নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশের নতুন পাসপোর্টে পুনরায় “ইসরায়েল ব্যতীত সকল দেশে বৈধ” (“Valid for all countries except Israel”) শর্ত যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাসপোর্ট ও ভিসা বিভাগের এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে গতকাল রোববার নিশ্চিত করেছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব নীলিমা আফরোজ। ২০২০ সালে ই-পাসপোর্ট চালুর পর এই বাক্যটি বাদ দেওয়া হলে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম নেয়।
বাংলাদেশের পাসপোর্টে দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার প্রতীক হিসেবে “ইসরায়েল ব্যতীত” লেখা থাকলেও ২০২০ সালে ডিজিটাল ই-পাসপোর্ট চালু করার সময় সরকার এটি অপসারণ করে। তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এই সিদ্ধান্তকে “প্রযুক্তিগত পরিবর্তন” বলে উল্লেখ করে জানান, “ইসরায়েলকে স্বীকৃতি না দেওয়ার নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসেনি।” তবে ২০২১ সালের মে মাসে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্ট দাবি করে, বাংলাদেশ ইসরায়েলে ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে। এরপর মোমেন স্পষ্ট করেন, “ইসরায়েলে গমনকারী কোনো বাংলাদেশিকে শাস্তি পেতে হবে,” যদিও এ সংক্রান্ত আইনি প্রয়োগের নজির খুবই কম।
গাজায় ইসরায়েলি হামলা ও ফিলিস্তিনি সংকটের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে ইসরায়েল-বিরোধী জনমত তীব্র হয়। গত ১৩ এপ্রিল রাজধানীতে “মার্চ ফর গাজা” শীর্ষক বিক্ষোভে পাসপোর্টে “ইসরায়েল ব্যতীত” শর্ত ফিরিয়ে আনার দাবি তোলা হয়। এছাড়া সরকারের বিরোধী রাজনৈতিক মহলও দীর্ঘদিন ধরে এই দাবি জানিয়ে আসছিল। বিশ্লেষকদের মতে, ফিলিস্তিনি ইস্যুতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, পাসপোর্ট অধিদপ্তর শিগগিরই নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়ন করবে। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাংলাদেশ আবারও জানিয়ে দিল, ইসরায়েলের স্বীকৃতি বা কূটনৈতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার প্রশ্নে তাদের নীতি অপরিবর্তিত।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

