৩২ নম্বরে অনাকাঙ্খিত ঘটনার জন্য দায়ী হাসিনার উস্কানি: - সরকার

৩২ এর অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির জন্য দায়ী হাসিনার উস্কানি: সরকার

নবকণ্ঠ ডেস্কঃ ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা অনভিপ্রেত ও অনাকাঙ্ক্ষিত তবে এর জন্য দায়ী পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা। আজ এক ফেসবুক পোস্টে হাসিনাকে অভিযুক্ত করে বিবৃতি দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ইউনুস। পলাতক অবস্থায় ভারতে বসে জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উসকানিমূলক বক্তব্য জনমনে গভীর ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে, যার বহিঃপ্রকাশ এই ঘটনায় ঘটেছে বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

তিনি আরো বলেন, গত ছয় মাসে ৩২ নম্বর বাড়িতে কোনো ধরনের আক্রমণ বা ধ্বংসযজ্ঞ হয়নি। তবে গতকাল রাতে এটি ঘটেছে পলাতক শেখ হাসিনার বক্তব্যের কারণে, যার দুটি দিক রয়েছে।

প্রথমত, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আত্মত্যাগকারী শহিদদের প্রতি শেখ হাসিনা অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। শহিদদের মৃত্যু সম্পর্কে অসংলগ্ন, বিভ্রান্তিকর ও বিদ্বেষমূলক বক্তব্য দিয়ে তিনি গণঅভ্যুত্থানকে উপেক্ষা করেছেন ও অসম্মান জানিয়েছেন।

দ্বিতীয় দিকটি হল, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও নিপীড়নের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় শেখ হাসিনা যে ভাষায় কথা বলতেন, পালিয়ে যাওয়ার পরও তিনি একই হুমকি-ধমকির সুর বজায় রেখেছেন। তিনি গণঅভ্যুত্থান ও এতে অংশগ্রহণকারী জনগণের বিরুদ্ধে লাগাতার হুমকি দিয়ে চলেছেন এবং দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।

জুলাই গণহত্যার ক্ষত মানুষের মনে রয়ে গেছে বলে উল্লেখ করে, শেখ হাসিনা একের পর এক বক্তব্য দিয়ে সেই ক্ষতের ওপর আঘাত হানছেন বলে অভিযোগ করে প্রফেসর ইউনুস বলেন, তার এই উসকানিমূলক আচরণের প্রতিক্রিয়াস্বরূপ ৩২ নম্বর বাড়িতে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশ ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

এ বিবৃতিতে তিনি বলেন, “মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত এবং ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি শেখ হাসিনা যদি উসকানিমূলক বক্তব্য থেকে বিরত থাকেন, তবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি এড়ানো সম্ভব”।

“সরকার আশা করে, ভারত তার ভূখণ্ডকে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির কাজে ব্যবহৃত হতে দেবে না এবং পলাতক শেখ হাসিনাকে এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেবে না। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ভবিষ্যতে এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার পুনরাবৃত্তি চায় না।”

জুলাই গণহত্যায় জড়িতদের বিচারকাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এই বিচার নিশ্চিত করে গণহত্যাকারীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কী ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, তা সরকার খতিয়ে দেখবে বলে ঘোষনা দেন তিনি।

 

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.