সন্তানদের প্রতি নজর বাড়ান

(মাহবুবউদ্দিন চৌধুরী) লেখক ও সাংবাদিক-

জকাল  নিজের সন্তানই কথা শুনে না পরের সন্তানদের কথা বchildrenলে লাভ কি? শিক্ষিত তরুণ বা যুব সমাজকে নিয়ে  আজ বড় ভয় হয়। সন্ত্রাসী কর্মকান্ডে তাদের অংশগ্রহন সত্যি দু:খজনক। গুলশানের ঘটনা আমাদেরকে আতংকিত কওে তুুলছে। দেশে আজ সু-সন্তানইদের বড়ই অভাব। সন্তান বা ছেলে মেয়েরা যদি পিতা মাতার কথা না শুনে তাহলে সে পরিবারে যে অশান্তি হয়  তা ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।

তারপরও চেষ্টা করতে হয় সন্তানদের যতটুকু সম্ভব সুশিক্ষা দিয়ে মানুষের মত মানুষ তৈরী করা। কিন্তু দুঃখের  বিষয় এই ইন্টারনেট-মোবাইলের যুগে ছেলে-মেয়েরা অহরহ ঘরে বাহিরে নষ্ট বা বিপথে যেতে বাধ্য হচ্ছে। তাদের নেই কোন বিনোদন ও খেলাধুলার সুযোগ সুবিধা। তারপর আগের মত পিতা মাতারাও সন্তানদেরকে সময় দিতে পারে না । আর ছেলে মেয়েরাও কোন কিছু জানার থাকলে পিতা মাতা নয়, ইন্টারনেটে সার্চ করে উল্টো পাটা  জানাকে  গুরুত্ব  দিয়ে থাকে। তথ্য প্রযুক্তির যুগে ইন্টারনেট-মোবাইল অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারলেও বেশীরভাগ ক্ষেত্রে কমলমতি শিশু-কিশোর ও তরুনদের বিপথে নেয়নি একথা বলা দুস্কর। কারন ফেইসবুক বা মোবাইলের মাধ্যমে এক অজানা-অচেনা  তরুন-তরুনী বা ছাত্র-ছাত্রী কত কাছাকাছি বা আপন হয়ে যায় যেখানে নেই কোন বংশ পরিচয় ও ধর্ম। এতে অনেক পরিবার ধ্বংশ ও বিপদ নেমে আসে যা পরবর্তী উত্তরণের কোন পথ থাকে না। এ ক্ষেত্রে  অনেক সময় হতাশ, প্রতারণা, ব্যর্থতা ও রাগ, ক্ষোভে  অনেক সময় ছেলে মেয়েরা মাদক নেশায় আসক্ত হয়ে পরে । বলা বাহুল্য  এ সময় পরিবারটিতে কোন শান্তি  থাকতে পারে, মোটেও নয়। প্রযুক্তির নোংরা শিকারে আবদ্ধে আজ বহু  পরিবার এমন কি গোটা দেশের ছেলে-মেয়ে, ছাত্র-ছাত্রী ও তরুন-তরুনীরা বিপথে পাড়ি দিয়েছে তাতে কোন সনেন্দ নেই
এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, কম্পিউটার, ইন্টারনেট বা মোবাইল ফোন  একদিকে  মানুষের  জীবনকে যত সহজ করেছে তার থেকে বেশী ক্ষতি করছে ছেলে মেয়ে ও তরুন সমাজকে। রাজধানীসহ সারাদেেশ  সাইবার অপরাধীদের  দৌরাতেœ যে হারে নারী নির্যাতন শুধু নয় ঘরে তালাক বা ডিভোর্স দেওয়ার প্রথা প্রকট আকারে বৃদ্ধি পেয়েছে  সে কথা সরকার একবার ভেবে দেখবেন কি?। যেমন ফেসবুক অশ্লীল ভাষায় চ্যাট করা, ই-মেইলে হুমকি ও প্রতারণা করা, বিভিণœ সময় আজে বাজে লেখা পাঠানো, মিথ্যা কমেন্টস্ করার মাধ্যমে অতি সহজে ছেলে মেয়েরা  দ্রুত প্রতারক বা চিটারদের খপ্পরে  পরে যায়।

এছাড়া মোবাইল  ফোনে  মিস-কল দিয়ে বিরক্ত করা, অপরিচিত নম্বরে ফোন করে প্রেমের অভিনয় করা, আজে বাজে মেসেজ পাঠানোসহ নানাভাবে বিরক্ত বা উত্যক্ত করা হচ্ছে ছেলে-মেয়ে, ছাত্র-ছাত্রী ও তরুন তরুনীদের। সমাজ ও দেশে প্রযুক্তির  এই নোংরা শিকারে অনেক যুব সমাজ আজ ক্রাইমের পথে ধাবিত  হচ্ছে। এতে পিতা মাতা ও অভিভাবকরা চিন্তিত, উদ্বিগ্ন ও আতংকিত। তাই   আসুন সন্তানদের প্রতি একটু সময় দিতে চেষ্টা করি। তাদের অভাব অভিযোগগুলো শুনে কায়দা করে তার প্রতি সমবেদনা প্রকাশ ও মাঝে মাঝে রাতের বেলায়  তাদের লেখাপড়ার নামে কর্মকান্ডগুলো   অনুসরন করি, মোবাইল ও কম্পিউটারে তাদের ব্যবহারকে ধীরে ধীরে কমাতে চেষ্টা করি, ছেলে মেয়েরা রাতের বেলা ঠিক মত ঘুমাতে যায় কিনা বা ্তাদের ঘুম ঠিক হয় কি না বা ঘুম ঠিক মত না হলে অন্যের  পরামর্শে ছেলে মেয়েরা যেন ঘুমের ট্যাবলেট বা পরবর্তীতে নেশা বা মাদকে আসক্ত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখার কোন বিকল্প নেই। মোট কথা ছেলে মেয়েরা যেন বিপথে না যায় এবং তাদের  দুঃখ কষ্টের প্রতি পিতা মাতাকে সহানুভূতি প্রকাশ করে সবকিছু  শেয়ার করতে হবে। বন্ধু হওয়ার মধ্য দিয়ে শাসন করুন, যে শাসন হবে মধুর ও চমৎকার। সন্তানদের প্রতি সারাক্ষুন নজর দেওয়ার মধ্য দিয়ে গড়ে তুলুন সু-সন্তান।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *