[author ]সোহাইল আহমদ সুহেল (ফ্রান্স)[/author]
বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার ক বছর পূর্বে স্বাধীনতা অর্জনকারি একটি দ্বীপ রাষ্ট্র সিঙ্গাপুর। সুশাসন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে বিশ্বময় পরিচিত ও পরিগণিত। দেশটি ইউরোপ-আমেরিকার কোন দেশ বা অঙ্গরাজ্য নয়। এটি এশিয়ার মডেল রাষ্ট্র ও নগর রাষ্ট্রের উজ্জ্বল উদাহরণ বটে। সিঙ্গাপুরের সাফল্য গাঁথা ইতিহাস- ঐতিহ্যের সাথে সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠাতা সদ্য প্রয়াত লি কুয়ানের নাম অঙ্গাঅঙ্গিভাবে জড়িত।
১৯৬৫ সালের ৯ই আগস্টের পূর্ব পর্যন্ত সিঙ্গাপুর মালয়েশিয়ার ফেডারেল সরকার ছিল। ৯ ই আগস্ট লি কুয়ান ইউ
এর নেতৃত্বে সিঙ্গাপুর পূর্ণ স্বাধীনতা অর্জন করে। ১৯৯৫-১৯৯৭ সালে পর্যায়ক্রমে দু-দুবার সিঙ্গাপুর ভ্রমনের সুযোগ হয়েছিল আমার । সিঙ্গাপুর অবস্থানকালে ঘুরে বেড়ানোর সময় যে বিষয়টি ধরা পড়েছে বেশি তা হচ্ছে, ব্রিটিশ অবকাঠামোতে মোড়ানো সিঙ্গাপুর জেনো বিলেতের একটি বিশেষ অংশ। ঘর-বাড়ী, রাস্তা-ঘাট, মসজিদ-মন্দির, স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল , বাজার-বন্দর, সবই আছে আধুনিক স্থাপত্যের উপর দাড়িয়ে। ৫৬ বছর বয়সী টুণকু সিঙ্গাপুরে ভ্রমনের পূর্বে তার অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অর্জন, সুশাসন, ইতিহাস-ঐতিহ্য ও জীবন-যাপন সম্পর্কে তেমন ধারনা ছিল না।
ঘুরে ঘুরে বিষয় জানলাম, জ্ঞানের দরজা প্রসারিত হলো, সময় খুব বেশী ভালভাবে অতিক্রান্ত হয়েছিল। প্রথমবার আমার সফরসঙ্গী ছিল আমার বাল্য বন্ধু কাতার প্রবাসী আগর-আতর ব্যবসায়ী ফয়সল দ্বিতীয়বার ছিল আমার একমাত্র ছোট ভাই আগর-আতর ব্যবসায়ী জুয়েল আহমদ। দূজন ডজন বার সিঙ্গাপুরে ব্যবসা-বাণিজ্যের কারনে সিঙ্গাপুর ভ্রমন করেছেন। জানার রাজ্য তাদের ছিল অনেক প্রসারিত। তাই তাদের কাছ নিকট হতে ও অনেক ধারণা পেয়েছিলাম। সমুদ্রের পৃষ্ঠে দন্ডায়মান সিঙ্গাপুরের রয়েছে ৫৮ টি দ্বীপ।
ক্ষুদ্রাকার এই দ্বীপ গুলো সিঙ্গাপুরের সাথে একাকার হয়েছে আছে। দিনে ২-৩ বার বৃষ্টি হওয়াতে সুন্দর সিঙ্গাপুরের দৃশ্য আরো সুন্দর দেখায়। দেশ-বিদেশ হতে অজস্র পর্যটক সিঙ্গাপুর ভ্রমণে আসছেন। মধ্য প্রাচের দেশ সমূহ বিশেষ করে আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, সৌদিআরব, কুয়েত হতে আগর-আতর ব্যবসায়ী ও নামী-দামী কোম্পানি হরদম সিঙ্গাপুরের হোলসেল মার্কেটে ব্যবসা-বাণিজ্য করছেন। সিঙ্গাপুরের সামুদ্রিক বন্দর গুলো ব্যস্ত থাকে ওখানে জাহাজ, স্পীডবোট ইত্যাদি বেচা কেনা ও মেরামত করা হয়। সিঙ্গাপুরের ন্যাশনাল অর্কিড গার্ডেন, জুরং বার্ড পার্ক, ক্যাচো বম্ভ, আইল্যান্ড পোলাও, কাকুবূচী, মোসতফা প্লাজার নাম ডাক আলাদা রয়েছে। বহুল প্রচারিত ইংরেজি ভাষা সিঙ্গাপুরের সকলেই কম বেশী জানেন।
তাই সিঙ্গাপুরে বেড়াতে ভাষার কোন সমস্যা হয় না। সিঙ্গাপুরের লোকদের বৃহদাংশই বৌদ্ধ ধর্মে বিশ্বাসী। ইসলাম ও খৃষ্টান ধর্মের মানুষ ও অনেক আছেন। বিভিন্ন স্থানে মসজিদ মাদ্রাসা ও গির্জা রয়েছে। ১৮৬৭ সাল পর্যন্ত ঔপণবেশিক ব্রিটিশ ভারতেরই অংশ থাকায় সিঙ্গাপুরে কাল পরিক্রমায় বহু জাতী গোষ্ঠীর সমন্বয় হয়েছিল। বর্তমানে বিভিন্ন জাতী গোষ্ঠীর মানুষ কাঁধে কাঁধে মিলিয়ে সিঙ্গাপুরের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে অব্যাহত রাখছেন। টুনকু আব্দুর রাহমানের কাছ থেকে অসহায়ত্ব আড় বেদনায় কেঁদে কেঁদে যে সার্বভৌমত্বের পতাকা ৫৬ বছর আগে হাতে ধরেছিলেন লি কুয়াণ ইউ আজ তা এশিয়ার টাইগার রূপে দন্ডায়মান ও সাফল্যের প্রতিচ্ছবি। এক জীবন্ত উদাহরণ বটে।
সিঙ্গাপুর ভ্রমণের অসংখ্য অভিজ্ঞতার পেরেকে আমার প্রিয় জন্মভূমির কথা বার বার মনে পড়েছে। প্রায় সময় সীমায় আমরাও স্বাধীন হয়েছি। আজ আমাদের প্রতিচ্ছবি আর সাফল্য কোথায় আর সিঙ্গাপুর কোথায়। যেন আকাশ পাতাল তফাৎ। সিঙ্গাপুর ভ্রমণে অনেক ভাল সময় কাটিয়েছি। সিঙ্গাপুরের মতো আমাদের দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও সুশাসন প্রতিষ্ঠা হোক। এটাই একান্ত কামনা।

