
নিজস্ব প্রতিবেদক – ফেনী: কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত এবং সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপদ সড়ক আন্দলনে নেতৃত্ব দেওয়া ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইলেকট্রিকেল ও ইলেকট্রনিক্স ডিপার্টমেন্টের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরমান (২২) ও ফেনী সরকারী কলেজের বিবিএস ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভিরুল আলম (২০) সহ ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও ৩ শিক্ষার্থীকে আটক করেছে ফেনী মডেল থানা পুলিশ।
বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা শহীদ সালাম হলের ২০১ নাম্বার রুম থেকে একটি দেশীয় অস্ত্র ও বিপুল পরিমান মাদক দ্রব্য সহ তাদের কে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। আটক করা বাকী শিক্ষার্থীদের নাম মো: সাখাওয়াত (১৯),নাজমুল হাসান (২০) ও মোহাম্মদ সাকিব (১৯) এরাও সকলেও ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার ডিপামেন্টের শিক্ষার্থী ও কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত।
এদিকে মোহাম্মদ আরমান (২২) ও ফেনী সরকারী কলেজের বিবিএস বিভাগের শিক্ষার্থী তানভিরুল আলম (২০) কে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ফেনী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নেজাম উদ্দিন। ওসি বলেন, মোহাম্মদ আরমান ও তানভিরুল আলম সহ বাকী আটককৃতরা কোটা সংস্কার আন্দোলনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
কিন্তু এখন তো সে আন্দোলন নেই। এছারাও তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা আছে কি না, তা যাচাই করতে থানায় আনা হয়েছে। তবে যেহুতু তাদের কে অস্ত্র ও মাদক সহ আজ কে আমরা গ্্েরফতার করেছি তাই তাদের বিরুদ্ধে আমরা মাদক ও অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
এদিকে নাম প্রকাশ না করে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির একজন যুগ্ম আহ্বায়ক আমাদের প্রতিবেদককে বলেন, আরমান ও তানভীর,সাখাওয়াতরা কোটা সংস্কার আন্দোলন ও সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপদ সড়ক আন্দলনের সাথে সঙ্গে যুক্ত থাকায় ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের একটি পক্ষ তাঁদের কে মারধর করার জন্য পাহারা দেয়।
তবে সে সুযোগ না পেলেও পরে কৌশলে মাদক ও অস্ত্র সহ ছাত্রলীগের ওই পক্ষই পুলিশকে দিয়ে তাঁদের আটক করিয়েছে বলে অভিযোগ করেন এই নেতা। এদিকে আটককৃত ছাত্রনেতাদের পরিবারবর্গ বলছে,এটি ছাত্রলীগের পরিকল্পিত একটি চক্রান্ত।
পরিবারের সদস্যরা মামলা প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাদের মুক্তি দাবী করেন। এছারাও ফেনী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা আন্দলনের সাথে যুক্ত শিক্ষার্থীরা আটককৃতদের অবিলম্বে মুক্তির দাবী জানায় অণ্যথায় বৃহৎ আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে হুশিয়ারী দেন।
