আল্লামা ইকবাল এবং তৌহিদুর রহমানঃ কুড়িগ্রাম জেলার বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, বুদ্ধিজীবি, মুক্তিযোদ্ধা এবং যারা কুড়িগ্রাম জেলার উন্নয়ন নিয়ে ভাবেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাই। আমাদের কুড়িগ্রাম জেলার বৃহদায়তন সমস্যা ছিল। তার মধ্যে একটির সমাধান হয়েছে।
প্রথম সমস্যা ছিল তিস্তা সেতু। যে সেতু কুড়িগ্রাম-লামনিরহাট জেলার মানুষের স্বপ্ন ছিল। বর্তমান সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেই বড় সমস্যা দূর করেছেন সেতু উদ্বোধনেরর মধ্যে দিয়ে। যার ফলে এই জনপদের মানুষের ভাগ্যের চাকা সচল হয়েছে।
দ্বিতীয় বড় সমস্যা হচ্ছে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থা। যেটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে যাচ্ছে এই জনপদের মানুষ।
তৃতীয়টি হচ্ছে হাইওয়ে রোড। যেটি বর্তমানে কাঁঠালবাড়ি, বড়বাড়ি, মোস্তফি ও তিস্তা হয়ে রংপুর বিভাগের সাথে যোগ হয়ে রাজধানী ঢাকার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করেছে। এই হাইওয়ে দিয়ে কুড়িগ্রামে পৌছেতে সময় লাগে অনেক। অপর দিকে ব্যয়ও বেড়ে যায়।
বর্তমানে একটি নতুন সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তা হল ভুরুঙ্গামারী সোনাহাট স্থলবন্দর, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ি ও কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সকল ভারী যানবাহন কুড়িগ্রাম থেকে রাজারহাট উপজেলার সরু রাস্তা হয়ে তিস্তা হাইওয়ে রোড দিয়ে বিভিন্ন জেলা এবং ঢাকার সাথে যোগাযোগ করছে। এতে মানুষের যানমালের ঝুঁকির পরিমাণ বাড়ছে। অপর দিকে রাস্তার অবস্থা কম সময়ের মধ্যে চলাচল অনুপযোগি হয়ে পড়ছে। এতে সমস্যায় পড়ছে এই জনপদের স্কুল এবং কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীসহ সকল স্থরের মানুষ।
বর্তমান সরকারের আমলে দেখা যাচ্ছে, যেকোন সময়ে সাবেক বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক দল বি.এন.পির হরতাল, অবরোধসহ বিক্ষোভ সমাবেশ লেগেই আছে।
কিন্তু একটা বিষয় না বলেই নয়, কুড়িগ্রাম-ঢাকা হাইওয়ের মধ্যে বড়বাড়ি নামক এলাকায় সাবেক বিরোধিদলীয় নেত্রীর অত্যন্ত আস্থাভাজন সাবেক দূর্যোগ ও ত্রাণ উপমন্ত্রী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুর বাড়ি। তার দল বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কর্মসূচি দিয়ে থাকেন। সেই সময় তিনি রাজনৈতিক কর্মী দ্বারা রাস্তা বন্ধ করে রাস্তার মধ্যে বিভিন্ন ধরনের নিত্য নতুন কর্মসূচি দিয়ে থাকেন। সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য রাস্তার মধ্যে লেখাপড়া, ভাত রান্না, গাছের গুড়ি, তীর ধনুক নিয়ে বসে থাকা ইত্যাদি। এর ফলে ওই রাস্তা দিয়ে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়। এতে লালমনিরহাট জেলার থেকে কুড়িগ্রাম জেলার সাধারণ মানুষের ভোগান্তি পোয়াতে হয়।
আপনারা সকলেই জানেন যে সোনাহাট স্থলবন্দর হওয়ার পর বাংলাদেশের সকল জেলায় শত শত কয়লা বহনকারী ট্রাক এই রোড দিয়ে চলাচল করত। বর্তমানে অবরোধ থাকার কারণে রাজারহাট উপজেলার সরু রাস্তাটি হাইওয়েতে পরিণত হয়েছে। তাই এই সমস্যার সমাধান করতে হলে বিকল্প পন্থা বেছে নিতে হবে।
বিকল্প পন্থা হিসেবে সবাই রাজারহাট উপজেলাকে ব্যবহার করছে। কারণ কুড়িগ্রাম জেলার প্রবেশদ্বার বলা হয় রাজারহাট উপজেলাকে। তাই ভুরুঙ্গামারী, নাগেশ্বরী, ফুলবাড়ি এবং কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার সমস্ত যানবাহন রাজারহাট হয়ে তিস্তা দিয়ে হাইওয়েতে উঠে যাচ্ছে। শুধু তাই নয় চিলমারী এবং উলিপুরের সমস্ত যানবাহন এই রাস্তাটি ব্যবহার করছে। যদি এই প্রবেশদ্বারকে মিলন স্থল করা হয়। তাহলে সময়ের সাথে সাথে খরচ কমে যাবে। এতে করে লাভবান হবেন এই জনপদের সর্বস্থরের মানুষজন।
আমাদের কুড়িগ্রাম জেলার রাজনীতিবিদ ও কৃতি সন্তানদের অনুরোধ জানাব কিভাবে এর চেয়ে আরও ভাল ভাবে এই বড় সমস্যার সমাধান করা যায়। সেই সাথে আরও অনুরোধ জানাব মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী জনাব ওবায়দুল কাদেরকে। ইতিমধ্যেই সারা দেশে সফল মন্ত্রী হিসেবে সারা জাগিয়েছেন এবং জনগন তার প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছে। আমাদের কুড়িগ্রাম জেলার নিপীড়িত মানুষের কথা চিন্তা করে কুড়িগ্রাম-রাজারহাট হয়ে তিস্তা অভিমুখে এই সরু রাস্তাটি হাইওয়েতে রূপান্তরিত করার জন্য উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করবেন।

