আরিফকে ছাড়িয়ে আনতে সাবেক মেয়র কামরান!

sanaa d

মারুফ হাসান: সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী সাবেক অর্থমন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় কারাগারে। আজ তার মুক্তির দিন। আমরা তাকে স্বাগত জানাতে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের মেইন ফটকে অবস্থান নেই। সাথে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। সিটি কর্পোরেশনের কয়েকজন কাউন্সিলসহ শত শত বিএনপি নেতাকর্মীদের সাথে মিশে জেল গেইটে অপেক্ষা করছে ছাত্রলীগ। মনে হচ্ছিল সোনার বাংলায় রূপা দিয়ে গড়া আমাদের নেতা আজ বাহির আসবেন। কারাগারের প্রধান ফটকে সাবেক মেয়রকে দেখে অবাক জেল সুপার। চারিদিকে সাংবাদিকদের জটলা।

আজ মুক্তি পাচ্ছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। তাই জেল গেইটে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে সাবেক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান। দলীয়নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে জেলগেইটের সামনের রাস্তা ব্লক হয়ে পড়েছে। আপাতত যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। এমন একটি মুহুর্তে আমরা অতি আগ্রহ নিয়ে জেল গেইটের দিকে তাকিয়ে আছি।
অবশেষে বের হলেন সিটি মেয়র আরিফ। জেল গেইটে আরিফকে দেখে ফুলের মালা হাতে সাবেক মেয়র কামরান এগিয়ে গেলেন, সাথে শত শত নেতাকর্মী। মিডিয়া কর্মীদের ফ্লাশ লাইটের আলোতে মালা পরিয়ে আরিফকে উদ্দেশ্যে করে রসিকতার সুরে কামরান বললেন, যত বেশি কারাগারে আসবেন তত বেশি নেতাগীরি মজবুত হবে। কেমন ছিলেন? আরিফের সাবলিল উত্তর ‘ভালো’।

আরিফ সকলের উদ্দেশ্যে হাত উচু করে কুশল বিনিময় করলেন, কাউন্সিলরসহ নেতাকর্মীদের সালামের উত্তর ইশারায় নিয়ে নিলেন। আরো কিছু কথাবার্তা দুজনের মধ্যে হতে হতে আরিফ গাড়িতে উঠতে চাইলে কামরান বললেন, চলুন হেটেই যাই। কারণ শত শত নেতাকর্মীকেতো আমরা গাড়িতে করে নিয়ে যেতে পারবো না । ওরা সকাল থেকে আপনার জন্য এখানে অপেক্ষায় ছিলো।

আরিফ-কামরান গলাগলি করে সিটি কর্পোরেশনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। সিলেটের সাধারণ মানুষ এ দৃশ্য দেখার জন্য যেন যুগ যুগ ধরে অপেক্ষা করছিলো। আরিফ কামরানকে উদ্দেশ্য করে বললেন, আসলেই কঠিন অবস্থায় দেশ। কামরান হ্যা সুচক মাথা নাড়লেন। আরিফ বললেন, চলেন কিছু একটা করি। কি করতে চান পাল্টা প্রশ্ন কামরানের।

আমরা দুজন মিলে যাই, বললেন আরিফ। কামরান বললেন, আপনি কি শুধু আমার-আপনার মিলের কথা বলছেন নাকি দুটি দলের কথা বলছেন?
– দুটি দলের কথা বলছি, উত্তরে আরিফ।
– ধুর ভাই তাই কি সম্ভব।
– সম্ভব নয় কেন? আমরা রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের জন্য।
– আরিফ সাহেব আপনি সাইফুর রহমানের আমলে যদি এই প্রস্তাবটা দিতেন তাহলে চিন্তা করতাম। তখন আপনার ঠেলায় তো টেকাই মুশকিল ছিলো। সিলেটের মানুষ এখনো ভুলে নাই। অর্থমন্ত্রী সাইফুর রহমান ছিলো নাকি আপনি ছিলেন।
– আমি কি খারাপ কিছু করেছি? সিলেটের উন্নয়ন করি নাই? নিজে কি একলা খাইছি? সবাইরে ভাগ দেই নাই? আপনারা তো সবই জানেন।

