নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসির-কে দেশের সকল সেনানিবাস ও সামরিক স্থাপনায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ‘পারসোনা নন গ্রাটা’ (অবাঞ্ছিত ব্যক্তি) ঘোষণা করেছে। সামরিক সূত্রে প্রাপ্ত গোপন নথি অনুযায়ী, এই নির্দেশনা সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান-এর অনুমোদনে জারি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পেছনে সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামানের প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সূত্র থেকে অভিযোগ তোলা হচ্ছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে মুখ খোলার জেরে অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ হাসান নাসিরের প্রতি বিরাগ ভাজন হয়ে থাকতে পারেন জেনারেল ওয়াকার।
সামরিক সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সেনা নথিতে বিএ-১৫৫৮ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মোহাম্মদ হাসান নাসিরকে পারসোনা নন গ্রাটা (Persona Non Grata) বা অবাঞ্ছিত ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর ফলে দেশের সকল সেনানিবাস, সামরিক এলাকা ও প্রতিষ্ঠানে তার প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
এই নথিটি মঙ্গলবার প্রকাশ করেন অবসরপ্রাপ্ত আরেক কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মুস্তাফিজুর রহমান। তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিশোধের অংশ। কারণ, ব্রিগেডিয়ার নাসির জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং বিডিআর হত্যাকাণ্ডের সময়কার বেশ কিছু গোপন ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জনসমক্ষে নিয়ে এসেছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, বর্তমান সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ জামান পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন এবং আওয়ামী লীগের স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছেন। এমনকি বিডিআর হত্যাকাণ্ড ও ফ্যাসিস্ট শাসনামলে গুম-খুনে জড়িত সেনা কর্মকর্তাদেরও রক্ষা করছেন বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্রিগেডিয়ার হাসান নাসিরের মতো একজন অবসরপ্রাপ্ত ও অভিজ্ঞ সেনা কর্মকর্তাকে এভাবে হেনস্তা করা দেশের সামরিক ও গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অশনিসঙ্কেত। গণঅভ্যুত্থানে সক্রিয় ভূমিকা রাখা ও সেনাবাহিনীর মধ্যে সত্য উচ্চারণ করাই এখন তাকে অবাঞ্ছিত করে তুলেছে।
সামরিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই ঘটনাটি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সামরিক নিরপেক্ষতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
