ঢাবিতে পাকিস্তানের 'স্বপ্নদ্রষ্টা' আল্লামা ইকবালের নামে হল দাবি

ঢাবিতে আল্লামা ইকবালের নামে হলের নামকরণের দাবি

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) পাকিস্তানের “স্বপ্নদ্রষ্টা” আল্লামা মুহাম্মদ ইকবালের নামে নতুন হল প্রতিষ্ঠার দাবি তুলেছে বিপ্লবী ছাত্র পরিষদ। গত সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে ইকবালের ৮৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এই দাবি উত্থাপন করা হয়। বক্তারা ইকবালের মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভূমিকাকে বাংলাদেশের জন্মের পূর্বশর্ত হিসেবে উল্লেখ করে তার নামে হল নির্মাণের তাগিদ দেন।

বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের নেতারা দাবি করেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে ইকবালের মুসলিম জাতীয়তাবাদী দর্শন ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান সৃষ্টির পথ তৈরি করেছিল, যা পরোক্ষভাবে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের অভ্যুদয়েরও ভিত্তি রচনা করে। সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মুহাম্মদ শামসুদ্দিনের মতে, “ইকবালের চিন্তা না থাকলে পূর্ব বাংলা ভারতের একটি রাজ্য হতো এবং এখানকার মুসলমানরা নিপীড়নের শিকার হতেন।” আল্লামা ইকবাল সোসাইটির সম্পাদক ড. আব্দুল ওয়াহেদ আরও যোগ করেন, স্বৈরশাসনামলে ইকবালের দর্শন চর্চা নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে তার আদর্শ পৌঁছে দেওয়া জরুরি।

ঢাবিতে ১৯৫৭ সালে ইকবালের নামে প্রতিষ্ঠিত ৫ম হলটি ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকের নামে পরিবর্তিত হয়। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে “জহুরুল হক হল” নামে স্বীকৃতি পায়। অনেকের মতে, ইকবালের দ্বিজাতি তত্ত্ব ও পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদী ভাবনা বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ ও বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনার বিপরীত। সমালোচকরা মনে করেন, পাকিস্তানি রাষ্ট্রচিন্তার সাথে যুক্ত ব্যক্তিত্বের নামে হল প্রতিষ্ঠা মুক্তিযুদ্ধের আদর্শকে ক্ষুণ্ন করতে পারে।

ইকবাল পারস্য ও উর্দু সাহিত্যের খ্যাতিমান কবি এবং “আধুনিক মুসলিম দার্শনিক” হিসেবে সমাদৃত। তার রচনা দক্ষিণ এশিয়ার সাংস্কৃতিক ইতিহাসের অংশ হলেও বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ে তার রাজনৈতিক দর্শনের স্থান নিয়েই মূল বিতর্ক।

এই দাবি ইতিহাসের পুনর্পাঠ ও জাতীয় ন্যারেটিভ নির্ধারণের লড়াইকে প্রতিফলিত করে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত করবে, ঢাবির প্রাঙ্গণে কি আবারও ইকবালের নাম ফিরে আসে, নাকি বিতর্কিত অতীতের ছায়া এড়িয়ে চলার পথ বেছে নেওয়া হয়।

 

-191

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.