নবকণ্ঠ ডেস্কঃ টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলায় জমি বিরোধকে কেন্দ্রে রোববার সকালে ভাতিজা পারভেজের হাতে চাচা ফজল হকের নৃশংস হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এ হামলায় ফজলের স্ত্রী মরিয়ম বেগম (৪০) ও ছেলে মনির হোসেনও গুরুতর আহত হয়েছেন। ঘটনায় উত্তেজিত স্থানীয়রা অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন।
সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বাঁশতৈল ইউনিয়নের বংশীনগর পশ্চিম পাড়ায় ফজল হক (৫০) নিজ বাড়ির সামনে ভাতিজা পারভেজ (৩০) ও তার ভাড়াটে সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হন। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে পারভেজের সঙ্গে ফজলের জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল। পারভেজ প্রতিশোধ নিতে সখিপুর উপজেলার হাতিবান্ধা এলাকা থেকে পিকআপে করে সশস্ত্র সন্ত্রাসী ভাড়া নিয়ে আসেন। কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে তারা লাঠি, দা ও কুড়াল দিয়ে ফজল, তার স্ত্রী ও ছেলেকে নির্মমভাবে পিটিয়ে রক্তাক্ত করে। প্রতিবেশীদের চিৎকারে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে গেলে আহতদের টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে চিকিৎসক ফজলকে মৃত ঘোষণা করেন।
ফজল হক স্থানীয় তক্তারচালা বাজারে ডেকারেশনের ব্যবসার পাশাপাশি বাঁশতৈল ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি পদে মনোনীত হয়েছিলেন। নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা পুলিশের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন।
মির্জাপুর থানার ওসি মো. মোশারফ হোসেন জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। তিনি জানান “অভিযুক্তদের গ্রেফতারে তদন্ত ত্বরান্বিত করা হয়েছে,
গ্রামাঞ্চলে জমি বিরোধকে কেন্দ্রে সশস্ত্র হামলার এ ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বৃদ্ধি পাওয়া সহিংসতার প্রতিচ্ছবি। স্থানীয় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বিরোধ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হচ্ছে বলে সমাজবিদরা মন্তব্য করেছেন। ফজল হকের রক্তাক্ত শার্ট ও বাড়ির সামনের রক্তের দাগ এখনও এই নির্মমতার সাক্ষ্য দিচ্ছে। আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে এমন হত্যাকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি থামবে না বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
