
নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ফ্রান্সের চার্চে যৌন নির্যাতন কেলেংকারির ঘটনায় ‘লজ্জা’ প্রকাশ করেছেন পোপ ফ্রান্সিস। একটি স্বাধীন কমিশন কর্তৃক আড়াই বছর তদন্ত করার পর মংগলবার ২,৫০০ পাতার একটি প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়।
নথিতে ১৯৫০ সাল থেকে সাত দশক ধরে প্রায় ২ লাখ ১৬ হাজার নাবালককে ফরাসি ক্যাথলিক পাদ্রীরা যৌন নির্যাতন করেছে। এত বড় ঘটনা এতদিন ধরে নীরবতার চাদরে ঢাকা ছিলো বলে বলা হয়।
প্রতিবেদনটি প্রকাশ হলে সারাবিশ্বের মানুষ ক্যাথলিক চার্চদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এই ঘটনায় বুধবার পোপ ফ্রান্সিস তার সাপ্তাহিক সভায় – ভুক্তভোগীরা যে মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে গেছেন তার জন্য গভীর দুঃখবোধ ও বেদনা প্রকাশ করেন। এটি তার নিজের ও নিজদের লজ্জা বলে তিনি বলেন, চার্চ দীর্ঘ সময় ধরে এই বিষয়টিকে নিজেদের প্রাধান্যের কেন্দ্রবিন্দুতে আনতে অক্ষমতার পরিচয় দিয়েছে!’
‘আমি প্রার্থনা করছি,আমরা সকলে একত্রে প্রার্থনা করছি—আমাদের গৌরবময় প্রভুর নিকট। আমাদের লজ্জার জন্য! এটি লজ্জার সময়।’- বলে পোপ এ ধরনের পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি যাতে না হয় সেই লক্ষ্যে ধর্মযাজকদের কাজ করার আহবান জানান এবং ফরাসি পুরোহিতদের আশ্বাস জানিয়ে বলেন “এর বিচারটি হবে কঠিন কিন্তু স্বাস্থ্যকর।”
তিনি ফরাসি ক্যাথলিকদের “সবার জন্য গির্জা নিরাপদ বাড়ি হিসেবে নিশ্চিত করার জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করার” আমন্ত্রণ জানান। যাজকদের দ্বারা যৌন নিপীড়নের ঘটনার প্রকাশ ছিলো ২০১৩ সালে পোপ ফ্রান্সিস নির্বাচিত হওয়ার সময় সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি যাজকদের দায়মুক্তি অবসানের ঘোষণা দেন এবং ভ্যাটিকান আইনে পরিবর্তন এনে নিপীড়নের ঘটনা রিপোর্ট করা বাধ্যতামূলক করেন। কিন্তু ভুক্তভোগীরা তখনও সতর্ক করেছিলেন যে এসবকিছু যথেষ্ট নয়।
পোপ গত মঙ্গলবার তার মুখপাত্রের মাধ্যমে জারি করা এক বিবৃতিতে ক্ষতিগ্রস্থদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন তবে বুধবার তার নিজের করা মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি নিজের অবস্থান আরো পরিষ্কার করেন।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
