নবকণ্ঠ ডেস্কঃ সমুদ্রপথে সুদান থেকে সৌদি আরব পৌঁছেছে হজযাত্রীদের প্রথম কাফেলা। গত ২৭ মে হজযাত্রীদের দলটি জেদ্দা ইসলামিক বন্দরে পৌঁছে। এ সময় বন্দর কর্তৃপক্ষ তাদের ফুল ও খেজুর উপহার দিয়ে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।
প্রথম হজ কাফেলা জাহাজে করে জেদ্দায় পৌঁছানোর খবরটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং উত্সাহব্যঞ্জক। এটা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত যা মুসলিম সম্প্রদায়ের জন্য বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ মুসলিম সারা বিশ্ব থেকে মক্কায় আসেন হজ্জ পালনের উদ্দেশ্যে। তবে এবার ব্যাতিক্রম ভাবে সুদান জলপথে হজ্জ্ব কাফেলার নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে।
বিশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে এয়ার ট্র্যাভেল সহজলভ্য হওয়ার আগে, বহু হাজী সমুদ্রপথে হজ করতে যেতেন।র সমুদ্রপথে হজের শেষ বড় কাফেলা সাধারণত ১৯৫০-এর দশকের শেষ দিকে বা ১৯৬০-এর দশকের শুরুর দিকে হয়েছিল। সেই হিসেবে প্রায় অর্ধশত বছর পর কোন হজ্জ্ব কাফেলা সমুদ্রপথে সৌদি-আরব পদার্পণ করল।
সুদানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, দেশটির উসমান দিকনা বন্দর হয়ে হজযাত্রীদের প্রথম দলটি যাত্রা শুরু করে। প্রথম দফায় দেশটির খারতুম ও কাসলা প্রদেশের ৭৭২ জন গমন করেন। তাঁরা ১৬টি দলে বিভক্ত হয়ে প্রথমে মদিনায় যাবেন। সৌদি আররেব বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সমুদ্রপথে হজযাত্রীদের আগমন ও প্রস্থান সহজ করতে বিশেষ লজিস্টিক পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই ঘটনাটি হজের প্রস্তুতি এবং সংগঠনের দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন দেশ থেকে আসা হাজীদের সঠিকভাবে পরিচালনা ও সেবা প্রদান করা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। জেদ্দায় পৌঁছানোর পর হাজীরা প্রথমে মক্কার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন এবং সেখানে তাদের হজের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
এই প্রথম কাফেলার আগমন নিঃসন্দেহে একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত এবং এটি হজের মৌসুমের সূচনা ঘোষণা করে। হাজীদের জন্য এটি একটি উল্লাসের মুহূর্ত এবং ধর্মীয় কর্তৃপক্ষদের জন্য এটি একটি বৃহৎ দায়িত্বের সূচনা।
সৌদি আরবের পাসপোর্ট বিভাগ জানিয়েছে, এবারের হজে অংশ নিতে এখন পর্যন্ত পাঁচ লাখ ৩২ হাজার ৯৫৮ জন পৌঁছেছেন। এরমধ্যে আকাশপথে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ৭২৯ জন সৌদি আরব গিয়েছেন। আর স্থলপথে ৯ হাজার ২১০ জন এবং সমুদ্রপথে ১৯ জন দেশটিতে প্রবেশ করেন।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

