নবকণ্ঠ ডেস্ক: হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের আয়-ব্যয়ের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গঠিত ১২ সদস্যের উচ্চপর্যায়ের কমিটিকে ঘিরে সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমের বদলি এবং মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে তার নেওয়া উদ্যোগের ঘটনাপ্রবাহ আবারও সামনে চলে এসেছে।
নবগঠিত কমিটির নেতৃত্বে রয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। তবে এতে স্থান পাননি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী এবং সিলেট সিটি করপোরেশনের দুইবারের নির্বাচিত সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। দুজনই সিলেট বিএনপির প্রভাবশালী নেতা ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনীতিতে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

কমিটির সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, বিভাগীয় কমিশনার, সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার, জেলা পরিষদের প্রশাসক, মাজারের মোতোয়াল্লি পরিবারের প্রতিনিধি এবং মাজার মাদরাসা ও মসজিদের প্রতিনিধি। জেলা প্রশাসক কমিটির সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।
আরিফুল হক চৌধুরীকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত না করায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা ব্যাখ্যা সামনে এলেও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেননি দুই মন্ত্রী। সাংবাদিকদের একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা সত্ত্বেও তারা সাড়া দেননি।
এদিকে স্থানীয় বিএনপির নেতারাও প্রকাশ্যে মন্তব্য করতে অনীহা প্রকাশ করেছেন। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক নেতা মনে করছেন, মাজার যেহেতু পুরো সিলেটের ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িত, তাই বৃহত্তর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা হলে বিতর্কের সুযোগ কম থাকত।
অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই এই কমিটি গঠনের মূল উদ্দেশ্য। তিনি জানান, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী দানের অর্থ গণনা করে ব্যাংকে জমা রাখা হবে।
উল্লেখ্য, গত জুন মাসে তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম মাজারের দানবাক্স সিলগালা এবং দানের অর্থ প্রকাশ্যে গণনার উদ্যোগ নেন। দীর্ঘদিন ধরে অস্বচ্ছ বলে সমালোচিত দান ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণে আনার এই পদক্ষেপ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। তবে ওই ঘটনার কিছুদিনের মধ্যেই তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়। এরপর থেকেই তার বদলি এবং মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নেওয়া উদ্যোগের মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না—তা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়, যদিও এ বিষয়ে সরকারিভাবে কোনো কারণ জানানো হয়নি। আর এখন মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা তদারকিতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের পর সেই পুরোনো আলোচনাই নতুন করে সামনে এসেছে।
