নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ভারতের গুজরাট রাজ্যে এক হাজারের বেশি বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে দেশটির কঠোর নিরাপত্তা ও অভিবাসন নীতির প্রতিফলন ঘটেছে। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত গুজরাটের আহমেদাবাদ ও সুরাটে যৌথ বাহিনীর অভিযানে ১০২৪ জন বাংলাদেশিকে আটক করা হয়। এদিকে, ভারতশাসিত কাশ্মীরের পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার জেরে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে তাৎক্ষণিকভাবে দেশত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুজরাটের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হর্ষ সাংঘভি শনিবার জানান, আহমেদাবাদ থেকে ৮৯০ এবং সুরাট থেকে ১৩৪ বাংলাদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয় বলে ডেপুটি পুলিশ কমিশনার রাজদীপ সিং নাকুম (সুরাট) ও যুগ্ম পুলিশ কমিশনার শরদ সিঙ্ঘল (আহমেদাবাদ) জানান। তাদের দাবি, এরা জাল নথি ব্যবহার করে অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশ করেছিলেন। তদন্ত শেষে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। গুজরাটে এটিই অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় অভিযান। এর আগে এপ্রিল ২০২৪-এ দুটি এফআইআরে ১২৭ বাংলাদেশিকে আটক করে ৭৭ জনকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়।
অন্যদিকে, পহেলগামে পর্যটকদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে ভারত। অভিযোগ রয়েছে, পাকিস্তান-ঘেঁষা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এই হামলার পেছনে জড়িত। এরপরই কেন্দ্রীয় সরকার পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসা বাতিল করে দ্রুত দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেয়। রাজ্যগুলোকে বলা হয়েছে, কোনো পাকিস্তানি নাগরিক যেন অবৈধভাবে অবস্থান করতে না পারেন, তা নিশ্চিত করতে।
বাংলাদেশি অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তার এবং পাকিস্তানি ভিসা বাতিল—দুই ঘটনাই ভারতের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত নীতির কঠোর রূপ নির্দেশ করে। গুজরাটের অভিযান রাজ্যটিতে ক্রমবর্ধমান অবৈধ অনুপ্রবেশের চ্যালেঞ্জকে সামনে এনেছে, অন্যদিকে কাশ্মীর হামলার জবাবে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ঐতিহাসিক সন্দেহের প্রতিফলন ঘটেছে। সরকারি সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

