নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ফ্রান্সের পুলিশ প্যারিসে হোলোকাস্ট স্মৃতিসৌধে ভাংচুরের ঘটনায় সন্দেহভাজনদের ট্র্যাক করছে, যারা সম্ভবত বেলজিয়ামে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
ফরাসি কর্তৃপক্ষ এবং ইহুদি নেতারা এই ভাংচুরকে ইহুদিবিদ্বেষমূলক কাজ বলে আখ্যায়িত করেছেন, যা চলমান ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের সাম্প্রতিক উত্তেজনার সাথে সম্পর্কিত। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাখোঁ এই ঘটনাকে “ঘৃণ্য ইহুদিবিদ্বেষ” বলে অভিহিত করেছেন এবং হোলোকাস্টের শিকারদের এবং তাদের যারা জীবন বাজি রেখে ইহুদিদের বাঁচিয়েছিল তাদের স্মৃতি রক্ষার গুরুত্ব উল্লেখ করেছেন।
এই ঘটনার পর ফ্রান্সে ইহুদিবিদ্বেষমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্বেগজনক বৃদ্ধির প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। ইহুদি নেতারা এবং সংস্থাগুলি অসহিষ্ণুতা মোকাবেলা এবং হোলোকাস্টের ইতিহাস সম্পর্কে জনসাধারণকে শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার উপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
উল্লেখ্য গত ১৪ মে প্যারিসে হোলোকাস্ট স্মৃতিসৌধে ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। যেখানে স্মৃতিসৌধের ‘ওয়াল অফ দ্য রাইটিয়াস’ (ন্যায়পরায়ণদের দেয়াল) লাল হাতের ছাপ দিয়ে আক্রমন করা হয়। এই দিনটি নাৎসি বাহিনীর দ্বারা ১৯৪১ সালে ফরাসি ইহুদিদের প্রথম বড় আকারের গ্রেপ্তারের বার্ষিকী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়ে আসছে। ফরাসি কর্তৃপক্ষ এবং ইহুদি নেতারা এই ঘটনাকে ইহুদিবিদ্বেষমূলক এবং ঘৃণ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
প্যারিসের মেয়র অ্যান হিদালগো এই ভাংচুরের ঘটনাকে “লজ্জাজনক কাজ” বলে অভিহিত করেছেন এবং বলছেন, “এই ধরনের কাজ হোলোকাস্টের শিকারদের এবং যারা তাদের জীবন বাজি রেখে ইহুদিদের বাঁচিয়েছিলেন তাদের স্মৃতিকে অপবিত্র করে”।
ইহুদি সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে CRIF-এর প্রেসিডেন্ট ইয়োনাথান আরফি, এই ঘটনাকে স্পষ্টভাবে ইহুদিবিদ্বেষমূলক এবং সন্ত্রাসবাদের সমর্থন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এছাড়া, তারা দাবি করেছেন যে এই ধরনের কাজের মাধ্যমে সমাজে ঘৃণা এবং বিভাজন তৈরি করা হচ্ছে এবং এটি শিক্ষা এবং ঐতিহাসিক সচেতনতার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

