শোকাবহ ১৫ আগস্ট। ১৯৭৫ সালের এই কাল রাতেই বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান, স্বাধীন বাংলাদেশ রাষ্ট্রের স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ধানমন্ডির ৩২ নম্বর বাড়িতে।বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭১ সালে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) বিশাল জনসমূদ্রে বজ্রকণ্ঠে ভাষণে বলেছিলেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। কার্যত এই বক্তব্যের মধ্য দিয়েই তিনি স্বাধীনতার ডাক দেন। স্বাধীনতার সংগ্রামে প্রেরণাদায়ী তার সেই ভাষণ বিশ্বসেরা ভাষণগুলোর অন্যতম হিসেবে বিবেচিত। তার আহ্বানে স্বাধীন হয়েছে দেশ। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে, এই স্বাধীন বাংলাদেশেই কুচক্রীমহলের বুলেট নির্দয়ভাবে কেড়ে নিয়েছে তার প্রাণ। বাংলাদেশ এবং বাঙালি জাতির ইতিহাসে এটা কলঙ্কজনক একটা অধ্যায়।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্যমে ইতিহাস থমকে দাঁড়ায়। নদী হারায় স্রোত। বনের পাখিরা নিস্তব্ধ হয়ে আরো নির্জনে চলে যায়। এদিন ভোরের সূর্য আরো রক্তিম হয়ে ওঠে। রাখালের বাঁশির সুর লহরি হয়ে ওঠে আরো করুণ। আগস্ট মানেই জাতির দীর্ঘশ্বাস।দেশে না থাকায় সেদিন প্রাণে রক্ষা পান তার দুই মেয়ে শেখ হাসিনা এবং শেখ রেহানা। স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে সে সময় জার্মানির কার্লসরুইয়ে সন্তানসহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে। নিজের সৃষ্ট এই দেশে কোনো বাঙালি তার জীবনের জন্য হুমকি হতে পারে মনে করে বাড়তি নিরাপত্তার ধার ধারেননি বঙ্গবন্ধু। আর এ কারণেই রাষ্ট্রপতির বাসভবন ছেড়ে বসবাস করছেন ধানমন্ডির প্রিয় ৩২ নম্বর বাড়িতে।বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর স্বঘোষিত প্রেসিডেন্ট খন্দকার মোশতাক আহমদ বিচারের হাত থেকে খুনিদের রক্ষা করতে কুখ্যাত ইনডেমনিটি অর্ডিন্যান্স জারি করেন। পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান ১৯৭৯ সালে ইনডেমনিটিকে আইন হিসেবে অনুমোদন দেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি খুনিদের। ২০১০ সালের ২৮ জানুয়ারি ৫ আসামির ফাঁসির রায় কার্যকর করে জাতিকে কলঙ্ক মুক্ত করা হয়। শেখ মুজিবুর রহমান বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা, এই বাংলার আপামর জনসাধারণের নেতা । তার অবস্থান দলীয় গণ্ডি ও সকল বিতর্কের ঊর্ধ্বে। তিনি বাংলার মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার ডাকেই ঐক্যবদ্ধ বাঙালি জাতি দেশের স্বাধীনতার জন্য সশস্ত্র লড়াই করেছে, বহু ত্যাগ স্বীকার করে অর্জন করেছে স্বাধীনতা। আমরা পেয়েছি নিজেদের স্বাধীন পতাকা। বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে। আমরা স্বাধীন জাতি হিসেবে মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হয়েছি। আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন যে, শেখ মুজিবুর রহমান কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন, তিনি একটি প্রতিষ্ঠান। তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি, দলমত নির্বিশেষে তাকে বিবেচনা করতে হবে জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে। লেখক – ইউরোপ প্রবাসী

