নবকণ্ঠ ডেস্ক: বিশ্বকাপ ২০২৬ যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই সম্ভাব্য শিরোপা দাবিদার দলগুলো নিয়ে আলোচনা বাড়ছে ফুটবল অঙ্গনে। সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ফ্রান্স। সাম্প্রতিক বছরগুলোর ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং অভিজ্ঞতা-তরুণদের সফল সমন্বয়ের কারণে দলটিকে আসন্ন বিশ্বকাপের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
ফরাসি আক্রমণভাগের মূল ভরসা কিলিয়ান এমবাপ্পে। তার গতি, দক্ষতা এবং ম্যাচের ফল বদলে দেওয়ার সামর্থ্য ইতোমধ্যেই বিশ্ব ফুটবলে প্রমাণিত। তার সঙ্গে রয়েছেন ওসমান দেম্বেলে, মাইকেল অলিজে, দেজিরে দুয়ে এবং ব্র্যাডলি বারকোলা। এই পাঁচজনকে ঘিরে গড়ে ওঠা আক্রমণভাগকে বর্তমান সময়ের অন্যতম ভয়ংকর ইউনিট বলে মনে করা হচ্ছে।
মধ্যমাঠেও রয়েছে দারুণ ভারসাম্য। অরেলিয়েন চুয়ামেনি, এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, আদ্রিয়েন রাবিও এবং ওয়ারেন জায়ের-এমেরি-র মতো খেলোয়াড়রা বল দখল, খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ এবং আক্রমণ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম। বিশেষ করে তরুণ ও অভিজ্ঞ ফুটবলারদের সমন্বয় ফরাসি মিডফিল্ডকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।

রক্ষণভাগেও শক্তির কোনো ঘাটতি নেই। উইলিয়াম সালিবা, দায়ো উপামেকানো, জুল কুন্দে এবং থেও এরনান্দেজ মিলে গড়ে তুলেছেন একটি শক্তিশালী ডিফেন্স লাইন। অন্যদিকে গোলবারের নিচে আস্থার প্রতীক মাইক মেনিয়াঁ, যাকে বর্তমান প্রজন্মের সেরা গোলরক্ষকদের একজন হিসেবে ধরা হয়।
ফ্রান্সের আত্মবিশ্বাসের বড় উৎস তাদের সাম্প্রতিক বিশ্বকাপ ইতিহাস। ২০১৮ ফিফা বিশ্বকাপ-এ শিরোপা জয় এবং ২০২২ ফিফা বিশ্বকাপ-এ ফাইনালে খেলার অভিজ্ঞতা দলটিকে বড় মঞ্চে বাড়তি সুবিধা দিতে পারে। চাপের মুহূর্তে নিজেদের সেরাটা বের করে আনার সক্ষমতা ফরাসি দলের অন্যতম বড় শক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
তবে বিশ্বকাপ জয়ের পথ মোটেও সহজ নয়। স্পেন, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল এবং ইংল্যান্ড-এর মতো শক্তিশালী দলগুলোও শিরোপার দৌড়ে রয়েছে। নকআউট পর্বে একটি ভুল কিংবা একটি ম্যাচের ফলাফল পুরো টুর্নামেন্টের চিত্র বদলে দিতে পারে।
সংবাদ বিশ্লেষণ
বর্তমান স্কোয়াডের গভীরতা, খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ধারাবাহিক সাফল্যের বিচারে ফ্রান্সকে বিশ্বকাপ ২০২৬-এর সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদারদের অন্যতম বলা যায়। বিশেষ করে কিলিয়ান এমবাপ্পের নেতৃত্বে দলটি যদি নিজেদের সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা মাঠে দেখাতে পারে, তাহলে আরেকবার বিশ্বকাপ ট্রফি জয়ের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ নিতে পারে। তবে ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে শুধু শক্তিশালী দল হলেই হয় না; প্রয়োজন ধারাবাহিকতা, কৌশলগত সফলতা এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা। সবকিছু পরিকল্পনামাফিক হলে বিশ্বকাপ শেষে আবারও ফরাসি সমর্থকদের উল্লাসে মেতে উঠতে দেখা যেতে পারে।
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
