মোহাম্মদ মাহবুব হোসাইন –

বিএনপি নেতা শহীদ সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অপহৃত পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে দীর্ঘ সাত মাস পর ভয়ানক অসুস্থ অবস্থায় মধ্য রাতে বাসার কাছে রেখে যাওয়া নিয়ে দেশময় নানা গুঞ্জন চলছে। তবে তাকে ফিরে পেয়ে তাঁর পরিবার অনেক খুশী । খুশির পাশাপাশি তারা তাঁর শাররীক অবস্থা নিয়ে অনেক উদ্বিগ্ন । তাকে ফিরে পাওয়াতে দেশের মানুষও স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। তাকে ফিরিয়ে দেওয়া নিয়ে দেশের মানুষের নানা মন্তব্যের আলোকে আমার মতামতঃ
এক.
দেশের মানুষ সকলেই অবগত আছে, প্রতিপক্ষ রাজনৈতিক দলকে র্নিমূল করার নব কৌশল হিসেবে করা কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলা শুরুর পর থেকে র্বতমান সরকারের প্রতিহিংসার শিকার যে সকল রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ হয়েছে; তাদের মধ্যে অবিভক্ত পাকিস্তানের স্পিকার জাতীয় নেতা শহীদ ফজলুল কাদের চৌধুরীর জৈষ্ঠ পুত্র বাংলাদেশের রাজনীতিতে একজন অতি পরিচিত মুখ বিশিষ্ট পার্লামেন্টারিয়েন বাংলাদেশ জাতিয়তাবাদী দল বিএনপির স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য সাবেক মন্ত্রী জননেতা শহীদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী অন্যতম।
বিচারের নামে মিথ্যা স্বাক্ষীর ভিত্তিতে যখন তাঁর বিচারের নাটক চলছিল, তখন এই মামলার বিষয়ে তাঁর স্ত্রী ফাররাত কাদের চৌধুরীর সাথে তাঁর জৈষ্ঠ পুত্র হুম্মাম কাদের চৌধুরীও দেখাশোনা করতেন। সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর অন্যায় ফাঁসি কার্যকর করার পর হুম্মাম কাদের চৌধুরী পিতার মতো জ্বলে ওঠাকে সরকার সহ্য করতে না পেরে তাকে আদালত পাড়া থেকে প্রকাশ্য দিবালোকে ডিবির পরিচয়ে সাদাপোষাকের লোকজন ধরে নিয়ে যায়। এর পর থেকে তাঁর আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিলনা। এ বিষয়ে কিছুই জানেনা বলে বিভিন্ন সময় সরকারের দায়িত্বশীল পর্যায় থেকে বলা হয়েছে । আর্ন্তজাতিক মহল এ ব্যাপারে সরকারকে চাপ সৃষ্টি করে আসছিল । র্সবশেষ সম্প্রতি জাতিসংঘ এর পক্ষ থেকে তিন বরেণ্য ব্যাক্তির অপহৃত তিন সন্তান এর অবস্থান সম্পর্কে জানার জন্য আহ্বানের পর পরই অপহৃত হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে মধ্য রাতে ফিরিয়ে দেওয়া হলো হাড্ডিসার দেহে।
দুই.
কথিত যুদ্ধাপরাধ মামলায় গ্রেফতারকৃত এবং পরবর্তীতে বিচারের নামে ফাঁসির মাধ্যমে হত্যার শিকার প্রতিটি রাজনৈতিক নেতার বাড়ীতে শুরু থেকে আজ অব্দি সরকার বেশী মাত্রায় গোয়েন্দা নজরে রেখে আসছে। সেই নজরদারি ফাঁকি দিয়ে ধানমন্ডির মতো একটা অভিজাত স্পর্শকাতর এলাকায় ঢুকে শহীদ সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যাক্তির বাসার আসপাশে অজ্ঞাত বাহিনী বিশ্বব্যাপী আলোচিত অপহরনের শিকার হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে রেখে যেতে পারে তা কতটুকু গ্রহনযোগ্যতা পায়।
তিন.
সর্বশেষ ছবিতে ফিরিয়ে দেওয়া হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে যা দেখলাম এবং পারিবারিক সুত্র থেকে এ পর্যন্ত যা জানা গেলো তাতে বুঝা যায় অপহরনের পর থেকে তাঁর উপর অমানুষিক র্নিমম র্নিযাতন করা হয়েছে। অভিজ্ঞ মহল ধারনা করছে তার শরীরে শ্লো পয়জনিং করা হয়েছে । যে কারনে সে অনেক কিছুই মনে করতে পারছেনা। যা করা হয়েছিল বি এন পি এর অপর কেন্দ্রীয় নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ এর উপর।
চার.
ফিরিয়ে দেওয়া হুম্মাম কাদের চৌধুরীর শরীরের যে অবস্থা; তা ঝুকিপূর্ন । এ মূর্হুতে কাল বিলম্ব না করে হুম্মাম কাদের চৌধুরীকে অতি দ্রুত দেশের বাইরে নিয়ে উন্নত চিকিৎসা করার বিকল্প নাই। অভিজ্ঞ জনদের মতে, তানাহলে হুম্মাম কাদের চৌধুরর বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায়না।
পাঁচ.
বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এর শাসনামলে গুম কিংবা অপহরনের ইতিহাস নতুন কিছু না। স্বাধীন বাংলাদেশের উষালগ্নে প্রখ্যাত চলচিত্র র্নিমাতা জহির রায়হান কে গুমের মধ্য দিয়ে শুরু এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা । এর পর থেকে আওয়ামী দুঃশাসনে হত্যা,গুম ও অপহরনের দীর্ঘ ইতিহাস । তবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের পরিবারের সদস্যদের গুম কিংবা অপহরনের ঘটনা এবার নতুন মাত্রা যোগ করেছে । এর মূল কারন হিসেবে অভিজ্ঞ মহল মনে করে, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে করে ভবিষ্যতে সময়ের পরিবর্তনের সাথে সাথে ঘুরে দাঁড়াতে না পারে। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের দুজন র্শীষ জাতীয় নেতার দুই পুত্রের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। দেশবাসী মনে করে হুম্মাম কাদের চৌধুরীর মতো তাদেরকে সরকার ফেরৎ দেবে। এছাড়া ইলিয়াছ আলী সহ সরকার কতৃক গুম কিংবা অপহরনের শিকার বিরোধী দলের সকল নেতা কর্মীদের সরকার ফিরিয়ে দেবে বলে দেশের মানুষ আশা করে।
ছয়.
যেহেতু রাস্ট্র শক্তি অপহরন কিংবা গুমের সাথে যুক্ত ;সেহেতু ফিরিয়ে দেওয়া হুম্মাম কাদের চৌধুরী আবারও গুমের শিকার হতে পারেন বলে অভিজ্ঞ মহলের আশংকা। যখন হুম্মাম কাদের চৌধুরী গুমের বিষয়ে মুখ খোলা শুরু করবেন, তখন রাস্ট্র শক্তি তাদের অপকর্ম আড়াল করার জন্য নতুন কৌশলে তাকে পুনরায় গুমের পায়তারা করতে পারে। পর্যবেক্ষক মহল মনে করে এখনই পরিবারের উচিত হবে হুম্মাম কে জাতিসংঘের হেফাজতে নেওয়ার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহন করা।
লেখকঃ সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী ।

