প্রধানমন্ত্রী আসেন একটা বোনমেরু ট্রান্সপ্লান্ট সেন্টার বানাই

ফারহান কাইফ অহনঃ

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সালাম নিবেন। ভালবাসা রইল।
আপনি কেমন আছেন? আমি জানি আপনি ব্যস্ত, তাই সংক্ষেপে আপনাকে আমার কথাটা বলে ফেলি। আমাদের স্যাটেলাইট, সাবমেরিন,পারমানবিক কেন্দ্র, পদ্মা সেতুর মত হাজার কোটি, শত কোটি টাকার প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হতে দেখে, আমার সাহস করে আপনাকে বলতে ইচ্ছে হয়। প্রধানমন্ত্রী একটা ভাল মানের বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার বাংলাদেশে বানিয়ে ফেলুন না।

আপনি হয়ত জানে না, আমার বেচেঁ থাকার জন্য বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট এর বিকল্প নেই। প্রতিবছর আমার মত দেশের কত শত মানুষের বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রয়োজন হয়। কিন্তু আমাদের দেশে ভাল মানের বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টের সুবিধা নেই।
যাদের সুযোগ হয়, আর্থিক অবস্থা ভাল তারা ভারতে যায়। আমার অবশ্য ভাগ্য ভাল ।

আমি ভাগ্যবান সারাদেশ থেকে একদল মানুষ আমায় ভালোবেসে আমার চিকিৎসার জন্য টাকা সংগ্রহ করছে। হয়ত আগামী কয়েক মাসের মধ্যে আমার টাকা সংগ্রহ হয়ে যাবে। আমি চিকিৎসা করতে ভারত যাবো।

কিন্তু যারা আমার মত ভাগ্যবান নয়, তাদের মৃত্যুর বিকল্প নেই। হয়ত আপনার কলমের এক খোঁচাতে হয়ে যাবে একটা ভাল মানের বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টার। বেঁচে যাবে আমার মত হাজার হাজার অহন। আপনাকে বলতে ভুলে গেছি আমার এক চিঠির প্রেক্ষিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী খুলনায় রক্তের রেডসেল আলাদা করার নষ্ট মেশিনটি ঠিক করে দিয়েছেন। এখন আমার মত শিশুদের আর কষ্ট করতে হয় না।

আগে কত যে কষ্ট হত আমার আর আমার মায়ের। প্রতি মাসে যশোর কিংবা ঢাকায় যেতে হত। এরপর আমার সাহস আরো বেড়ে গেছে। মায়ের সাথে কথা বলে, সাহস করে আপনাকে চিঠিটা লিখে ফেলাম। আমি অহন বাঁচতে চাই, ডাক্তার যতই ভয় দেখাক। আমার নাকি মাস কয়েক সময় আছে, বড়জোর এ বছর। কিন্ত আমি স্বপ্ন দেখি, স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্ভোধনের সময় আমি আপনার সাথে থাকব। খুলনা থেকে তখন আর সারারাত জেগে ঢাকায় আসতে হবে না ডাক্তার দেখাতে।

প্রধানমন্ত্রী বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেন্টারটা খুলে ফেলেন না। প্লিজ। আপনি তো চাইলেই পারেন। বাবা বলেছিল, সবাই নাকি ভেবেছিল পদ্মাসেতু হবে না। অসম্ভব বিদেশী সাহায্য এত বড় সেতু হবেই না। আমি বাবাকে বলি, বাবা তোমাকে আমি পদ্মা সেতু দিয়ে ঢাকায় নিয়ে যাব।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কত টাকা দরকার একটা বোনম্যাররো ট্রান্সপ্ল্যান্টের সেন্টার বানাতে? আমার চিকিৎসার পর যত টাকা থাকবে আমি তা দিয়ে দিব। আমিও দেশবাসী থেকে টাকা সংগ্রহ করে দিব। হাজার হাজার ভাইয়া-আপুরা আমার সাথে আছে, প্লিজ প্রধানমন্ত্রী একটা উদ্যোগ নিন না। আমাদের তো কোন বিকল্প নেই বেঁচে থাকার বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট ছাড়া।

বলতে ভুলে গেছি আমার নাম অহন। থাকি খুলনায়। ক্লাস ফোরে পড়ি। আপনি ভাল থাকুন।
সুস্থ থাকুন। ভালবাসা রইল আপনার প্রতি।
ইতি-
অহন, খুলনা।

***************************************************************

দিনমজুর মোস্তাক হোসেনের একমাত্র সন্তান অহন। ৯ বছর ধরে দুরারোগ্য রোগে ভুগছে সে। একমাত্র ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে সহায়-সম্বল বিক্রি করে এখন অন্যের বাড়িতে থাকেন তারা। পড়ুয়া ছেলেটির চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা চায় অহনের পরিবার।

