিকদের অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের মধ্যে সংলাপকে স্থায়ী ও কাঠামোগত গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য শুধু মানুষের বক্তব্য শোনার জন্য একটি মঞ্চ তৈরি করা নয়; বরং ধারাবাহিক আলোচনা, পারস্পরিক সহযোগিতা এবং সমন্বিত নীতি প্রণয়নের একটি কার্যকর প্রক্রিয়া প্রতিষ্ঠা করা। বর্তমান সমাজের জটিল বাস্তবতা ও বহুমাত্রিক চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জননীতি প্রণয়নের ক্ষেত্রে এই পরিষদ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
গুয়ালতিয়েরি বলেন, রোম ও এর মহানগর এলাকা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন দেশের মানুষ, ইতিহাস ও সংস্কৃতির মিলনস্থল হিসেবে পরিচিত। এই বৈচিত্র্যকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগাতে হলে অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণের পাশাপাশি পারস্পরিক স্বীকৃতি, সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং সবার জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, স্থায়ী পরামর্শ পরিষদ গঠনের মাধ্যমে রোম মহানগর প্রশাসন সংলাপ, যৌথ দায়িত্ববোধ এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের ভিত্তিতে সহাবস্থান গড়ে তোলার অঙ্গীকার আরও জোরদার করছে। তাঁর মতে, কমিউনিটির অংশগ্রহণ কোনো অতিরিক্ত বিষয় নয়; বরং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর গুণমান ও কার্যকারিতা নিশ্চিত করার জন্য এটি অপরিহার্য।
তিজিয়ানা বিয়োলঘিনি: নাগরিকদের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতি প্রণয়নই লক্ষ্য
রোম মহানগর পরিষদে সমান সুযোগ, সামাজিক নীতি, সংস্কৃতি ও অংশগ্রহণবিষয়ক দায়িত্বপ্রাপ্ত কাউন্সিলর তিজিয়ানা বিয়োলঘিনি বলেন, নাগরিকদের বাস্তব চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ অন্তর্ভুক্তিমূলক সামাজিক ও সাংস্কৃতিক নীতি গড়ে তোলাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে মেয়র গুয়ালতিয়েরির সঙ্গে এ লক্ষ্য সামনে রেখে কাজ শুরু হয়। সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংগঠনকে একত্র করে এমন একটি সমন্বিত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছে, যা বাস্তব ও অনুভূত বৈষম্য দূর করতে এবং বিদেশি নাগরিকদের জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
বিয়োলঘিনির মতে, রোম ও এর আশপাশের মহানগর এলাকাকে এমন একটি স্থানে পরিণত করা জরুরি, যেখানে বিদেশি কমিউনিটিগুলো সরকারি পরিষেবা, ব্যক্তিগত ও সামাজিক বিকাশের সুযোগ এবং পারস্পরিক যোগাযোগের পরিসরে পূর্ণ প্রবেশাধিকার পাবে। একই সঙ্গে শহরের নাগরিক জীবন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁদের সক্রিয় অংশগ্রহণের সুযোগও নিশ্চিত করতে হবে।
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ ও সংঘাতের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন স্থানে অভিবাসী ও বিদেশি কমিউনিটির অধিকার সংকুচিত হওয়ার প্রেক্ষাপটে রোমকে সত্যিকার অর্থে বহুসাংস্কৃতিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়ার পাশাপাশি বাস্তব জীবনে সমান সুযোগ ও অধিকার নিশ্চিত করাও জরুরি।
কাউন্সিলর আরও বলেন, নতুন এই পরিষদ শুধু অংশগ্রহণের জন্য একটি নতুন প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো নয়; বরং বহু বছর ধরে অসংখ্য নারী ও পুরুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। আন্তঃসাংস্কৃতিক সহাবস্থান নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন কমিউনিটি ও সংগঠনের জন্য স্থায়ী প্রতিনিধিত্বের ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তায় বিশ্বাসী ব্যক্তিদের ধারাবাহিক উদ্যোগের মধ্য দিয়েই এই পরিষদ গড়ে উঠেছে।
নতুন এই পরামর্শ পরিষদের কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে রোম মহানগর প্রশাসন ও বিদেশি কমিউনিটিগুলোর মধ্যে যোগাযোগ আরও সুসংগঠিত হওয়ার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, আবাসন, কর্মসংস্থান, প্রশাসনিক সুবিধা এবং নাগরিক অংশগ্রহণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে বিদেশি নাগরিকদের অভিজ্ঞতা ও প্রয়োজনীয়তা সরাসরি তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। সাতটি বাংলাদেশি সংগঠনের অন্তর্ভুক্তি ইতালিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির প্রতিনিধিত্ব ও সামাজিক সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
