ফ্রান্সে যথাযথ ভাবগাম্ভির্য ও বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হল জাতীয় শোক দিবস

ফ্রান্সে যথাযথ ভাবগাম্ভির্য ও বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হল জাতীয় শোক দিবস

ফ্রান্সে যথাযথ ভাবগাম্ভির্য ও বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হল জাতীয় শোক দিবস
ফ্রান্সে যথাযথ ভাবগাম্ভির্য ও বিনম্র শ্রদ্ধায় পালিত হল জাতীয় শোক দিবস

এন আই মাহমুদঃ যথাযথ ভাবগাম্ভির্য, শোক ও বিনম্র শ্রদ্ধায় ১৫ই আগস্ট প্যারিসস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পালিত হয়েছে জাতীয় শোক দিবস। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের শাহাদাত বরনকারী সদস্যদের স্মরণে ৪৭তম শাহাদত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবসে দূতাবাস প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন মান্যবর রাষ্ট্রদত জনাব খন্দকার এম. তালহা। ফ্রান্সে বসবাসরত বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতা-কর্মীবৃন্দ, সাংবাদিক, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেনী-পেশার মানুষ এবং তরুন প্রজন্মের বিপুল সংখ্যক প্রবাসী স্বত:স্ফুর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন।

শুরুতে রাষ্ট্রদূত দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপস্থিতিতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করে দিনের কর্মসূচী শুরু করেন। এরপর দূতাবাসের পক্ষ থেকে জাতির পিতার প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। শ্রদ্ধার্ঘ নিবেদন শেষে পবিত্র কোরআন হতে তর্জমা সহ তেলাওয়াত এবং অন্যান্য ধর্মগ্রন্থ থেকে বাণী পাঠ করে শোনানো হয় এবং ১৫ই আগস্টে নিহত সকল শহীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর দিবসটি উপলক্ষে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী এবং মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়।

এরপর দিবসের তাৎপর্য ও গুরুত্ব নিয়ে উপস্থিত অতিথিবৃন্দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা পর্ব। আলোচনা পর্বে বক্তাগণ বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিসংগ্রাম এবং বাঙালি জাতি গঠনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্ব ও অবদানের কথা তুলে ধরেন। বক্তাগণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সংঘটিত নিষ্ঠুর এ হত্যাকান্ডে বঙ্গবন্ধু এবং তাঁর পরিবারের আঠারো জন শাহাদাতবরণকারী সদস্যের রূহের মাগফেরাত কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত জনাব খন্দকার এম. তালহা আলোচনার সমাপনী বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর দূরদর্শী ও আপোষহীন নেতৃত্বে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন, বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিকাশ এবং বাঙালি জাতি গঠনে তাঁর অবদানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “একটি গর্বিত জাতি স্বতন্ত্র পরিচয়ে পৃথিবীর বুকে মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর যে দুর্লভ সম্মান বাঙালি পেয়েছে, তার জন্য সমগ্র জাতি বঙ্গবন্ধুর প্রতি চিরকৃতজ্ঞ- চিরঋণী। এ প্রসঙ্গে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের অভূতপূর্ব সাফল্যের নানা দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করার মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সংকল্প সমগ্র দেশবাসিকে উজ্জীবিত ও দেশের উন্নয়নে একতাবদ্ধ হয়ে কাজ করার অনুপ্রাণিত করেছে। এ প্রসঙ্গে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশকে একটি স্বল্পোন্নত দেশ হতে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়া এবং ২০৪১ সালের মধ্যে রুপকল্প -২০৪১ বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ তথা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ”সোনার বাংলা” গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত আরও বলেন যে, স্বাধীনতার পূর্ব হতেই বাঙালি ও বাংলাভাষার বিরুদ্ধে একটি বিশেষ কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্র করে এসেছে। একাত্তরের গণ হত্যা, বুদ্ধিজীবী নিধন,স্বাধীনতা উত্তর কালে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে দেশের পুনর্গঠনে বিঘ্ন সৃষ্টি এবং তাঁকে সপরিবারে ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট হত্যা করেই সে ঘাতকচক্র থেমে থাকেনি, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরে জেল হত্যা এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের পর বিভিন্ন সময়ে তাঁর প্রাণ নাশের সক্রিয় চেষ্টা চালিয়ে গেছে ঘাতকচক্র। ২১শে আগস্টের গ্রেনেড হামলাকে তার জ্বলন্ত উদাহরণ বলে উল্লেখ করে তিনি প্রবাসে অবস্থানরত সকল বাংলাদেশীকে দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে সোচ্চার থাকার আহবান জানান।

অনুষ্ঠানে জাতির পিতা এবং তাঁর পরিবারের সদস্যসহ ১৫ আগস্ট ১৯৭৫- শাহাদাৎবরণকারী সকলের রূহের মাগফেরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। উপস্থিত অতিথিদের জন্য বঙ্গবন্ধুর উপর নির্মিত দুইটি বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রবাসী বক্তাগণ তাদের বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও জনমানুষের জন্য ত্যাগ ও সংগ্রামের চেতনা ধারণ করে জাতীয় উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

 

 

 

 

নিউজের ©সর্বস্বত্ব নবকণ্ঠ কর্তৃক সংরক্ষিত। সম্পূর্ণ বা আংশিক কপি করা বেআইনী , নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.