মান্ধাতা আমলের বিমানে আটকে রেখে পাইলট হ/ত্যা- হাসিনার হাসি, ভারতের সাফল্য

মান্ধাতা আমলের বিমানে আটকে রেখে পাইলট হ/ত্যা- হাসিনার হাসি, ভারতের সাফল্য

এন আই মাহমুদ – আজকের দিনে উত্তরার মাইলস্টোন স্কুলের উপর ভেঙে পড়েছে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি F-7 BGI যুদ্ধবিমান। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই শুনছেন একসময়ের যুদ্ধ বিমানগুলোই প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছিল যা অন্য কোনো দেশ ভাঙ্গাড়ি কিম্বা যাদুঘরের জন্য নিতেও লজ্জাবোধ করবে। এই বিমানটি চীনে তৈরি একটি পুরনো প্রজন্মের বিমান, যার উৎপাদন শুরু হয়েছিল ১৯৬০-এর দশকে এবং BGI সংস্করণটি সামান্য আপগ্রেড হলেও বিশ্বমানের আধুনিক যুদ্ধবিমান হিসেবে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য না এটা কে না জানে? আজকের এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন সাহসী পাইলট ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মো. তৌকির ইসলাম এবং সঙ্গে সঙ্গে প্রায় ২০ জন সাধারণ নাগরিক, যাদের মধ্যে স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পথচারীও ছিলেন। প্রায় প্রতিবছর এসব মান্ধাতা আমলে বিমানে করে পাইলট বলি দেয়ার রেওয়াজ চালু করেছিল পতিত স্বৈরাচার হাসিনা।

এই প্রযুক্তিগত পশ্চাদপদতা কোনো দুর্ঘটনা বা আর্থিক অক্ষমতার ফল নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের ফসল। পতিত স্বৈরাচার হাসিনা ও তাঁর মিত্র ভারত বহুদিন ধরেই বাংলাদেশকে সামরিকভাবে দুর্বল রাখার নীলনকশা বাস্তবায়ন করে আসছে। একসময় মিগ-২৯ যুদ্ধবিমান কেনার নামে বিদেশ থেকে আটটি বিমানের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ থেকে দেশে আনা হয় মাত্র কয়েকটি বিমান, যার কিছু আবার স্থায়ীভাবে অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। এই দুর্নীতি গোপন রাখতে ভারতীয় প্রভাবশালী মহলের ইশারায় প্রকৃত তদন্তও করা হয়নি।

ফ্যাসিস্ট হাসিনা যে কেবল ভারতীয় দালালি করে গেছে তা নয়, বরং ১৯৮১ সালে তার বাবার নিজ হাতে নিষিদ্ধ করা আওয়ামী লীগের ঝান্ডা নিয়ে তিনি একটি স্বাধীন জাতিকে পরাধীন করার যেটুকু বাকি ছিল তা সম্পুর্ণ করার দায়িত্ব পালনে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেন। আজকের এই দুর্ঘটনা তাঁর সেই ষড়যন্ত্রেরই আরেকটি সাফল্য, যেখানে একটি দেশ থেকে টাকা পাচার করে গরীব বানিয়ে রাখা হয়েছে। দেশের সীমিত সামরিক সম্পদ ও মূল্যবান মানবসম্পদ হারাচ্ছে পুরনো যুদ্ধবিমান ব্যবহার করার কারণে। এই বিমান বাহিনীর আধুনিকায়ন, স্যাটেলাইট ভিত্তিক ন্যাভিগেশন, রাডার আপগ্রেড, বা মাল্টিরোল ফাইটার সংগ্রহের যে কোনো পরিকল্পনা তিনি বরাবরই দমন করেছেন যাতে দেশ কখনোই ভারতবিরোধী প্রতিরক্ষা সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে। বাংলাদেশের আকাশসীমার নজরদারীও ৫৪ বছর ধরে ছিল ভারতের হাতে। রাডার কিনে এনেও তা চালু করার অনুমতি মেলে নি অবৈধ প্রধানমন্ত্রীর দরবার থেকে।

এই দূর্ঘটনা শুধুমাত্র একটি প্রযুক্তিগত ব্যর্থতা নয়, বরং তা বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তাকে ধ্বংস করার এক দীর্ঘপ্রতীক্ষিত সফল মুহূর্ত—যা হাসিনা ও তাঁর প্রভুদের পক্ষে এক ঐতিহাসিক বিজয় হিসেবে গণ্য হচ্ছে। আজ এই জাতি দেখছে কীভাবে এক স্বৈরাচার দাঁত বের করে হাসছে, যখন তার শাসনকালীন ষড়যন্ত্রে আরেকটি পরিবার শোকের সাগরে ভাসছে।

এটা কেবল বিমান দুর্ঘটনা নয়—এটা একটা সুপরিকল্পিত দীর্ঘমেয়াদে চলমান রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ড।

 

 

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.