ভ্যাটিকান সিটিতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ব্যাস্ত সময় পার করছেন প্রধান উপদেষ্টা

ভ্যাটিকান সিটিতে বিশ্বনেতাদের সঙ্গে ব্যাস্ত সময় পাড় করছেন প্রধান উপদেষ্টা

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ও গ্রামীণ ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা, বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রাধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ভ্যাটিক্যান সিটিতে পোপ ফ্রান্সিসের অন্ত্যেষ্টি ক্রিয়ায় অংশ নিয়ে বিশ্বজুড়ে শোক প্রকাশ ও আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সংলাপে মিলিত হয়েছেন। শনিবার (২৬ এপ্রিল) সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগ দিয়ে তিনি প্রয়াত পোপের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। এরপরে তিনি বিশ্বের ১৩০টিরও বেশি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান ও আন্তর্জাতিক সংস্থার নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।

গত শুক্রবার (২৫ এপ্রিল) ড. ইউনূস ভ্যাটিক্যান সিটির সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকায় গিয়ে পোপ ফ্রান্সিসের মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শনিবার সকালে সেন্ট পিটার্স স্কোয়ারে পোপের কফিনের সামনে নীরবে দাঁড়িয়ে শেষ শ্রদ্ধা প্রকাশের পর তিনি জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস, ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লিয়েন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, কেনিয়া ও ফিনল্যান্ডের প্রেসিডেন্টসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও আলোচনা করেন। এছাড়া, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেডরস ঘেব্রেইয়েসুস, আইওসি প্রেসিডেন্ট টমাস বাখ ও সাবেক মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জন কেরির সঙ্গেও তাঁর সাক্ষাৎ হয়।

পোপ ফ্রান্সিস ড. ইউনূসের সামাজিক উদ্যোগ, বিশেষত ‘থ্রি জিরো’ (শূন্য দারিদ্র্য, শূন্য বেকারত্ব, শূন্য কার্বন নিঃসরণ) ভিশনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল ছিলেন। ২০০৬ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী ইউনূসের সঙ্গে ভ্যাটিক্যান যৌথভাবে ‘থ্রি জিরো’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল। পোপের মৃত্যুতে ড. ইউনূস তাঁর এক বিবৃতিতে বলেন, “পোপ ফ্রান্সিস ছিলেন মানবতা ও ন্যায়বিচারের প্রতীক। তাঁর প্রেরণা বিশ্বজুড়ে টেকসই উন্নয়নে কাজ করবে।”

বাংলাদেশের সঙ্গে ভ্যাটিক্যানের কূটনৈতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের এই সক্রিয় অংশগ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ২০১৭ সালে পোপ ফ্রান্সিসের ঢাকা সফর এবং রোহিঙ্গা সংকটে তাঁর ভূমিকা বাংলাদেশে স্মরণীয়। এছাড়া, সামাজিক ব্যবসা ও জলবায়ু ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে ড. ইউনূসের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি বাংলাদেশের নরম শক্তিকে শাণিত করছে।

রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মধ্যেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ড. ইউনূসের এই সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর এই সংযোগ বাংলাদেশের জন্য নতুন কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

 

-191

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *