নবকণ্ঠ ডেস্কঃ সম্প্রতি হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)-এর এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে যে, বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হাসিনা গুম ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে ও সেনাবাহিনীর সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আবদুল্লাহিল আমান আযমী ২০১৬ সালের ২২ আগস্ট রাতে নিখোঁজ হন। জামায়াত দাবি করে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাকে তুলে নিয়ে যায়, যদিও সরকার পক্ষ থেকে এ অভিযোগ অস্বীকার করা হয়।
পরবর্তীতে, আওয়ামী লীগ সরকার তাকে সেনাবাহিনী থেকে অব্যাহতি দেয়। তবে দীর্ঘ আট বছর নিখোঁজ থাকার পর, ২০২৫ সালের ৭ আগস্ট তিনি বাড়ি ফেরেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, হাসিনা তার বন্দি দশা সম্পর্কে জানতেন এবং তার মুক্তির অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। একপর্যায়ে তাকে হত্যার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়।
এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার শাসনামলে নিরাপত্তা বাহিনী বিরোধী নেতাদের দমন-পীড়নে ব্যবহার করা হয়েছে। গত ১৫ বছরে হাজারো মানুষ গুম হয়েছে এবং অনেকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, শেখ হাসিনার শাসনামলে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীগুলো দলীয়করণ করা হয়েছিল এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বহু ঘটনা ঘটেছে। প্রতিবেদনে র্যাব বিলুপ্ত করা এবং নিরাপত্তা বাহিনীগুলোর সংস্কার করার সুপারিশ করা হয়েছে।
এছাড়া, হাসিনা দেশত্যাগের পর নিখোঁজ থাকা কয়েকজন, যেমন মাইকেল চাকমা, মীর আহমেদ বিন কাসেম এবং আবদুল্লাহিল আমান আযমী মুক্তি পান। তারা জানান, তাদের নির্জন কারাগারে আটকে রাখা হয়েছিল এবং সেখানে আরও বন্দি ছিলেন।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিল এবং এসব সিদ্ধান্ত সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নেওয়া হতো।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