এমন সময় চটাং করে আমার গালে একটা চড়! হারামজাদা, এমনিতেই হরতাল অবরোধে ব্যবসার বারোটা। তার উপর তুই ঘুমাইতেসছ। তরে বিষ খাওয়াইয়া মারা উচিত।
তাপ্পড় খাইয়া চোখে মুখে তারাবাত্তি দেখতে লাগছি। আমার মালিক আবুল মিয়া। চোট্ট চায়ের দোকান তার। হরতাল -অবরোধে মানুষ নাই, তাই ব্যবসাও নাই। অলস বইসা বইসা ঘুমাই পড়ছিলাম। আর আরিফ-কামরানের মিলনের দিবাস্বপ্ন দেখতেছিলাম আমি বেলাল পাটোয়ারী।

বড়দের জিগাই কি হইলো ভাই আমাগো দেশের । দুইটা ভাত কি ঠিক ভাবে খাইতেও পারুম না? আমরাতো কারো ভাড়া ভাতে ছাই দেই নাই। হেরা দুইজনই নেত্রী। দেশতো হেগো। আমরা কুত্তা-বিলাই যেইভাবে পালি। হেরা আমাগোরে ঐ ভাবে পালে। আর কতদিন । আর কতদিন এই ভাবে পালাখামু।
কেউ কোন উত্তর দেয় না। হয় এর উত্তর তাগো কাছে নাই। না হয় তারা জানে কইতে ভয় পায়। আমরা হইলাম নালায়েক মূর্খ দিনমজুর মানুষ। আমরা কেমনে বুঝুম দেশে কি হইতেছে।

ঘর থাইক্কা বাইরইতে পারি না। কেডা কখন ধইরা লইয়া জায়গা। কখন বোমা মাইরা দেয়। বাঁচনের বড় খায়েশ আমার। মরণের ভয়ে কুকড়াইয়া থাকি। অবরোধ আর হরতালে গরিবের যে কী অবস্থা আল্লাহ ছাড়া কেউ খবর রাখে না। অশান্তি আর অশান্তি… কই যাই …. কি করি।

মাইনসে কয় সরকারের মন্ত্রীগুলান পাগল হইছে কি কয় না কয় হেরাই বুঝে না। আবার কেউ কেউ কয় হেরা মানুষ মারে ক্যান, পুড়ায় ক্যান। গাড়ি জ্বালায় ক্যান, সন্ত্রাস ছড়ায় ক্যান। আমাগো মন্ত্রীরা কথা বললেই দোষ! তাই না? উত্তর নাই।

আবার শুনি আর্মি নামবো, বিজিবিতো নামছেই আর পুলিশ যা করবার করতেছে। দেশ ঠান্ডা হইবো। কেমনে হইবো? উত্তর নাই । আমাগো কারো কাছে উত্তর নাই। এই দেশে কেউ জন্মাবে শাসন করবার জন্য আর কেউ জন্মাবে শোষণ হবার জন্য।

আমার মালিক আবুল মিয়া তার ব্যবসা বন্ধ। তাই মাথা নষ্ট। কিভাবে টাকা আসবে সেই চিন্তায় সে অস্থির। তাই আমাকে লাত্থি-গোতা মাইরা রাগ মিটাইল। জানতে চাইলো না আমরা কেমনে খাইতেছি, চলতেছি। এই দেশের সরকার মাথা খারাপ তাই জানতেও চায় না আমরা কি চাই, কেমনে খাই!

আরিফ-কামরানরা কোনদিন মিলবো না। দেশের মানুষের ভাগ্য কোন দিন বদলাইবো না। আমরা এইভাবে দিবা স্বপ্ন দেইখা দেইখা বুড়া হইয়া যাইমু। মইরা যাইমু। ভাইগো আমার বাঁচনের বড় স্বাদ। কেমনে বাঁচুমগো ভাই কেমনে? বলতে পারবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.