খুলনার দৌলতপুরের দেয়ানা গ্রামের মোস্তাক হোসেন-শিরোপা পারভিন দম্পতির সন্তান অহন। সাড়ে ৯ বছর বয়সী অহন পড়ালেখায় ভালো। কিন্তু ৫ মাস বয়সে থ্যালাসেমিয়া রোগ ধরা পড়ার পর এখন প্রতি মাসে ৩ থেকে ৪ বার রক্ত দিতে হয় তাকে। এজন্য খরচ হয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। অহনের কথা ফেসবুকে প্রচার হওয়ার পর থেকে প্রায় ১৩ লাখ টাকার মত সহযোগিতায় পেয়েছে তা পরিবার। তবে প্রয়োজন ৩৫ থেকে ৪০ লক্ষ টাকা।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা করাতে গিয়ে অহনের পরিবার জানতে পেরেছে, ভারতের ব্যাঙ্গালোরের হাসপাতালে বো’ন মেরো ট্রান্সপ্ল্যান্ট করলে সে সুস্থ হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু অনেক ব্যয়বহুল বলে তাদের পক্ষে তা সম্ভব নয়। অহনের চিকিৎসার জন্য সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি ও সংগঠন থেকে ফান্ড সংগ্রহ চলছে।

ভারতের বেঙ্গালুরুর হাসপাতালের চিকিৎসকদের পরামর্শ রয়েছে ১০ বছরে পা দেওয়ার আগেই অহনের এ কাজটি সম্পন্ন করার। এ জন্য লাগবে ৩৫ থেকে ৪০ লাখ টাকা। আগামী ৫ আগস্ট অহন ১০ বছরে পা দেবে। এ অবস্থায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন তার বাবা-মা। কামনা করছেন সহযোগিতা।

মারণব্যাধীতে আক্রান্ত অহন জানায়, রক্ত নেওয়ায় দেরি হলে শরীর দুর্বল লাগে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়, বুকে ব্যথা হয়, মাইগ্রেন সমস্যা বেড়ে যায়, চোখের সমস্যা প্রকট হয়ে ওঠে।

অহন আরও জানায়, পাশের ছেলেরা বল নিয়ে মাঠে খেলতে যায় কিন্তু আমি পারি না। খেলতে ইচ্ছা করে। ফেসবুক বন্ধুদের কাছ থেকে গত বছরের শেষে একটি কম্পিউটার ও একটি মোবাইল উপহার পায় সে। ঘরে এখন এগুলোই খেলার সঙ্গি।

কম্পিউটারে কাজ করে তিনটি সফটওয়্যার বানিয়েছে অহন। যা এন্ড্রয়েড মোবাইলে ব্যবহার করা যাচ্ছে। তার তৈরি সফটওয়্যার হচ্ছে অহনস ব্রাউজার, শুটিং গেম-১২০০ ও ফটোসপ-২।
অহন জানায়, কোনও সমস্যা দেখা দিলে সে বেঙ্গালুরুর চিকিৎসকের সঙ্গে ফেসবুক ও স্কাইপের মাধ্যমে যোগাযোগ করে।

অহন সুস্থ থাকার পাশাপাশি স্কুলে যেতে চায়। ভবিষ্যতে সে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে আগ্রহী। এখন ইন্টারনেটে সফটওয়্যারভিত্তিক বিভিন্ন সাইডের সহযোগিতায় কোডিং প্রোগ্রাম শিখছে।

অহনকে যাহায্য করতে অগ্রনী বাংক লিমিটেড গোয়ালপাড়া শাখা খুলনার অ্যাকাউন্ট নম্বর শিরপা পারভিন-০২০০০০৩২৪৪০৫৪ এবং প্রাইম ব্যাংক দৌলতপুর শাখা খুলনার হিসাব নম্বর মো. মোস্তাক হোসাইন বন্দ-২১৩২১০৬০০০৭১২৪ এই অ্যাকাউন্ট নাম্বারে টাকা পাঠানো যাবে। এছাড়া বিকাশ নম্বর হচ্ছে- ০১৯৫৫ ৮০৩৭২৮, ০১৭৯৭ ১৭০৩০৯, ০১৯৪৯ ২৩৬৯৩৭ ও ০১৯১৫ ৪২৫৫৯০ (সবগুলো পার্সোনাল একাউন্ট)। ডাচবাংলা মোবাইল ব্যাংকিং নম্বর-০১৭১৭ ৭১১৪৩৭২।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.