নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসচিব অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার এর একটি মন্তব্য করে দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। গত বুধবার ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতের এক সমাবেশে তিনি দাবি করেন, ‘‘১৯৭১ সালে প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি, বরং ২০২৪ সালে দ্বিতীয় স্বাধীনতা এসেছে।’’ এ সময় তিনি জুলাই-আগস্ট মাসে সংঘটিত গণহত্যার ‘‘দৃশ্যমান বিচার’’ ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত না করলে তা ‘‘বিতর্কিত’’ হবে বলে মন্তব্য করেন।
পরওয়ারের এই বক্তব্য ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনার বিরুদ্ধে সরাসরি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি সমাবেশে আরও অভিযোগ তোলেন, ‘‘আওয়ামী ফ্যাসিবাদের মতোই আচরণ করছেন কিছু ফ্যাসিস্টবিরোধী গোষ্ঠী। জামায়াতের সঙ্গে থাকলে তাদের ‘সঙ্গী’ বলা হয়, না থাকলে ‘জঙ্গি’ বলে চিহ্নিত করা হয়।’’ এছাড়া, জাতীয় বিভাজন তৈরির উদ্দেশ্যে ঐতিহাসিক ইস্যু বারবার উত্থাপন করে জামায়াতকে টার্গেট করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে, জামায়াতে ইসলামীর একটি অংশ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী হিসেবে কাজ করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও দলটি বর্তমানে রাজনৈতিক সংস্কারের পক্ষে দাবি করছে, তাদের অতীতের ভূমিকা নিয়ে সমাজে সংশয় রয়ে গেছে। সম্প্রতি আদালতের রায়ে দলটির নিবন্ধন বহাল রাখা হলেও তাদের রাজনৈতিক বৈধতা নিয়ে বিতর্ক থামেনি।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নির্বাচনের আগে জামায়াতের এমন বক্তব্য উদ্দেশ্যমূলক। এটি জাতীয় সংলাপের পরিবর্তে বিভাজনের রাজনীতিকে উসকে দিতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষে জোরালো প্রতিক্রিয়া দেখানোর পেছনে রয়েছে জামায়াতের অতীত ইস্যুকে পুনর্বিবেচনার চেষ্টা। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী মহল এই বিতর্ককে ‘‘রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের প্রতি হুমকি’’ হিসেবে দেখছেন।
একাত্তরের চেতনা বনাম জামায়াতের বর্তমান অবস্থান—এই দ্বন্দ্ব আগামী দিনের রাজনীতিকে কীভাবে প্রভাবিত করে, তা এখনই বোঝা কঠিন। তবে, জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে এই বিতর্ক রাজনৈতিক অঙ্গনের উত্তাপ আরও বাড়াবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
