[author ]মনসুর হায়দার[/author]
মহান আল্লাহ পাক ইরশাদ করেন, ‘নিশ্চয়ই আমি বরকতময় রজনীতে পবিত্র কুরআন শরীফ নাযিল করেছি অর্থাৎ নাযিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’ নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র রজবুল হারাম মাসের চাঁদ দেখলে দোয়া করতেন- ইয়া বারে ইলাহী! আমাদেরকে পবিত্র রজববুল হারাম ও পবিত্র শা’বান শরীফ উভয় মাসের মধ্যে বরকত দান করুন এবং পবিত্র রামাদ্বান শরীফ পর্যন্ত পৌঁছার তাওফীক দান করুন।”
পবিত্র শা’বান শরীফ মাস হচ্ছেন মহান আল্লাহ পাকের নিকটবর্তী হওয়ার মাস। এ সম্মানিত মাসের মাঝে রয়েছে অনেক বরকতময় দিন ও রাত্রি। তাই প্রত্যেক দেশের সরকারসহ প্রতিটি মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে তাদের সবার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে- পবিত্র শা’বান শরীফ মাসকে তা’যীম-তাকরীম করে তার যথাযথ হক্ব আদায় করা এবং এখন থেকেই প্রস্তুতি গ্রহণ করা।
পবিত্র শা’বান শরীফ মাস অত্যন্ত ফযীলত, বরকত, নিয়ামত ও সাকীনাপূর্ণ মাস। পবিত্র হাদীছ শরীফে বর্ণিত রয়েছে, “নূরে মুজাসসাম, হাবীবুল্লাহ হুযূর পাক ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পবিত্র রজবুল হারাম মাসের চাঁদ দেখলে দোয়া করতেন- ইয়া বারে ইলাহী! আমাদেরকে পবিত্র রজবুল হারাম ও পবিত্র শা’বান শরীফ উভয় মাসের মধ্যে বরকত দান করুন এবং পবিত্র রামাদ্বান শরীফ পর্যন্ত পৌঁছার তাওফীক দান করুন।” এ পবিত্র হাদীছ শরীফ দ্বারা স্পষ্টই প্রমাণিত হয় যে, পবিত্র শা’বান শরীফ মাস অত্যন্ত বরকত, রহমত ও সাকীনাপূর্ণ মাস।
এ সম্মানিত মাসের ৫ তারিখে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছালিছ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন এবং তার লখতে জিগার, আওলাদে রসূল সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুর রবী’ মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হযরত যাইনুল আবিদীন আলাইহিস সালামও যমীনে তাশরীফ গ্রহণ করেন। আবার এই সম্মানিত মাস তার ১৫ তারিখে সাইয়্যিদুনা হযরত ইমামুছ ছানী মিন আহলি বাইতি রসূলিল্লাহি ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তিনি পবিত্র বিলাদত শরীফ গ্রহণ করেন। এই সম্মানিত ও পবিত্র শা’বান মাসের ২৯ তারিখে সাইয়্যিদাতাল উমাম, ত্বহিরা, তাইয়্যিবা, ফাছিহা হযরত শাহনাওয়াসীদ্বয় ক্বিবলাতাইন আলাইহিমাস সালাম এ যমীনের বুকে তাশরীফ গ্রহণ করেন। সুবহানাল্লাহ!
কিতাবে বর্ণিত রয়েছে, পবিত্র রজবুল হারাম হচ্ছে মহান আল্লাহ পাক তার দরজায় পৌঁছার মাস, পবিত্র শা’বান শরীফ মাস হচ্ছে মহান আল্লাহ পাকের নিকটবর্তী হওয়ার মাস। আর পবিত্র রমাদ্বান শরীফ মাস হচ্ছে মহান আল্লাহ পাকের সাথে মুলাক্বাত করার মাস। সুবহানাল্লাহ! আরো বর্ণিত রয়েছে যে, পবিত্র রজবুল হারাম মাস হচ্ছে বীজ বপন করার মাস। পবিত্র শা’বান শরীফ মাস হচ্ছে বীজে পানি দেয়ার মাস। আর পবিত্র রামাদ্বান মাস হচ্ছে ফসল কাটার মাস। অতএব, যে ব্যক্তি পবিত্র রজবুল হারাম মাসে ইবাদতের বীজ বপন করবে না এবং পবিত্র শা’বান শরীফ মাসে ইবাদত ও কান্নাকাটি করে সে বীজে পানি দিবে না সে পবিত্র রমাদ্বান শরীফ তার মধ্যে কি করে ফসল কাটার আশা করতে পারে? অতএব, প্রমাণিত হলো যে, পবিত্র শা’বান মাসের আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে। সুবহানাল্লাহ!
সুতরাং এ সম্মানিত মাস তার এই বিশেষ বিশেষ দিন ও রাতগুলোতে মহান আল্লাহ পাক উম্মতের জন্য অসীম রহমত, বরকত, সাকিনা নাযিল করে থাকেন। তাই সঠিক তারিখে পবিত্র শা’বান শরীফ মাস শুরু করে উল্লিখিত পবিত্র দিন ও রাতগুলোতে রহমত হাছিলের লক্ষ্যে প্রতি বছরই সকলের সচেষ্ট থাকা উচিত।
মূলকথা হলো- পবিত্র শা’বান শরীফ মাসের মাঝে রয়েছে অনেক বরকতময় দিন ও রাত্রি মুবারক। তাই প্রত্যেক দেশের সরকারসহ প্রতিটি মুসলমান পুরুষ-মহিলা, ছেলে-মেয়ে তাদের সবার জন্য দায়িত্ব ও কর্তব্য হচ্ছে, পবিত্র শা’বান শরীফ মাসকে তা’যীম-তাকরীম করে তার যথাযথ হক্ব আদায় করা।

