নবকণ্ঠ ডেস্কঃ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রয়োজনে আবারও রাজপথে নামতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২৯ মার্চ) রাজধানীর বেরাইদে দুস্থদের মধ্যে ঈদ উপহার বিতরণ অনুষ্ঠানে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর এ বক্তব্য সামনে আসার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন উত্তাপের ইঙ্গিত মিলছে।
ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা সরকার বিএনপির ২০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা, ১ হাজার ৭০০ জনকে গুম এবং ৬০ লাখ মানুষের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে।” তিনি দাবি করেন, “আল্লাহর অলৌকিক শক্তিতে হাসিনা বিতারিত হয়ে গেছেন, এখন মুক্ত পরিবেশে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করবই।” এ প্রসঙ্গে তিনি বিদেশি ষড়যন্ত্রের কথাও উল্লেখ করে বলেন, “বাংলাদেশের মানুষকে কেউ বিভ্রান্ত করতে পারবে না। আমরা ভারত, পাকিস্তান, আমেরিকা বা ইংল্যান্ডের পক্ষে নই—বাংলাদেশের পক্ষে।”
ফখরুল ইসলামের ভাষ্যমতে, বিএনপি বর্তমানে “সাধারণ মানুষের কাছে ঈদ-ইফতার সামগ্রী নিয়ে যাচ্ছে” এবং সংঘাত এড়িয়ে রাজনীতি করছে। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, “জনগণের স্বার্থে কোনো বিঘ্ন ঘটলে আমরা মাঠে নামব। দাবি আদায়ে আমরা রাজপথে সংগ্রাম করতে জানি।” এজন্য দলীয় নেতাকর্মীদের “সজাগ ও প্রস্তুত” থাকার তাগিদ দেন তিনি।
বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা এমন নির্বাচন চাই, যেখানে মানুষ স্বাধীনভাবে ভোট দেবে। সব ষড়যন্ত্র ব্যর্থ করে জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করব।” তিনি দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বক্তব্য উদ্ধৃত করে জোর দেন, “সবার আগে বাংলাদেশ—আমরা বাংলাদেশি।”
মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক তহিরুল ইসলাম তুহিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দলটির নেতা আমিনুল হক, এমএ কাইয়ুম, এসএম জাহাঙ্গীর প্রমুখ।
ফখরুলের এ বক্তব্য সরকারের বিরুদ্ধে চাপ বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে। ধারণা করা যাচ্ছে চলমান এ ইস্যুতে ঈদের পর কঠোর অবস্থানে যেতে পারে দলটি। তবে রাজপথে ফেরার হুঁশিয়ারি বাস্তবায়নে বিএনপির জনসমর্থন ও সংগঠনিক শক্তি কতটুকু, তা এখনো অনুল্লেখ্য।
-191
নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
