নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের (ছাত্রদল) সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহসের দুটি বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। সোমবার (২১ এপ্রিল) রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে ছাত্রদল নেতা পারভেজ হত্যার প্রতিবাদে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানকে “তথাকথিত আন্দোলন” আখ্যা দেন এবং বলেন, “সাধারণ শিক্ষার্থীরা রাজনীতির ‘র’ নিয়েও মাথা ঘামায় না।” তার এই বক্তব্য ভাইরাল হলে শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
সমালোচনার জবাবে রাত ১১টার পর ফেসবুকে পোস্টে গণেশ চন্দ্র রায় অসাবধানতাবশত ভুল উল্লেখ করে ক্ষমা চান। তিনি দাবি করেন, তার উদ্দেশ্য ছিলো ফ্যাসিবাদী শাসনে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরা, কিন্তু শব্দচয়নে ভুল হয়েছে। জুলাই-আগস্টের আন্দোলন সম্পর্কে “তথাকথিত” শব্দ ব্যবহারের জন্য তিনি “আন্তরিক দুঃখ” প্রকাশ করেন এবং বলেন, “এটি অনাকাঙ্ক্ষিত ছিলো; এই আন্দোলনের প্রতি আমার শ্রদ্ধা রয়েছে।”
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে সড়ক নিরাপত্তা ও শিক্ষা সংস্কারের দাবিতে দেশজুড়ে ছাত্রআন্দোলন গড়ে ওঠে, যা পরবর্তীতে গণঅভ্যুত্থানের রূপ নেয়। এই আন্দোলনকে “তথাকথিত” বলায় প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনগুলো গণেশের বক্তব্যকে “ইতিহাস বিকৃতি” ও “ছাত্র সংগ্রামের অবমূল্যায়ন” বলে নিন্দা করেছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাংশের শিক্ষার্থীরা তার ক্ষমা প্রার্থনাকে “চাপে পড়ে দেওয়া” বলেও সমালোচনা করেছেন।
এ ঘটনায় ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, নেতৃত্বের বক্তব্যে সংবেদনশীল ইস্যুতে সতর্কতা জরুরি। গণেশ ভবিষ্যতে “গঠনমূলক সমালোচনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক চর্চা এগিয়ে নেওয়ার” অঙ্গীকার করেছেন। বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতির গতিপ্রকৃতি ও ঐতিহাসিক আন্দোলনের মর্যাদা রক্ষায় এ ঘটনা পুনরায় সতর্কবার্তা দিয়েছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
